শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

বরখাস্ত হওয়া এসআইকে পিটিয়ে পুলিশে সোপর্দ

WP Import ২৪ আগস্ট ২০২৫ ০৯:৩৩ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
WP Import ২৪ আগস্ট ২০২৫ ০৯:৩৩ অপরাহ্ন
বরখাস্ত হওয়া এসআইকে পিটিয়ে পুলিশে সোপর্দ
বরখাস্ত হওয়া এসআইকে পিটিয়ে পুলিশে সোপর্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহীতে বরখাস্ত হওয়া পুলিশের এক উপপরিদর্শককে (এসআই) পেটানোর পর পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। এই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে নিরীহ মানুষকে হয়রানি ও ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের বহু অভিযোগ আছে। এছাড়াও মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
শনিবার (২৩ আগস্ট) দিবাগত রাত ১১টার দিকে নগরের হজোর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পিটুনির শিকার সাবেক এই এসআইয়ের নাম মাহবুব হাসান (৩৫)। গণপিটুনির ফলে হাসান রক্তাক্ত হয়েছেন। তার মাথায় জখম দেখা গেছে।

রাতে তাকে পুলিশে তুলে দেওয়ার সময় সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগরীর সাংগঠনিক সেক্রেটারি জসিম উদ্দিন সরকার ও ছাত্রশিবিরের মহানগরের সাবেক সভাপতি খাইরুল ইসলাম। জসিম উদ্দিন উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন।

তিনি বলেন, ‘এই সেই হাসান, যে মানুষকে কখনও গাঁজা, কখনও হেরোইন, কখনও ইয়াবা দিয়ে মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠাত। আমার সামনে সাক্ষী সোহাগ আছে, এই সোহাগকে মারতে মারতে উলঙ্গ করে মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছে। আমাদের রাতুলকেও মেরে আহত করে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে। ৫ তারিখের পরে মানুষের কথা বলার সুযোগ হয়েছে, কথা বলছে। এই অপরাধী ঘাপটি মেরে এই শহরে অবস্থান করছিল।’

তিনি বলেন, ‘এই হাসান অসংখ্য বিএনপি জামায়াতের নেতাকর্মীকে হত্যার আসামি। আমাদের আফসোস লাগে, ধিক্কার জানাই ওই ব্যবস্থাপনাকে যারা দেখার পরেও হাসানকে গ্রেফতার করছিল না। বিএনপি-জামায়াত এবং সাধারণ মানুষ থানায় গিয়ে এবং তার বাড়িতে গিয়ে জনতা তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাকে আগামী দিনে আদালতের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।’

হাসান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। ২০১৩ সালে এসআই নিয়োগে তার চাকরি হয়। প্রশিক্ষণ শেষে তিনি রাজশাহী নগরের মতিহার থানায় ছিলেন। পরে ২০১৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) যোগদান করেন। চাকরিজীবনের শুরু থেকেই অত্যন্ত বেপরোয়া ছিলেন তিনি। তার বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ রয়েছে।

রাজশাহীর গৌরহাঙ্গা এলাকার রাজিব আলী রাতুল ছিলেন এমন এক ভুক্তভোগী। তাকেও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ আছে। হাসিনা সরকারের পতনের পর রাতুলের বাবা মাসুদ রানা এই হাসানের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এজাহারে বলা হয়, ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর তৎকালীন এসআই মাহবুব হাসান সাদা পোশাকে মাসুদ রানার বাড়িতে গিয়ে তার ছেলে রাজীব আলীর মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে তাকে শিমলা বাগানে তুলে নিয়ে যান। এরপর মাসুদ রানাকে ফোন করে জানানো হয়- তাৎক্ষণিকভাবে পাঁচ লাখ টাকা না দিলে রাজীবকে ক্রসফায়ারে দেওয়া হবে। টাকা নিয়ে শিমলা বাগানে ছুটে গেলে মাসুদ রানাকে ওই টাকাই হাসানের হাতে তুলে দিতে হয়।

এ সময় হাসান আশ্বাস দেন, রাজীবকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে। কিন্তু পরদিন তাকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। এ মামলায় দীর্ঘ ১৬ মাস কারাভোগ করেন রাজীব। জামিন পাওয়ার পর এসআই হাসানের সঙ্গে দেখা হলে রাজীব টাকা ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করেন। তখন হাসান ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং হুমকি দেন- তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ করেছেন, টাকা চাইলে এবার মেরেই ফেলা হবে।

চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাসুদ জানান, ‘আটকের পর হাসানকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আমাদের থানায় তার নামে মামলা নেই। তাই তাকে বোয়ালিয়া থানা-পুলিশের কাছে হাসপাতালেই হস্তান্তর করে দেওয়া হয়েছে।’
বোয়ালিয়া থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, তার থানায় হাসানের বিরুদ্ধে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজির একটাই মামলা আছে। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হবে। পরবর্তীতে অন্য কোন মামলায় তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে সেটিতেও গ্রেফতার দেখানো হবে।