সোমবার, মে ১১, ২০২৬

মোহনপুরে উচ্ছেদ অভিযান ঠেকালেন বিএনপি নেতা

মোহনপুর প্রতিনিধি: ১০ মে ২০২৬ ১০:৩৩ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
মোহনপুর প্রতিনিধি: ১০ মে ২০২৬ ১০:৩৩ অপরাহ্ন
মোহনপুরে উচ্ছেদ অভিযান ঠেকালেন বিএনপি নেতা

রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের কেশরহাট এলাকায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উচ্ছেদ অভিযান শেষে মোহনপুর উপজেলা সদরে অভিযান চালাতে এলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় দোকানদারদের মধ্যে। দুপুর গড়িয়ে বিকেল পর্যন্ত চলা অভিযানে দোকানপাট ও স্থাপনা হারানোর শঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। ঠিক সেই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দোকানদারদের পাশে দাঁড়িয়ে প্রশংসায় ভাসলেন মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুব আর রশিদ।


১০ মে রোববার বিকেলে উপজেলা সদরের বাকশিমইল ইউপি পরিষদ, ডাকবাংলা ও প্রাণিসম্পদ অফিস সংলগ্ন এলাকায় উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মাহবুব আর রশিদের কাছে সহযোগিতা চান। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্বদানকারী অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয় (সওজ), ঢাকা জোনের এস্টেট ও আইন কর্মকর্তা এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আশফাকুল হক চৌধুরী ও রাজশাহী সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সানজিদা আফরিন ঝিনুকের সঙ্গে কথা বলেন।


এসময় তিনি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকা, পরিবার ও আর্থিক দুর্দশার বিষয়টি তুলে ধরে মানবিক দিক বিবেচনার অনুরোধ জানান। পরে তাঁর হস্তক্ষেপে উপজেলা সদরের উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এতে প্রায় দেড় শতাধিক দোকানপাট তাৎক্ষণিক উচ্ছেদ থেকে রক্ষা পায়।


উচ্ছেদ বন্ধের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ব্যবসায়ীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে। স্থানীয়রা মাহবুব আর রশিদকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। 


গার্মেন্টস ব্যবসায়ী মাইনুল ইসলাম বলেন, “আজ মাহবুব দেবদূতের মতো এসে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি না থাকলে আমরা দোকানঘর রক্ষা করতে পারতাম না। আল্লাহ তাকে ভালো রাখুক।”


আরেক ওষধ ব্যবসায়ী  বলেন,“আমরা অনেক ভয় পেয়েছিলাম। কিন্তু মাহবুব ভাই এসে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে আমাদের বাঁচিয়েছেন। সাধারণ মানুষের জন্য এমন নেতা খুব দরকার।”



মাহবুব আর রশিদ এসময় বলেন, “সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করা অবশ্যই প্রয়োজন। তবে হঠাৎ উচ্ছেদ চালালে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পথে বসে যায়। এখানে অনেক মানুষ বছরের পর বছর ব্যবসা করে পরিবার চালাচ্ছেন। আমি প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করেছি, যেন মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করা হয় এবং ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের সুযোগ দিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সাধারণ মানুষের জীবিকা রক্ষা করেই উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিত।”


অন্যদিকে, সওজ সূত্র জানায়, রাজশাহী সড়ক জোনের আওতাধীন বিভিন্ন মহাসড়ক ও সড়কের জায়গা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলে থাকায় ৯ থেকে ১১ মে পর্যন্ত মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে কেশরহাট এলাকায় সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়।


অভিযান পরিচালনা করেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয় (সওজ), ঢাকা জোনের এস্টেট ও আইন কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আশফাকুল হক চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সানজিদা আফরিন ঝিনুক, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান আকন্দসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশ, র‌্যাব, ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগের সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করেন।