সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬

গণভোটের গোলাপি ব্যালটে টিক মানেই আগামীর বাংলাদেশ : আলী রীয়াজ

নিজস্ব প্রতিবেদক ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ০৬:৪৩ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ০৬:৪৩ অপরাহ্ন
গণভোটের গোলাপি ব্যালটে টিক মানেই আগামীর বাংলাদেশ : আলী রীয়াজ

রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক কাঠামো নির্ধারণে জনগণের প্রত্যক্ষ মতামত গ্রহণের ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, গণভোট কোনো সরকারের চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত নয়; বরং এটি জনগণের চাওয়া, রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনার ফসল। তাই নাগরিক হিসেবে সবার দায়িত্ব গণভোটে অংশ নিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া।


সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ডা. কাইছার রহমান চৌধুরী অডিটোরিয়ামে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে আয়োজিত বিভাগীয় মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সভায় তিনি সবাইকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “গোলাপি রঙের ব্যালটে টিক চিহ্ন মানেই ঠিক। এটাই হবে আগামীর বাংলাদেশ।”


গণভোটের পদ্ধতি ব্যাখ্যা করে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ভোটের দিন ভোটারদের দুটি ব্যালট দেওয়া হবে। একটি সাদা ব্যালটে প্রার্থীকে ভোট দেওয়া যাবে, আর অন্যটি গোলাপি রঙের ব্যালট—যেখানে থাকবে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ অপশন। সেখানে টিক চিহ্নই হচ্ছে গণভোটের প্রতীক। তিনি বলেন, “টিক চিহ্নই ঠিক। চাইলে পরে ঠিক, সিল দিন টিক।”


জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর অঙ্গীকারের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, এই সনদ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। “এই অঙ্গীকার না মানলে কোনো ইজ্জতদার মানুষ তা করতে পারে না। নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক দলগুলো সনদ বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে”—বলেন তিনি। অধ্যাপক আলী রীয়াজ আরও বলেন, এটি কোনো একতরফা সিদ্ধান্ত নয়; রাজনৈতিক দলগুলো আলোচনায় অংশ নিয়েছে এবং ১৮০ দিনের মধ্যে যেসব সংস্কার ও করণীয় নির্ধারিত হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করতেই হবে।


গণভোটের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্র কীভাবে পরিচালিত হবে, বিচার বিভাগ কীভাবে স্বাধীনভাবে কাজ করবে, নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশন কীভাবে নিরপেক্ষ ও কার্যকর থাকবে—এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া টেকসই হয় না। এ কারণেই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত স্পষ্ট হলে ভবিষ্যৎ সরকার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের ইচ্ছার বাইরে যেতে পারবে না।”


অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কিছু ভিন্নমত থাকলেও গণভোট আয়োজনের বিষয়ে কোনো দলের মধ্যেই দ্বিমত নেই। “সব রাজনৈতিক দলই গণভোটের ব্যাপারে একমত। কারণ এটি জনগণের প্রত্যক্ষ মতামত গ্রহণের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ”—বলেন তিনি।


অতীতের নির্বাচনগুলোর অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষ এখন ভোট দিতে চায়, কিন্তু বারবার সেই পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। গণতান্ত্রিক পরিবেশকে পূর্ণভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতেই জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, গণভোট শুধু একটি ভোটাভুটি নয়; এটি রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণের মাধ্যম।


সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার আরেক বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার। তিনি বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামতকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে। পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে গণভোট আয়োজনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত থাকবে।


রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক গণভোটকে গণতন্ত্রের একটি শক্ত ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার ড. মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ভোটারদের নিরাপত্তা ও নির্ভীকভাবে ভোট দেওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করাই হবে প্রধান লক্ষ্য।


বিভাগীয় মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ। তিনি বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে।


এর আগে, বেলা ১১টায় রাজশাহী হযরত শাহ মখদুম কেন্দ্রীয় ঈদগা মাঠে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে বিভাগীয় ইমাম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। রাজশাহী বিভাগীয় প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আব্দুস ছালাম খান। সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মহিনুল হাসান। সম্মেলনে ইমাম ও ধর্মীয় নেতারা গণভোটে অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানান।


এদিকে, বিভাগীয় পর্যায়ে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ বিষয়ক প্রদর্শনীতে ১২টি স্টল বসানো হয়েছে। বিভাগীয় প্রশাসনসহ রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, পাবনা, নাটোর, নওগাঁ, জয়পুরহাট ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসন এতে অংশগ্রহণ করে। পাশাপাশি আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস, রাজশাহী সিটি করপোরেশন এবং পরিচালক (স্বাস্থ্য) এর কার্যালয়ও প্রদর্শনীতে অংশ নেয়।