অবহেলিত মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য: চাঁদ
আর তিনদিন পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। রাজশাহী-৬ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ। একান্ত স্বাক্ষাতকারে তিনি রাজশাহী-৬ আসনে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নদী ভাঙনসহ এলাকার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠন এবং নারী পুরুষের কর্মসংস্থানের সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দেবেন বলে জানান।
স্বাক্ষাতকারে আবু সাঈদ চাঁদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত চরবাসীসহ মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে আমার প্রধান লক্ষ্য। চরাঞ্চলে নিরাপদ বসতভিটা গড়ে তুলতে পরিকল্পিত পুনর্বাসন, টেকসই ঘর নির্মাণ এবং নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ আবাসন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, স্যানিটেশন ও বিদ্যুৎ সুবিধা সম্প্রসারণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
চারঘাট-বাঘা এলাকার পদ্মা নদীর ভয়াবহ নদীভাঙন ও তীররক্ষা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন আবু সাইদ চাঁদ। তিনি বলেন, এমপি নির্বাচিত হলে নদীভাঙন রোধকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উদ্যোগ নেওয়া হবে। তীররক্ষা কাজের মান নিশ্চিত করতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও নদী বিশেষজ্ঞদের সাথে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জনগণকে সম্পৃক্ত করে স্বচ্ছ নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। জাতীয় বাজেট ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) চারঘাট-বাঘার নদীভাঙন সমস্যা বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
মৎস্য, কৃষি ও নদীকেন্দ্রিক জীবিকা রক্ষা ও সম্প্রসারণে সুসমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন চাঁদ। তিনি বলেন, পদ্মা-বড়াল বিধৌত এই জনপদের অর্থনীতি টিকিয়ে রাখতে টেকসই পরিকল্পনা ছাড়া বিকল্প নেই। মৎস্য খাতে নদী ও খাল পুনঃখনন, অভয়াশ্রম স্থাপন এবং জেলেদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও আধুনিক মাছ ধরার সরঞ্জাম সরবরাহ করা হবে। কৃষিখাতে আধুনিক সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণ, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বিশেষ সহায়তা, এবং কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে সহায়ক অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারি ক্রয়ব্যবস্থা জোরদার করার কথাও জানান তিনি।
স্বাস্থ্যখাতে ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোকে কার্যকর ও জনবান্ধব করা হবে। চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট দূর করার পাশাপাশি মোবাইল মেডিকেল টিম ও টেলিমেডিসিন সেবা চালু করা হবে, যাতে প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষ সহজেই স্বাস্থ্যসেবা পায় বলে তিনি জানান।
শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে গ্রামীণ বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন, দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ এবং ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের স্কুলে ফেরাতে উপবৃত্তি, মিড-ডে মিল ও বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি জোরদার করার কথাও জানান তিনি। যোগাযোগ ব্যবস্থায় গ্রাম থেকে বাজার, উপজেলা ও জেলা সদরের সঙ্গে সংযোগকারী সড়কগুলোর উন্নয়ন, টেকসই ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ করার পরিকল্পনার কথা বলেন তিনি।
উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, দুর্নীতিমুক্ততা এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছেন তিনি। স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রতিটি বড় প্রকল্পে স্থানীয় পরামর্শ সভা ও গণশুনানির আয়োজন করা হবে। গ্রাম ও ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিতে সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিত্ব রাখা হবে, যাতে জনগণ নিজেরাই উন্নয়নের অংশীদার হতে পারে।