দখল-দূষণে মৃতপ্রায় রাজশাহীর ৭৭ নদী-খাল
সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নদীগুলোকে প্রাণবন্ত করে তোলা সম্ভব
দেশের স্বার্থে নদী রক্ষা করতে হবে। বাঁচাতে হবে দেশের সব নদী। সঠিক পরিচর্যা করতে হবে। ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রকৃতি, জনজীবন, চাষাবাদ প্রায় সবই নদীনির্ভর।
নদীমাতৃক বাংলাদেশে সহস্রাধিক নদী জালের মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। নদী এদেশের প্রাণস্বরূপ। অসংখ্য নদী দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করার মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য অক্ষুণ্ণ রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও নদী এদেশের অর্থনীতি, কৃষি এবং সংস্কৃতির মূল ভিত্তি। নদীর দুপাশ ঘেঁষেই এদেশের অধিকাংশ জনপদ, শহর ও বন্দর গড়ে উঠেছে।
যা হাজার বছরের সংস্কৃতিকে ধারণ করে। এদেশের অধিকাংশ নদীই এখন বর্জ্য দূষণের শিকার। তেমনি দখল ও বর্জ্য দূষণের শিকার নওগাঁ আত্রাই, ছোট যমুনা, তুলশীগঙ্গা, শিবনদ, নাগর নদসহ ৬টি নদী। এক সময়ের পূর্ণ যৌবনা স্রোতস্বিনী নদীগুলো বর্ষা মৌসুমেও যেন মরা খালে পরিণত হয়েছে। বেশিরভাগ নদীর দুই পাশে দখল করে নির্মাণ করা হচ্ছে ভবন ও শিল্প-কারখানা।
দীর্ঘদিন ধরে নদী খনন না করায় পলি জমায় কমে গেছে নাব্যতা। বর্তমানে ময়লা আবর্জনার ফেলার ভাগারে পরিণত হয়েছে নদীগুলো। স্থানীয় জনগণের বেখেয়ালি মনোভাব ও প্রশাসনের উদাসীনতায় নদীটি তার স্বকীয়তা হারাতে বসেছে। দীর্ঘদিন ধরে জমতে থাকা এই ময়লার স্তূপে শুধু নদীর সৌন্দর্যই নষ্ট হচ্ছে না, বরং পরিবেশের উপরেও ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে।
নাটোর জেলার ১৯টি নদীর মধ্যে দখল দূষণে সবচেয়ে বেহাল অবস্থা নারদ নদ ও বড়াল নদীর। এছাড়া বারনই ও মুসা নদীও দখল করছেন প্রভাবশালী। এছাড়া জেলার ৫৮টি বড় খালগুলোর অধিকাংশ দখল হয়ে গেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৪ টি নদীর মধ্যে মহানন্দায় রাবার ড্যাম ও পাগলা নদী খননের কারণে নাব্যতা থাকলেও পুনর্ভবা ও পদ্মা নদীতে পানি নেই।
জেলার বেশিরভাগই খাল দখল আর দূষণে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। রাজশাহী শহরের পার ঘেঁষে বয়ে গেছে পদ্মা নদী। নদীর লালন শাহ মুক্ত মঞ্চের সামনে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে শতাধিক স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকানপাট। জেলায় একই অবস্থা অর্ধশত স্থানে। এছাড়া বড়াল, নারদ ও হুজা নদীতে বাঁধ দিয়ে ধান ও মাছের চাষ করছেন স্থানীয়রা। মহানগরীর যতো বর্জ্য ময়লা আবর্জনা মিশ্রিত পানি বারনই নদী দিয়ে ঢুকে পড়ছে পবা উপজেলার সর্বত্র।
এতে ব্যাঘাত ঘটছে ফসলের উৎপাদনে। লিজ না নিয়ে অবৈধভাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কথা স্বীকার করেছেন দখলদাররা। অভিযোগ রয়েছে, কেউ কেউ সরকারি জমিকে নিজের দাবি করে চাঁদা উত্তোলন করছে। এসব দেখার যেন কেউ নেই।
নদী আমাদের জীবনরেখা অথচ শিল্পবর্জ্য, প্লাস্টিক ও মানুষের অসচেতনতার কারণে নদীগুলো আজ মারাত্মক দূষণের শিকার। নদী পরিষ্কার রাখা শুধু রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়, এটি নাগরিক হিসেবে আমাদের অন্যতম দায়িত্ব। আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে আমাদের অসচেতনতায় যেন আমরা আমাদের নদীগুলোকে হারিয়ে না ফেলি। ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই নদীগুলোকে প্রাণবন্ত করে তোলা সম্ভব।