ঈশ্বরদীতে বিচার চলাকালে চেয়ারম্যানকে মারধর
পাবনার ঈশ্বরদীতে ছেলের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম্য আদালতে মায়ের দায়ের করা অভিযোগ নিয়ে বিচার চলাকালে ইউপি চেয়ারম্যান ও গ্রাম পুলিশ মারধরের শিকার হয়েছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে ঈশ্বরদী থানায় মামলা দায়ের ও যৌথবাাহিনীর সদস্যরা অভিযুক্তের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ধারালো ছুরি, লোহার রড ও নেশাদ্রব্য উদ্ধার করেছে।
পুলিশ, ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের মানিকনগর পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত নূর ছালাম প্রামানিকের ছেলে সুলায়মান ভুট্টুর বিরুদ্ধে মাদকের আখড়া নিয়ে তার মা কোহিনুর বেগম ইউনিয়নের গ্রাম্য শালিস আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। বুধবার এ নিয়ে বিচার শালিস চলাকালে অভিযুক্ত সোলায়মান ভুট্টু তার মাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান, মেম্বর ও গ্রাম পুলিশকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে সে।
এ সময় তাকে ভদ্রভাবে কথা বলা ও শান্ত থাকতে বলার কারণে গ্রাম পুলিশ নূরুন্নবী মৃধার ওপর চড়াও হয়ে তাকে বেধড়ক মারপিট করে ভুট্টু। ঘটনার আকস্মিকতায় শালিসের বিচারক ইউপি চেয়ারম্যান মহির উদ্দিন গ্রাম পুলিশকে রক্ষা করতে এজলাস থেকে নেমে এলে ভুট্টু ও তার সঙ্গী. রুয়েল প্রামানিকসহ কয়েকজন মিলে চেয়ারম্যানকেও মারপিট করেন।
এক পর্যায়ে ভুট্টু ও হাতকাটা রুয়েলের সঙ্গে যোগ দিয়ে অনিক প্রামানিক, মো. গিট্টু হোসেন, মো. ইমন ও রাব্বি হোসেনসহ বেশ কয়েকজন সংঘবদ্ধ হয়ে লোহার রড, কাঠের বাটাম, লাঠিসোটা ও অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মহির উদ্দিন মণ্ডলকে মারপিট করে সেখান থেকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে।
এসময় ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ড সদস্য মো. স্বপন সরদার, ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য আসাদুল হক, গ্রাম পুলিশ মাহাতাব মুন্সি, লিখন প্রামানিকসহ সেখানে উপস্থিত লোকজন এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যায়। আহত গ্রাম পুলিশ মো. নুরুন্নবী মৃধা বাদী হয়ে এ বিষয়ে ভিডিও ফুটেজসহ ৬ জনকে আসামী করে ঈশ্বরদী থানায় মামলা দায়ের করেন।
এদিকে এ ঘটনার পরপরই সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের নিয়ে অভিযানে নামে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান সরকার জানান, ঘটনার পরপরই যৌথবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে এলাকায় আসামীদের বাড়ি বাড়ি ও মাদকের আখড়ায় অভিযান চালানো হয়। এসময় মো. রুয়েল প্রামানিক (হাতকাটা রুয়েল) এর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ধারালো ছুরি, লোহার রড ও মাদকের আখড়া থেকে গাঁজাসহ বেশকিছু নেশাদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে তবে পালিয়ে থাকার কারনে আসামীদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান বলেন, আসামীদের গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আহত ইউপি চেয়ারম্যান মহির উদ্দিন মন্ডল বলেন, আমিসহ আমার ইউনিয়ন পরিষদের সকল সদস্যবৃন্দ অবিলম্বে আসামীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।