মঙ্গলবার, জুন ২৩, ২০২৬

ধানের শীষের ‘অনিবার্য বিজয়’ রুখতে জামায়াত টাকা দিয়ে ‘ভোট কিনছে’: বিএনপি

সোনার দেশ ডেস্ক ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:০৭ অপরাহ্ন রাজনীতি
সোনার দেশ ডেস্ক ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:০৭ অপরাহ্ন
ধানের শীষের ‘অনিবার্য বিজয়’ রুখতে জামায়াত টাকা দিয়ে ‘ভোট কিনছে’: বিএনপি

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের ‘অনিবার্য বিজয়’ রুখতে জামায়াতে ইসলামী টাকা দিয়ে ‘ভোট কিনছে’ বলে অভিযোগ করেছে দলটি।


নির্বাচনের আগের দিন নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বিপুল টাকাসহ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমিরের আটকের ঘটনায় বিএনপির তরফে এই অভিযোগ তোলা হয়েছে।


বুধবার বিকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমীন বলেন, “বিএনপির অনিবার্য বিজয়ের বিপরীতে একটি গোষ্ঠী নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে।


“আমরা আজ সকালে গণমাধ্যমে দেখতে পেলাম সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ঢাকা থেকে যাওয়ার পর নগদ অর্ধ কোটিরও বেশি টাকাসসহ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমিরকে আটক করেছে পুলিশ।


“যেখানে নির্বাচনে অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেন প্রতিহত করতে সকল ব্যাংক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান ব্যবসায়িক লেনদেন ও কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সেখানে স্বাভাবিকভাবেই সর্বত্র প্রশ্ন উঠছে জামায়াতের একটি জেলার সর্বোচ্চ নেতা কোন উৎস থেকে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে কি উদ্দেশ্যে, কাদের দেওয়ার জন্য নির্বাচনের ঠিক আগের দিন ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন।”


এদিন দুপুরে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধান টাকার ব্যাগসহ আটক হন। তার ব্যাগে ৭৪ লাখ টাকা পাওয়ার তথ্য দিয়েছেন সৈয়দপুর থানার ওসি রেজাউল করীম।


বেলাল উদ্দিন ঠাকুরগাঁও শহরের হাজিপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম দবিরুল ইসলাম। তিনি ঠাকুরগাঁও সালন্দর ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার শিক্ষক।


এ ঘটনাকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলছে জামায়াত। দলের প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ঢাকায় এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, “আমরা তার মুক্তি চাই। অবিলম্বে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হোক।”


সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমার পকেটে টাকা আছে। আমাকে ধরতে যাবে কেন? অদ্ভূত প্রশ্ন আইনশৃঙ্খলাবাহিনী করছে।


“এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করছে। এটা পরিকল্পিতভাবে জামায়াতের নেতৃবৃন্দকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে কাজটা করা হচ্ছে।”


বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, “টানা চার দিন যেখানে দেশের সকল ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে সেখানে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ কোন ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ব্যবহৃত হতে পারে সেটি বোঝার জন্য বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই। স্পষ্টতই আচরণবিধির এই লঙ্ঘন গণবিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক দলটির দেউলিয়ত্ব ও নৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা প্রমাণ করছে।


“যারা ইনসাফ প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বয়ান তৈরি করে তাদের কাছে প্রশ্ন করা যেতেই পারে টাকা দিয়ে ভোট কেনা তাদের সেই দুর্নীতিবিরোধী বয়ানের সাথে কতটা সঙ্গতিপূর্ণ।”


বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হবে। ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি ২৯১ আসনে লড়ছে। অন্যদিকে জামায়াত ২২৮টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে।


মাহদী আমিন বলেন, “সৈয়দপুর বিমানবন্দর কান্ডকে বিচ্ছিন্ন বলে দেখার সুযোগ নেই। কারণ দেশের অন্যান্য জায়গার মতো জামায়াতের আমিরের নির্বাচনি আসন ঢাকা-১৫ আসনতেও একই রকম অবৈধ অনৈতিক লেনদেনের ঘটনা সংঘটিত হতে দেখা গিয়েছে। আরো দেখা গিয়েছে কুমিল্লা, নোয়াখালী, খুলনাসহ দেশের অসংখ্য জায়গায়।


“ইতিপূর্বে আমরা দেখেছি, দেশব্যাপী দলটির নেতাকর্মীরা বাসায় বাসায় গিয়ে ভোটারদের বিকাশ নম্বর ও ভোটার আইডি নিয়েছিলেন। তবে বিকাশ, রকেট বা নগদের মাধ্যমে এভাবে অবৈধ অর্থপ্রেরণ বা জান্নাতের টিকেটের প্রলোভনকে ধর্মপ্রাণ দেশবাসী ইতিমধ্যেই প্রত্যাখ্যান করেছেন।”


অর্থ দিয়ে ভোট কেনার এই অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সারাদেশে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র।


তিনি অভিযোগ করে বলেন, “গণমাধ্যমে প্রাপ্ত সংবাদ অনুযায়ী আমরা দেখতে পেরেছি, দেশের অনেক জায়গায় ভোটারদের মাঝে ভীতি ছড়াতে সেই রাজনৈতিক দলের সন্ত্রাসীরা দেশী অস্ত্রসহ বাস, পাইপ ও স্ট্যাম্প জড়ো করছে। বিভিন্ন জেলায় সহিংসতা, অতর্কিত হামলা, অগ্নিসংযোগ, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অর্থ বিতরণ করছে।


“এইসব ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত ভোটের মাঠে নানা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিসহ অনৈতিক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত সেই দলের অনেকেই ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন।”


এ সময় মাহদী আমির বগুড়ার নন্দীগ্রামে হামলায় বিএনপির এক নেতার চোখ গুরুত্বভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা তুলে ধরেন।


তিনি বলেন, “বগুড়া-৪ আসনে নন্দীগ্রামে জামায়াতের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের হামলায় খালতা মাছরাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানার চোখ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার চোখের দৃষ্টি হারানোর খবর ছড়িয়ে পড়লে তার মা স্ট্রোক করে মারা যান।”


এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও দ্রুত বিচার দাবি করে তিনি বলেন, “আমরা অতিদ্রুত দেশব্যাপী নির্বাচন কমিশন তথা রিটার্নিং অফিসার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে প্রতিটি ঘটনার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।”


তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ