রবিবার, মে ১০, ২০২৬

আকাশগঙ্গায় ভাসছে ‘ভবঘুরে’ গ্রহ, নেই কোনও ‘সূর্য’! দৃশ্য দেখে হতবাক বিজ্ঞানীরা

সোনার দেশ ডেস্ক ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ০১:২০ অপরাহ্ন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
সোনার দেশ ডেস্ক ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ০১:২০ অপরাহ্ন
আকাশগঙ্গায় ভাসছে ‘ভবঘুরে’ গ্রহ, নেই কোনও ‘সূর্য’! দৃশ্য দেখে হতবাক বিজ্ঞানীরা

সে এক ভবঘুরে! আমাদের ছায়াপথে ঘুরে বেড়াচ্ছে এক ভবঘুরে গ্রহ। সে প্রচলিত গ্রহদের মতো নয়। কোনও নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ না করেই মহাকাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে গ্রহটি। সাধারণ পর্যবেক্ষণে একে প্রায় অদৃশ্য মনে হয়। স্বাভাবিক ভাবেই এই ভবঘুরে গ্রহকে দেখে বিস্মিত বিজ্ঞানীরা। প্রশ্ন উঠছে, গ্রহদের সম্পর্কে চিরাচরিত ধারণা কি এবার পালটে যাবে?

মহাজাগতিক আলোর অস্বাভাবিক বিন্যাস লক্ষ করেছিলেন বিজ্ঞানীরা। আসলে আকারে ছোট এবং অনুজ্জ্বল হওয়ায় এই ধরনের বিপথগামী গ্রহকে সরাসরি দেখা যায় না। এর পরিবর্তে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সাধারণত দূরবর্তী আলোর উপর তাদের প্রভাবের মাধ্যমে এগুলোকে শনাক্ত করেন। সেটিকে ধাওয়া করে পৃথিবীর বুকে অবস্থিত টেলিস্কোপ ও এক দূরবর্তী মহাকাশ পর্যবেক্ষণাগার থেকে প্রাপ্ত তথ্যের সাহায্যে বিজ্ঞানীরা এই গ্রহটির ভর এবং দূরত্ব আবিষ্কার করে ফেলেছেন।

পৃথিবী থেকে প্রায় ১০ হাজার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত গ্রহটির ভর বৃহস্পতির ভরের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। আকাশগঙ্গার কেন্দ্রের দিকে অবস্থিত গ্রহটির এই আকার থেকে বোঝা যায় যে এটি সম্ভবত একটি গ্রহমণ্ডলের অংশ হিসেবেই গঠিত হয়েছিল। পরে মহাকর্ষীয় সংঘর্ষের ফলে সেখান থেকে বিচ্যুত হয়েছে। গ্রহ কীভাবে গঠিত হয়, বেড়ে ওঠে সে সম্পর্কে বিস্তারিত ও নতুন করে জানার এক সুযোগ হিসেবেই এই গ্রহটিকে দেখছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

এমন এক ভবঘুরে গ্রহ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা বেশ কঠিন। বিশেষ করে এর দূরত্ব নির্ণয় করা খুবই শক্ত। কেননা যেহেতু এটি কোনও নক্ষত্রের চারধারে পাক খায় না, তাই তার সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য খুব কমই পাওয়া যায়। তবে এক্ষেত্রে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের সঙ্গ দিয়েছিল ভাগ্য। ২০২৪ সালের ৩ মে, চিলি, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং অস্ট্রেলিয়ার একাধিক টেলিস্কোপ গ্রহটিকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। আসল চমকটা হল, তারাটির আলো প্রতিটি পর্যবেক্ষকের কাছে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে পৌঁছায়। এই সূত্র ধরেই বস্তুটির ভরও নির্ণয় করা সম্ভব হয়েছিল। এবং দূরত্বও। আপাতত গ্রহটি থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করেই ভবিষ্যতে গ্রহের ধর্ম, ভর ইত্যাদি সম্পর্কে আরও নতুন নতুন কথা জানা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: সংবাদ প্রতিদিন অনলাইন