সোমবার, মে ১১, ২০২৬

দক্ষ জনশক্তির দায়

সোনার দেশ ০৯ মে ২০২৬ ১০:২৫ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ০৯ মে ২০২৬ ১০:২৫ অপরাহ্ন
দক্ষ জনশক্তির দায়

দ্রুত রূপান্তরিত শ্রমবাজারের জন্য প্রস্তুত হতে হবে

দক্ষ মানবসম্পদ গড়তে জীবনমুখি শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। এই উপলব্ধি দাবি হিসেবে দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসছে। অগ্রগতি যে হয় নি তা নয়- তবে, তা কাক্সিক্ষত পর্যায়ে নেয়া সম্ভব হয় নি। সরকার কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। দক্ষ মানুষের প্রয়োজন যেমন দেশের অভ্যন্তরে, তেমনি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে হলে অবশ্যই বিশ্বমাণের কারিগরি শিক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ করতেই হবে। 


বিশ্বজুড়ে শ্রমবাজার দ্রুত রূপান্তরিত হচ্ছে। ডিজিটাল প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সবুজ রূপান্তর ও জনমিতিক পরিবর্তনের প্রভাব এর অন্যতম কারণ। পরিবর্তিত এ শ্রমবাজারে নিজেকে যোগ্য করে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দরকার স্বল্পমেয়াদি কারিগরি প্রশিক্ষণ। বাংলাদেশের অন্তত ৪৮ শতাংশ কর্মউপযোগী মানুষের জন্য এটা প্রয়োজন। ৫ মে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।


‘লাইফলং লার্নিং অ্যান্ড স্কিলস ফর দ্য ফিউচার’ শীর্ষক এ প্রতিবেদনটি কর্মী জরিপ, অনলাইন চাকরির চাহিদা বিশ্লেষণ, প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য ও প্রশিক্ষণের কার্যকারিতা সংক্রান্ত ১৭৪টি গবেষণার পর্যালোচনার ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।


এতে বলা হয়েছে, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না হলে চলমান বৈশ্বিক পরিবর্তনগুলো দেশভেদে ও দেশের অভ্যন্তরে বৈষম্য আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। আইএলও তাদের নতুন প্রতিবেদনে জীবনব্যাপী শিক্ষাকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রাখার জন্য সরকারগুলোর প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে।


আইএলওর জরিপে অংশ নেয়া বাংলাদেশিদের প্রায় অর্ধেক (৪৮ শতাংশ) উত্তরদাতা জানিয়েছেন, প্রশিক্ষণের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। এটা হতে হবে ‘নতুন কারিগরি দক্ষতা শেখার জন্য স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ’। ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের অর্ধেকেরও বেশি চান ‘ডিজিটাল/কম্পিউটার দক্ষতায় স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ’।


বাংলাদেশে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধীর অগ্রগতি হচ্ছে, যার লক্ষ্য হলো দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং বেকারত্ব হ্রাস করা। বর্তমানে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষার্থীর হার প্রায় ১৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে যদিও ভিন্ন তথ্যানুযায়ী তা ৯-১০%। এটা ৪০ শতাংশের উপরে হতে হবে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে বর্তমান হার বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যার মধ্যে এক হাজার বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় কারিগরি কোর্স চালু এবং প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। 


আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের বাংলাদেশের এক কোটির বেশি মানুষ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত আছেন। এই কর্মিরা প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ রেমিটেন্স পাঠিয়ে থাকেন স্বদেশে। এই রেমিটেন্স বাংলাদেশকে নির্ভরতার সাহস যুগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের কর্মিদের একটা বড় অংশ অদক্ষ। দক্ষ কর্মি বিদেশে পাঠানো সম্ভব হলে রেমিটেন্স প্রবাহ অনেক বেশি হবে। তাই দক্ষ ও যুগোপযোগী কর্মি গড়ে তোলার সনিষ্ঠ ও সুদূও প্রসারী উদ্যোগ অপরিহার্য। দ্রুত রূপান্তরিত শ্রমবাজারের চাহিদা ও প্রতিযোগিতা বিবেচনায় দক্ষ ও সক্ষম জনগোষ্ঠি গড়ে তুলতে হবে।