সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

সিপিবি ও গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহারে ১৮ দফা অঙ্গীকার

সোনার দেশ ডেস্ক ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:৪০ পূর্বাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:৪০ পূর্বাহ্ন
সিপিবি ও গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহারে ১৮ দফা অঙ্গীকার

‎আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ঘোষিত ইশতেহারে ১৮ দফা অঙ্গীকার করা হয়েছে।

ব্যবস্থা বদলের নির্বাচনী ইশতেহার’ শিরোনামে ঘোষিত এ ইশতেহারের অঙ্গীকার গুলোর মধ্যে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত, নারী অধিকার নিশ্চিত, বৈষম্য কমানোর উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।  সিপিবির পাশাপাশি তাদের নির্বাচনী জোট গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১৮ দফা অঙ্গীকার সম্মানিত নির্বাচনী ইশতেহার দিয়েছে।

সিপিবির ঘোষিত ইশতেহারে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেলে প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য প্রথম ১০০ দিনে কী করবে, ছয় মাসের মধ্যে কী করবে, এক বছরের মধ্যে কী করবে এবং দুই বছরের মধ্যে কী করবে, তার রূপরেখাও দেওয়া হয়েছে ।

গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সিপিবি এ নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ  করে। সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন স্বাক্ষরিত ওই ইশতেহারের মুখবন্ধে বলা হয়েছে, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের দেড় বছর পর দেশ আজ এক গভীর সংকটে নিপতিত। একদিকে ভয়ংকর বিপদ, অন্যদিকে সম্ভাবনা। লুটপাটতন্ত্র বহাল রাখার স্বার্থে ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ধ্বংসসাধন, গণতন্ত্রের ক্রমাগত সংকোচন, মানুষের ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ধারাবাহিকভাবে খর্ব করায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে অনিশ্চিত ও সংঘাতপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এই বাস্তবতার মধ্যে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে শুধু সরকার গঠনের কাজটিই সম্পন্ন হবে না, এর মাধ্যমে নির্ধারিত হবে আগামী দিনে দেশ কোন পথে এগোবে, গণতন্ত্রের পথে না কি, কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থার দিকে।

ইশতেহারে বলা হয়েছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে বর্তমান নাজুক পরিস্থিতিকে আরো বিপজ্জনক করে তুলেছে চরম ডানপন্থী ও উগ্র সাম্প্রদায়িক প্রতিক্রিয়াশীল–স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর নানা ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতা। তারা (ডানপন্থী ও উগ্র সাম্প্রদায়িক প্রতিক্রিয়াশীল স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী) নির্বাচনপ্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ ও ব্যর্থ করার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্র, বিভ্রান্তি ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার এই নির্বাচন-পর্বকালীন সংগ্রামে এসব অপচেষ্টার বিরুদ্ধে জনগণকে সজাগ, সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ করা জরুরি কর্তব্য। বর্তমান সংকটের বাস্তব মূল্যায়ন ও ভবিষ্যৎ মুক্তির স্বপ্নকে একসূত্রে গাঁথার এক দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার এই ইশতেহার বলে উল্লেখ করেছে সিপিবি।

ব্যবস্থা বদলের জন্য ইশতেহারে সিপিবি’র ১৮ দফা অঙ্গীকারগুলো হলো- রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন; আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি দমন; প্রকৃত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠা ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ; নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার ও ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা; বৈষম্য হ্রাস, মুদ্রাস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে অর্থনৈতিক পুনর্গঠন; কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য বিমোচন ও বৈষম্য হ্রাস; শিক্ষাব্যবস্থার পুনর্গঠন; জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবার গণমুখী সংস্কার; কৃষিব্যবস্থার সংস্কার ও গ্রামের উন্নয়ন নিশ্চিত করা; শ্রমজীবীদের অধিকার নিশ্চিতকরণ; নারী অধিকার; যুবশক্তির বিকাশ ঘটাতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণ; পরিবহন ও যোগাযোগ অবকাঠামোর সংস্কার; প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা; বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও গবেষণার গণমুখী সংস্কার; গণমাধ্যম, তথ্যের অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ; সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রগতিশীল সামাজিক চেতনার বিকাশ ঘটানো এবং পররাষ্ট্রনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা।

এদিকে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টও নির্বাচনী ইশতেহার দিয়েছে। ইশতেহারে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টও  ১৮ দফা অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।

গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের অঙ্গীকারগুলো হলো- রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন, গণতান্ত্রিক আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি দমন, স্বশাসিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠা ও ক্ষমতার বিজ্ঞানজীকরণ, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার ও প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, কর্মসংস্থান দারিদ্র্য বিমোচন ও বৈষম্যরার, শিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্গঠন, জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবার বহুমুখী সংস্কার, খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি সংস্কার, শ্রমিক অধিকার ও ট্রেড ইউনিয়ন স্বাধীনতা, নারী অধিকার ও লিঙ্গ সমতা, যুব শক্তির বিকাশ, পরিবহন ও যোগাযোগ অবকাঠাম উন্নয়ন, পরিবেশ জলবায়ু ও প্রাকৃতিক সম্পদ সুরক্ষা, বিজ্ঞান প্রযুক্তি ও গবেষণার বহুমুখী সংস্কার, গণমাধ্যমত প্রকাশের স্বাধীনতা, সাহিত্য সংস্কৃতি ও  গণতান্ত্রিক চেতনা, পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সংহতি শক্তিশালী করা।

তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ