সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

একুশে বইমেলা: বাংলা একাডেমি সভাপতির ‘আক্ষেপ’

সোনার দেশ ডেস্ক ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৩:০৮ অপরাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৩:০৮ অপরাহ্ন
একুশে বইমেলা: বাংলা একাডেমি সভাপতির ‘আক্ষেপ’

ভাষার মাসের প্রথম দিন থেকে বইমেলা শুরু না হওয়ায় আক্ষেপ করেছেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।

একাডেমির নজরুল মঞ্চে ‘প্রতীকী বইমেলা’ রোববার উদ্বোধন করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।

তিনি বলেন, “নির্বাচন ও রোজার সময়সহ নানা বাস্তবতা বিবেচনায় মেলার সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাস্তবতার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন বইমেলা না হওয়ার একটি আক্ষেপ রয়ে গেছে।”

ভাষার মাসের প্রথম দিন বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে একুশে বইমেলা না হওয়ার কারণে ‘প্রতিবাদ স্বরূপ’ একদিনের এই ‘প্রতীকী বইমেলা’ আয়োজন করেছিল ‘একুশে বইমেলা সংগ্রাম পরিষদ’।

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ও ঊনসত্তরের গণ- অভ্যুত্থানের নেত্রী সংগঠক দীপা দত্ত এই ‘প্রতীকী বইমেলা’ উদ্বোধন করেন বলে আয়োজকদের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, বইমেলা শুধু একটি বাণিজ্যিক আয়োজন নয়; এটি জাতির জ্ঞানচর্চা, বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ এবং আবেগগত সংযোগের প্রতীক।

“এখন বইমেলা শুধু কবিতা বা উপন্যাসে সীমাবদ্ধ নেই। দর্শন, বিজ্ঞান, ইতিহাস, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞান ও জাতীয় জাগরণের নানা বিষয়ে বিপুলসংখ্যক বই প্রকাশিত হচ্ছে, যা দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রগতির সুস্পষ্ট প্রমাণ।”

‘প্রতীকী বইমেলা’র সমাপনী অনুষ্ঠানে ‘সর্বজন কথার’ সম্পাদক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, “দেশের সব কিছু চলতে পারলে শুধু বইমেলা চলতে পারে না তা বিশ্বাসযোগ্য না। আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় ভাষার মাসের শুরু থেকেই প্রতি বছর যে বইমেলার পথচলা সেই মেলা করতে না পেরে বাংলা একাডেমি ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় নিজেদের কলংকিত করেছে। যা মোচনীয় নয়।”

প্রতীকী বইমেলায় অংশ নিয়েছে- অন্যপ্রকাশ, কাকলী প্রকাশনী, অ্যাডর্ন পাবলিকেশন, জাগৃতি, নতুন দিগন্ত, আকাশ, সূচীপত্র, আবিষ্কার, বিবর্তন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, অনুপম প্রকাশনী, পাঠক সমাবেশ, অনিন্দ্য প্রকাশ, ছায়াবীথি, কৌমুদী প্রকাশনীসহ অন্তত ৪৬টি প্রতিষ্ঠান।

দিনব্যাপী একুশের গান, কবিতাপাঠ, বক্তৃতা, নাটক পরিবেশিত হয়। উদীচী, বিবর্তন, সাভৈসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন এতে অংশ নেয়।

ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকে অমর একুশে বইমেলা শুরু হওয়ার রীতি থাকলেও এবার সংসদ নির্বাচনের কারণে তাতে ছেদ পড়েছে। এ বছর ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলা শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি। ইতোমধ্যে ৫৫৪টি প্রতিষ্ঠানের নামে ৮৫৬টি ইউনিট বরাদ্দ করা হয়েছে।

বরাদ্দ পাওয়া প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভাড়ার টাকা পরিশোধ করতে হবে। এবারও মেলা যথারীতি বাংলা একাডেমি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অংশে হবে। সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছে মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান।

প্রকাশকদের দাবির প্রেক্ষিতে এবার স্টল ভাড়া ২৫ শতাংশ কমানো হয়েছে। মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে মেলা পরিচালনা কমিটির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

বইমেলায় পাঁচ শতাধিক স্টল বরাদ্দ

রোববার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে দেখা যায়, স্টল নির্মাণের কাজ অনেকটাই দৃশ্যমান। বাঁশ দিয়ে তৈরি হয়েছে স্টলের অবয়ব। স্টল বিন্যাস এবং বরাদ্দ প্রক্রিয়া নিয়েই এখন ব্যস্ত থাকছেন মেলা পরিচালনার সংশ্লিষ্টরা।

একুশে বইমেলা পরিচালনা কমিটির সঙ্গে কথা বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানতে পেরেছে, বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে এবার ৫৭টি প্রতিষ্ঠানকে ৯১টি ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে থাকছে একটি প্যাভিলিয়ন।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৯৭টি প্রতিষ্ঠানকে ৭৬৫ ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৩৬টি প্যাভিলিয়ন রয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মোট ৩৭টি প্যাভিলিয়ন রয়েছে।

বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য-সচিব সেলিম রেজার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এটি প্রাথমিক বরাদ্দ তালিকা। আরো কিছু প্রতিষ্ঠানের আবেদন রয়েছে। সবগুলো চূড়ান্ত করে বিস্তারিত জানানো হবে।”

বইমেলা রোজার পর আয়োজনের জন্য প্রকাশকদের একটি অংশ বইমেলা পরিচালনা কমিটির কাছে চিঠি দিয়ে দাবি জানিয়েছে।

তবে বইমেলা সংশ্লিষ্টরা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, মেলা ঈদের পর নেওয়ার সুযোগ ‘খুব কম’। কারণ, ইতোমধ্যে বইমেলার ৩০ শতাংশের বেশি প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

বাংলা একাডেমির কয়েকজন কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, “একুশে বইমেলা ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকে আয়োজনের পক্ষেই ছিল বাংলা একাডেমি। কিন্তু প্রকাশকদের দাবির কারণেই সেটি ডিসেম্বরে নেওয়া হয়েছিল।”

পরে যখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ডিসেম্বরে আয়োজনের ব্যাপারে আপত্তি জানানো হয়। তখন বইমেলা আয়োজনটিই অনিশ্চয়তায় পড়ে যায়।

তিনি বলেন, “এখন ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা আয়োজনের যে সিদ্ধান্তটি হয়েছে, তাতে অন্তত মেলা আয়োজনের অনিশ্চয়তা দূর হয়েছে। ২১শে ফেব্রুয়ারির আমেজ নিয়েই এবার একুশে বইমেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।”

তথ্যসূত: বিডিনিউজ