সম্ভাব্য এল নিনোর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ
প্রস্তুতি মেকাবিলায় প্রস্তুতি নেয়ার এখনই সময়
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাতের কমবেশি নেতিবাচক প্রভাব বিশ্বেও সব দেশেই পড়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে এই প্রভাব অত্যন্ত গুরুতর। অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে এর প্রভাব খুবই স্পষ্ট। বর্তমানে যুদ্ধবিরতি চললেও জনজীবনে যুদ্ধের প্রভাব রয়ে গেছে। এর অর্থনৈতিক ও সামাজিক অভিঘাত ইতোমধ্যে দেশের বাজার, জ্বালানি খাত, রেমিট্যান্স, পরিবহন ও রপ্তানি খাতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধ শেষের পথে হলেও বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ থেকে যাবে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই সম্ভাব্য এল নিনোর প্রভাব নতুন আপদ হিসেবে চোখ রাঙাচ্ছে। ভারত থেকে নিউজিল্যান্ড পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে তীব্র তাপপ্রবাহ ও শুষ্ক আবহাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বৈরি আবহাওয়ার কারণে খাদ্যপণ্যের দাম আরো বাড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন অর্থনীতিবিদরা।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবহন, সরবরাহ ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ-জ্বালানির ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এশিয়ার বেশিরভাগ দেশে মূল্যস্ফীতি কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ফিলিপাইন ও পাকিস্তানে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। ফিলিপাইনে ৭ শতাংশ এবং পাকিস্তানে মূল্যস্ফীতি ১১ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
বছরের শেষভাগে এল নিনোর কারণে আবহাওয়া আরও শুষ্ক ও উষ্ণ হয়ে উঠলে উৎপাদন কমে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশ্লেষকরা। উদীয়মান এশীয় অর্থনীতিগুলোতে ভোক্তা মূল্য সূচকের প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশই খাদ্যপণ্যের ওপর নির্ভরশীল। ফলে দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় কমিয়ে দিতে পারে।
বাংলাদেশও এই ঝুঁকিে মধ্যে আছে। ইতোমধ্যেই এর প্রতিফলন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সরকারি হিসাবেই বাজারে জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির হার গত মাসে বেড়েছে। এপ্রিলে মূল্যস্ফীতির হার ৯ শতাংশ ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ৬ মে মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। চলতি মে মাসেও জিনিসপত্রের দামে ঊর্ধ্বগতি রয়েছে।
বিবিএসের প্রতিবেদন বলছে, এপ্রিল মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। আগের মাস মার্চে যা ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের ১০ মাসের (জুলাই-এপ্রিল) মধ্যে আট মাস মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের নিচে ছিল। এপ্রিলের আগে গত ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ।
দেখা যাচ্ছে, গত মাসে খাদ্যের তুলনায় খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেশি বেড়েছে। এই হার ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ, যা আগের মাস মার্চে ছিল ৯ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। অন্যদিকে, খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ। মার্চে যা ছিল ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ।
বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখনই পদক্ষেপ নেয়া উচিত হবে। উ’পান ও সরবরাহ ব্যবস্থার মধ্যে যাতে বড় ধরনের ব্যত্যয় সৃষ্টি না হয় সে জন্য সম্ভাব্য প্রস্তুতি ও পদক্ষেপগুলো এখনই বিবেচনায় নিতে হবে।