রবিবার, মে ১০, ২০২৬

পৃথিবীতে তুষারযুগ ডেকে এনেছিল মঙ্গল?

সোনার দেশ ডেস্ক ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ০২:৫৬ অপরাহ্ন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
সোনার দেশ ডেস্ক ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ০২:৫৬ অপরাহ্ন
পৃথিবীতে তুষারযুগ ডেকে এনেছিল মঙ্গল?
পৃথিবীর কক্ষপথ এবং নিজস্ব অক্ষকে প্রভাবিত করে চলেছে মঙ্গলগ্রহ। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

পৃথিবীর চেয়ে তার প্রতিবেশী মঙ্গলগ্রহ আকারে অনেক ছোট। ভর পৃথিবীর ভরের দশ ভাগের এক ভাগ মাত্র। তবু এই ‘ক্ষুদ্র’ মঙ্গলকে নিয়ে বিজ্ঞানীদের কৌতূহলের শেষ নেই। কী ভাবে সাড়ে ২২ কোটি কিলোমিটার দূরে থেকেও ছোট্ট লালগ্রহটি পৃথিবীর উপর প্রভাব বিস্তার করে চলেছে, বিজ্ঞানীরা তা জানতে নানারকম গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি তেমনই একটি গবেষণায় মিলেছে নতুন হদিস। বিজ্ঞানের এত দিনের ধারণাকেই তা বদলে দিতে পারে।

পৃথিবীর জলবায়ুর উপর মঙ্গলগ্রহের প্রভাব নিয়ে গবেষণা করেছেন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী। তাঁদের দাবি, ছোট হলেও পৃথিবীর উপর মঙ্গলের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি। এই মঙ্গলই পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য অনেকাংশে দায়ী। এমনকি, পৃথিবীর বুকে তুষারযুগও ডেকে আনতে সাহায্য করেছিল মঙ্গলগ্রহ। আধুনিক পদ্ধতি প্রয়োগ করে গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এই নতুন হদিস পেয়েছেন। গবেষণাপত্রে তা ব্যাখ্যাও করেছেন।

তুষারযুগের সঙ্গে মঙ্গলের কী সম্পর্ক? বিজ্ঞানীদের দাবি, মঙ্গলের মহাকর্ষ বল পৃথিবীর কক্ষপথ এবং অক্ষের ঘূর্ণনকে প্রভাবিত করে। তারই প্রভাব পড়ে জলবায়ুতে। আসলে মঙ্গলের আকর্ষণ পৃথিবীর কক্ষপথ এবং অক্ষকে সর্বক্ষণই ধাক্কা দিচ্ছে। এই ধাক্কার প্রভাব চট করে টের পা‌ওয়া যায় না। সঙ্গে সঙ্গে কক্ষপথে কোনও পরিবর্তনও হয় না। তবে কয়েক হাজার বছর ধরে মঙ্গলের এই ধাক্কা কক্ষপথের আকার বদলে দিতে পারে। কক্ষপথের সঙ্গে পৃথিবীর অক্ষ যে কোণ তৈরি করে রয়েছে, বদলে যেতে পারে তা-ও। এর ফলে পৃথিবীতে সূর্যালোকের বিকিরণে তারতম্য ঘটে। তুষারযুগের সময়েই তা-ই হয়েছিল, দাবি বিজ্ঞানীদের।

পৃথিবীর উপরিভাগে সূর্যালোকের বিচ্ছুরণকে নিয়ন্ত্রণ করে মিলানকোভিচ চক্র। এই চক্রে মঙ্গলের প্রভাব আবিষ্কার করে চমকে গিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। অত্যাধুনিক কম্পিউটার সিমুলেশন প্রক্রিয়া ব্যবহার করে তাঁরা গবেষণাগারে সৌরজগতের একটি মডেল (প্রতিরূপ) তৈরি করেছিলেন। সেখানে মঙ্গল গ্রহকে রেখে এবং মঙ্গলকে সরিয়ে দিয়ে পৃথিবীর গতিবিধি বিশ্লেষণ করা হয়েছিল। কয়েক হাজার বছরের গবেষণার তথ্যও পর্যালোচনা করা হয়। মঙ্গলের ধাক্কা সম্পর্কে তার পর নিশ্চিত হন গবেষকেরা।

তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন