শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

রাকসু নির্বাচন পিছাতে পারে, প্রতিবাদে বিক্ষোভ, তিন দিনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ১৬৮

WP Import ২৬ আগস্ট ২০২৫ ০৮:২৯ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
WP Import ২৬ আগস্ট ২০২৫ ০৮:২৯ অপরাহ্ন
রাকসু নির্বাচন পিছাতে পারে, প্রতিবাদে বিক্ষোভ, তিন দিনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ১৬৮
রাকসু নির্বাচন পিছাতে পারে, প্রতিবাদে বিক্ষোভ, তিন দিনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ১৬৮

রাবি প্রতিবেদক:


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বিতরণের সময়সীমা পাঁচ দিন বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে নির্বাচনের তারিখও পিছিয়ে যাবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে রাকসু কোষাধক্ষ্যের কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক আব্দুল হান্নান, অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন, অধ্যাপক পারভেজ আজহারুল হক, অধ্যাপক আমিনুল হক ও প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক সেতাউর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, আজ মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) নির্বাচন কমিশনের জরুরি সভায় তিনটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথমত-ভোটকেন্দ্র আবাসিক হল থেকে একাডেমিক ভবনে স্থানান্তর করা হবে। দ্বিতীয়ত-ভোটার তালিকা ছবিসহ প্রস্তুত করা হবে। তৃতীয়ত-মনোনয়নপত্র বিতরণের সময়সীমা আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের সভা এখনো চলছে। নির্বাচনের তারিখও পরিবর্তন করা হতে পারে। তবে, এবিষয়ে পরে জানানো হবে।
তারিখ পেছানোর কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার পরিবর্তন, ভোটকেন্দ্র স্থানান্তরের দাবি, নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং প্রার্থীদের ডোপ টেস্টের মতো বিষয়গুলো তফসিলকে কিছুটা ব্যাহত করেছে। ডোপ টেস্টের কাজও এক-দুই দিনে সম্ভব নয়।

এর আগে গত ২৮ জুলাই রাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে কমিশন। সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী ২৬ আগস্ট পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বিতরণের কথা থাকলেও সময় বাড়ানোয় এখন ৩১ আগস্ট পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ফরম তুলতে পারবেন।

এদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বিতরণের সময়সীমা বাড়ানোর প্রতিবাদে এবং পূর্বনির্ধারিত ১৫ সেপ্টেম্বরেই নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাকসুর কোষাধ্যক্ষ ভবনের সামনে এ বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিন করে ছাত্রশিবির, সাবেক সমন্বয়ক, ছাত্রপক্ষ, রাবি রেনেসাঁ ও কিছু সাধারণ শিক্ষার্থী।

বিক্ষোভ সমাবেশে ‘রাকসু আমার অধিকার, না দিলে তুই স্বৈরাচার’, ‘অবৈধ সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দাও গুড়িয়ে দাও’, ‘রাকসু নিয়ে তালবাহানা, চলবে না চলবে না’, ‘১ দফা ১ দাবি ১৫ তারিখ রাকসু দিবি’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা। এসময় শিক্ষার্থীরা নির্বাচন কমিশনকে হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা বন্ধ না করা হয়, তাহলে পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হবে।
বিক্ষোভ সমাবেশে এজিএস পদপ্রার্থী শাহপরান লিখন বলেন, বিগত সময়ে ফ্যাসিস্ট সরকার যেভাবে একটি সংগঠনকে সুবিধা দিতে নির্বাচন পিছিয়েছে, বর্তমানেও তারই পুনরাবৃত্তি ঘটছে। প্রশাসনের কাছে আমরা এটা আশা করি না, কিন্তু তারা একটি দলকে সুবিধা দেওয়ার জন্য রাকসু নির্বাচনকে বানচাল করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে যা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক ও নিন্দনীয়।

সাবেক সমন্বয়ক তাসিন খান বলেন, নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করার জন্য যদি প্রশাসনের কিছু সময় প্রয়োজন হয়, তাহলে আমাদের সামনে একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ উপস্থাপন করা হোক। কিন্তু কোনো রোডম্যাপ না দিয়েই যদি নির্বাচনকে বানচাল করার চেষ্টা করে, তাহলে আমরা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবো।

রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, আজকে শেষ সময়ে এসে কোনো একটা দলকে বা কোনো একটা গোষ্ঠীকে সুযোগ সুবিধা দেওয়া জন্য তারা অযৌক্তিকভাবে পাঁচ ছয় দিন বাড়ালো। এটা একেবারে অযৌক্তিক হয়েছে। আমরা ওনাদের সঙ্গে কথা বলেছি, নির্বাচন সঠিক সময়ে বাস্তবায়ন করতে হবে। এইভাবে যদি পেছাতে থাকে, তাহলে শেষ পর্যন্ত যথাসময়ে নির্বাচন হবে না। এটা নিশ্চয় কোনো একদল গোষ্ঠীর স্বার্থকে সুবিধা দেওয়া জন্য করা হয়েছে। এটা সবাই বুঝতে পারছে। এজন্য আমরা ছাত্রশিবিরসহ অন্যান্য ছাত্র সংগঠন মিলে সঠিক সময়ে নির্বাচন বাস্তবায়নের চেষ্টা করবো।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিকেলে রাকসু নির্বাচনের মনোনয়নপত্র উত্তোলনের সময়সীমা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এরপরই বিভিন্ন মহল থেকে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। পরবর্তীতে পুনর্বিন্যস্ত সম্পূর্ণ তফসিল ঘোষণা করা হবে।

অন্যদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের তৃতীয় দিনের মতো মনোনয়ন পত্র বিতরণ শেষে বিভিন্ন পদে ১৬৮ জন মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন। এখনও বড় দুই ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতারা মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেননি। সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধির ৫টি পদে ১৯ জন মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তার দফতর থেকে এসব তথ্য জানা যায়। ১৬৮ জনের মধ্যে ভিপি পদে ৭ জন, জিএস পদে ৫ জন, এজিএস পদে ৭ জন, ক্রীড়া ও খেলাধুলা সম্পাদক পদে ৫ জন, সহকারী ক্রীড়া ও খেলাধুলা সম্পাদক পদে ৩ জন, মিডিয়া ও প্রচার সম্পাদক পদে ৩ জন, সহ-মিডিয়া ও প্রচার সম্পাদক পদে ৪ জন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ৪ জন, সহকারী মহিলা বিষয়ক সম্পাদক পদে ৩ জন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ৩ জন,

সহকারী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক পদে ৫ জন মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন। এছাড়া বিতর্ক ও সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক পদে ২ জন, সহকারী বিতর্ক ও সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক পদে ৫ জন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক পদে ৭ জন, সহকারী তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক পদে ৫ জন, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক পদে ৪ জন, সহকারী সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক পদে ২ জন, পরিবেশ ও সমাজ কল্যান বিষয়ক সম্পাদক পদে ৭ জন এবং সহকারী পরিবেশ ও সমাজ কল্যান বিষয়ক সম্পাদক পদে ৯ জন মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন। এ ছাড়াও কার্যনির্বাহী সদস্য পদে ৩১ জন মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন।