মঙ্গলবার, জুন ২৩, ২০২৬

মোহনপুরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মায়ের মাথায় আঘাত

মোহনপুর (রাজশাহী) প্রতিনিধি ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:৩৭ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
মোহনপুর (রাজশাহী) প্রতিনিধি ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:৩৭ অপরাহ্ন
মোহনপুরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মায়ের মাথায় আঘাত

রাজশাহীর মোহনপুরে জমাজমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মায়ের মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করে আপন ছেলে। এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে উপজেলার বাকশিমইল ইউনিয়নের ৫ নাম্বার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি কৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত মহসিনের ছেলে মিরাজ।


এলাকাবাসি ও ভুক্তভুগির পরিবার সূত্রে জানা জানা, কৃষ্ণপুর মোড়ের পাশে জমির অংশ দাবি করে দীর্ঘদিন থেকে মেরাজ আওয়ামী লীগের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে প্রতিপক্ষ আক্কাস আলীর পরিবারের সাথে ঝামেলা করে যাচ্ছিল। পরে একাধিকবার আলোচনা করে স্থানীয় ভাবে মিমাংসা করা হয়েছিলো। বর্তমানে সেই স্থানে আদালতের রায় পাবার পর আক্কাস আলী বাড়ি নির্মাণের কাজ করছিলেন।


এমতাবস্থায় গত ৩ জানুয়ারি সকাল ৯ টার দিকে মেরাজসহ তার মা মর্জিনা বেগম, বোন মর্শিদা বেগম, সহোযোগী বন্ধু নাঈম এসে আক্কাস আলীর বাড়ি নির্মাণের কাজে বাঁধা প্রদান করে। এসময় আক্কাস আলী তাদেরকে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করলে মেরাজ লোহার রড দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্কাসের মাথার সামনে ডান পাশে আঘাত করে রক্তাক্ত গুরুতর জখম করে।


স্বামীকে বাঁচাতে শেফালী বেগম এগিয়ে আসলে মেরাজের মা  মর্জিনা বাঁশের লাঠি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করে মাথার পিছনে সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে। এসময় মেরাজের বোন ও বন্ধু তাদের রাস্তার উপর ফেলে রেখে কিল ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। এরপর তারা নির্মাণধীন বাড়ির ইটের ওয়াল ভাংচুর, পানি সেচের পাম্প, ব্যাটারি ও পাইপ সহ অন্যান্য জিনিসপত্র পাশের পুকুরে ফেলে দিয়েছে। 


আক্কাসের পরিবারের উপর হামলা শেষে মেরাজ ক্ষান্ত হয়নি তাদের ফাঁসাতে সে নিজেই তার মায়ের মাথায় বাশের লাঠি দিয়ে আঘাত করে। পরে মেরাজ কৌশলে মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এসে চিকিৎসককে ম্যানেজ করে কিছুক্ষণ ভর্তি রাখার পরে রেফার্ড কাগজ করে নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার নামে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ।


স্থানীয়রা বলেন, আমাদের সামনে মেরাজের পরিবার আক্কাস আলীও তার স্ত্রী শেফালী বেগমকে রাস্তায় ফেলে মারধর করে নির্মাণ সামগ্রী পানিতে ফেলে দেয়। এক প্রতিবেশী নারী তাদের উদ্ধারে আসলে তাকেও ধাক্কা মেরে ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয়। পরে মেরাজের মা মর্জিনা বলছিলো মেরাজ তুই আমাকে আঘাত কর, তাদের ফাঁসাতে হবে, তা না হলে আমরা জেলে যাবো। তখন মেরাজ নিজেদের স্বার্থের কথা চিন্তা করে তার মায়ের মাথায় আঘাত করে।


এবিষয়ে মোহনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম মঈনুদ্দীন বলেন, কৃষ্ণপুর গ্রামে মারধোর ঘটনা ঘটেছে, তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


রাজশাহীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হেলেনা আকতার বলেন, অপরাধী যতই কৌশলী হোকনা কেন, আইনের কাছে কেউ ছাড় পায় না। আমরা তদন্ত সাপেক্ষে সেই অপরাধীদের বিরুদ্বে আইনগত ব্যবস্থা নিবো।