নাটোরে হঠ্যৎ ডায়রিয়ার প্রকোপ, হাসপাতালে প্রায় দেড়শো রোগী

নাটোর প্রতিনিধি:
নাটোরে হঠাৎ করে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এতে একদিনে প্রায় দেড়শো ডায়রিয়া রোগী নাটোর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রোগিদের মধ্যে শিশু ও নারী-৬৮ জন, ৭৯ জন পুরুষ ও বয়স্ক ব্যক্তিরা রয়েছে। বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর পর্যন্ত ১৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। বর্তমানে ১২৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে দূষণ পানি থেকে ডায়রিয়া রোগ ছড়িয়েছে বলে মনে করবেন স্বাস্থ্য বিভাগ।
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। এ খবর পেয়ে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেন, জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন। এসময় সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ মুক্তাদির আরেফিন, সদরের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডাক্তার মাহবুব হোসেনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসক রোগীদের শারীরিক খোঁজ-খবর নেন।
অপরদিকে এঘটনায় ডা. রবিউল আওয়ালকে প্রধান করে (মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ) ৫ সদস্য মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্যরা হলেন, ডা. আবু সাইদ, ডা. সোহরাব হোসেন, ডা.নাজমা খাতুন, ডা.শ্রাবন্তি।
স্বাস্থ্য বিভাগ ও রোগীর স্বজনরা জানান, মঙ্গলবার রাতে শহরের ঝাউতলা,কাঠালবাড়িয়া, উলুপুরসহ ও আশপাশের কয়েকটি এলাকার কয়েকজন ব্যক্তির পেটে ব্যথা ও পাতলা পায়খানার উপসর্গ দেখা দেয়। তাৎক্ষণিকভাবে রাতেই ওই এলাকার ৩০-৩৫ জন রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত হাসপাতালে ডায়রিয়ায় ৬৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এবং বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১৪৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। যার মধ্য পুরুষ ৬৬, মহিলা ৫৫ এবং শিশু ২৬ জন রয়েছে। এরই মধ্য কিছু রোগী সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। হাসপাতালে ১২৮ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন।
স্থানীয় পৌরসভার বাসিন্দা বলছেন, শহরের ঝাউতলা, উলুপুর, আদর্শ গুচ্ছগ্রাম, উত্তর চৌকিরপাড়সহ এসব এলাকা ঘনবসতিপূর্ণ এবং অনেক স্থান নিচু, ড্রেনেজ ব্যবস্থাও নাজুক। ড্রেনের সঙ্গে আবার যুক্ত হয়েছে অনেক বাড়ির পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা। প্রতি বর্ষাতেই এসব এলাকায় বাড়ে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব।
নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডাক্তার মাহবুব হোসেন বলেন, ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাবের কারণ খোঁজা ও সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ নেয়াসহ পানি ফুটিয়ে খাওয়ার পরামর্শও দেয়া হচ্ছে। এছাড়া ডায়রিয়ার প্রকোপ কমাতে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণও করছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
এদিকে, বুধবার পৌর কর্তৃপক্ষ সাপ্লাই পানি সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্য বগুড়া প্রেরণ করেছেন। এছাড়া মঙ্গলবার রাতে পৌরসভা থেকে ৩শ স্যালাইন বিতরণ করা হয়। এর বাইরে অতিরিক্ত প্রায় তিন হাজার সেলাইন সংগ্রহে রাখা হয়েছে এবং ২০ হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ টেবল্যাট বিতরণ করা হবে।
নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ মুক্তাদির আরেফিন বলেন, শহরের ঝাউতলা এলাকার কিছু ডায়রিয়া রোগী শনাক্ত হয়েছে। রোগীরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ৬৫ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়। এরপর দুপুর ১২ টা পর্যন্ত মোট ১৪৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়। এর মধ্যে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করছি, দূষিত পানি থেকে এ ডায়রিয়া রোগ ছড়িয়েছে। আজকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সরবরাহ করা হবে। হাসপাতালে আমাদের পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ রয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকরা চিকিৎসাসেবা প্রদান করছেন।