সোমবার, এপ্রিল ২০, ২০২৬

ক্ষমতায় গেলে বিডিআর নাম পুনর্বহাল করতে চাই: তারেক রহমান

সোনার দেশ ডেস্ক ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন রাজনীতি
সোনার দেশ ডেস্ক ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন
ক্ষমতায় গেলে বিডিআর নাম পুনর্বহাল করতে চাই: তারেক রহমান

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নাম পুনরায় বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারেক রহমান।

শনিবার অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ও পিলখানায় নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারম্যান এ প্রতিশ্রুতি দেন।

রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলের এ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “২০০৯ সালে বিডিআর পিলখানায় সেনা হত্যাযজ্ঞের পর ‘পতিত, পরাজিত, পলাতক, বিতাড়িত ও ফ্যাসিস্ট অপশক্তি’ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত বিডিআরের নাম পরিবর্তন করে দিয়েছিল। এমনকি তাদের ইউনিফর্ম পর্যন্ত পরিবর্তন করে ফেলা হয়েছে।

“আমি আপনাদের সামনে একটি ব্যক্তিগত অনুভূতি শেয়ার করতে চাই, জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত বিডিআরের নাম পুনর্বহাল করতে চাই। ভবিষ্যতে যেন কখনোই এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সেই লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে পিলখানার সেনা হত্যার দিনটিকে ‘শহীদ সেনা দিবস’ অথবা ‘সেনা হত্যাযজ্ঞ দিবস’ অথবা ‘জাতীয় শোক দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।”

তারেক রহমান বলেন, ‘‘আপনারা যারা সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা, আপনাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করার আগেই সাবেক কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তা এবং সদস্যদের কল্যাণে বেশ কয়েকটি সুপারিশ উপস্থাপন করেছেন।

“জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ গঠন, সেনা আইনের কিছু কিছু বিধিমালার পরিমার্জন কিংবা সংস্কারসহ এসব সুপারিশ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি।”

তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে এতটুকু বলতে পারি, আগাম ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে জনগণের রায়ে আল্লাহর রহমতে ইনশাল্লাহ বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে, আপনাদের এসব সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য সেনাবাহিনী সাবেক এবং বর্তমান কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে আমরা একটি কমিটি গঠনের পরিকল্পনা করেছি।

“এই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী দাবি -দাওয়াগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষা করে প্রতিটি সুপারিশ পর্যায়ক্রমে আমাদের বাস্তবায়নের ইচ্ছা আছে।”

তিনি বলেন, ‘‘সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা এবং সদস্যদের একটি দাবি ছিল ওয়ান র‌্যাংক ওয়ান পে। আমি আপনাদের অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাতে চাই যে, ইতোমধ্যেই আমরা আমাদের দলীয় ম্যানিফেস্টোতে ‘ওয়ান র‌্যাংক ওয়ান পে’ অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছি এবং এটি আমরা বাস্তবায়নের ঘোষণা এরই মধ্যে জাতির সামনে উপস্থাপন করেছি।

“ইনশাআল্লাহ বিএনপি সরকার গঠন করলে ১২ তারিখের নির্বাচনে এটি আমরা যত দ্রুততার সঙ্গে সম্ভব বাস্তবায়ন করব।”

বক্তব্যের শুরুতে এমন একটি অনুষ্ঠানে তাকে এবং তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আয়োজকদের প্রতি কতৃজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারেক রহমান।

সেনা বাহিনীর সঙ্গে ‘আত্মিক সম্পর্কের’ কথা তুলে বলেন, “আপনাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় আমি এবং আমার স্ত্রী সত্যিকার অর্থেই কিছুটা স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ি বা পড়ছি। বরাবরই সেনাবাহিনী বা সশস্ত্র বাহিনীকে আমার কাছে আমার একটি বৃহত্তর পরিবার বলেই মনে হয় বা আমরা মনে করি।

“এর কারণ হয়ত সেনানিবাসে আমার এবং আমার পরিবারের বেড়ে ওঠা। অনেক ছোট বেলায় বাবাকে হারিয়েছি আমরা। তবে বড় হয়ে দেখেছি সেনাবাহিনীর প্রতি আমার মা মরহুমা খালেদা জিয়ারও এক ধরনের নির্ভরতা ছিল, সম্মান ছিল। আমার মা সবসময় মনে করতেন, দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের জন্য বাংলাদেশের অবশ্যই একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী থাকা দরকার।”

‘সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না’

তারেক রহমান বলেন, “সেনাবাহিনীর হারানো গৌরব ফিরিয়ে দেওয়া হবে, আমি এ ধরনের কথা বলতে চাই না। বরং গৌরব ফিরিয়ে দেওয়া যায় না, গৌরব অর্জনের বিষয়, গৌরব ধারণ করার বিষয়।

“সেনাবাহিনীর গৌরব সেনাবাহিনীকে রক্ষা করতে হবে। সেনাবাহিনীর নিজেদের সম্মান এবং মর্যাদা সম্পর্কে নিজেদেরকে সতর্ক এবং সচেতন থাকতে হবে। আমার কথাটা হয়ত একটু ছন্দপতনৃকিন্তু আমি বিষয়টি যেভাবে বিশ্বাস করি, যেভাবে দেখি, আমি আপনাদের সামনে সেভাবেই উপস্থাপনের চেষ্টা করেছি। তবে একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে, একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য হিসেবে আমি এতটুকু বলতে পারি, জনগণের রায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সরকার গঠনে সক্ষম হলে সেনাবাহিনীকে অবশ্যই কোনোভাবেই রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।”

তিনি বলেন, “সেনাবাহিনীর গৌরব ভূলণ্ঠিত হয়, এমন কিছু বিএনপি অতীতেও করেনি, বর্তমানেও না এবং ইনশাল্লাহ ভবিষ্যতেও বিএনপি করবে না।

“কারণ বিএনপি সবসময় বাংলাদেশের পক্ষের দল। বিএনপি সবসময় বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের পক্ষের শক্তি। রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি রাজনীতির মাঠে শক্তিশালী থাকলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব শক্তিশালী থাকে। ”

তিনি বলেন, ‘‘সেনাবাহিনীর গৌরব এবং মর্যাদাও ইনশাল্লাহ অক্ষুন্ন থাকবে। সেনাবাহিনী অবশ্যই রাজনীতি সম্পর্কে সচেতন থাকবে। তবে রাজনীতিতে বিলীন হয়ে যাওয়া অবশ্যই উচিত হবে না।

“রাজনীতির চাদরে যেন পেশাদারিত্ব আচ্ছাদিত না হয়ে যায়, এ ব্যাপারে সেনাবাহিনীর প্রতিটি কর্মকর্তা এবং সদস্যকে অবশ্যই অত্যন্ত সচেতন থাকা জরুরি। ”

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রয়াত জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়াসহ শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত হয়।

অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ফজলে এলাহী আকবর।

এর আগে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করে তারেক রহমান হেটে হেটে সব অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমানসহ উধ্বর্তন সেনা কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

পরে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে নৈশ ভোজে যোগ দেন তারেক রহমান।

তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ