মরিচে বড় লাফ, বেড়েছে খেজুরের
রমজান শুরুর আগেই ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে এক সপ্তাহের ব্যবধানে খেজুরের দাম কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে সবচেয়ে দাম বেড়েছে মরিচের। দুইদিন আগে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও তা ২০০ টাকা কেজি বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়াও লেবু ও বেগুন চড়া দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বিক্রেতারা জানিয়েছেন, রমজানে চাহিদা কমে যাওয়া, বিপুল পরিমাণ আমদানি ও সরকারিভাবে ন্যায্যমূল্যে চাল বিক্রির খবরে দরপতন শুরু হয়েছে। তবে খুচরায় এখনও তেমন প্রভাব না পড়লেও আগামী সপ্তাহ থেকে কমতে শুরু করবে বলে আশা বিক্রেতাদের।
অন্যদিকে, বেড়েছে ছোলা ও ডালের দাম। ডিমের দাম কমেছে, বেড়েছে মাংসের দাম। তবে শবে বরাতকে সামনে রেখে বিভিন্ন সময় গরুর মাংসের দর বাড়তি থাকলেও এবারের চিত্র ভিন্ন। এবার গরুর মাংসের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহী নগরীর সাহেববাজারের বিভিন্ন দোকান থেকে নিত্যপণ্যের দামের এ চিত্র পাওয়া গেছে। এ ছাড়া অন্যান্য মুদিপণ্য, শাকসবজির দাম আগের মতোই আছে। শাকসবজি বরাবরের মতো ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে আছে। মাছের চড়া দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
সাহেববাজারে ছোলা বিক্রি হচ্ছে মানভেদে কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ১৪০ টাকায়। গত সপ্তাহে ছোলা ১২০ থেকে ১৩০ কিংবা ১৩৫ টাকার মধ্যে ছিল বলে বিক্রেতারা জানিয়েছেন। ডালের মধ্যে ছোট মসুরের ডাল ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা, মোটা মসুরের ডাল ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতারা জানালেন, মসুর ডালের দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে। এছাড়া বড় মুগ ডাল ১৩০ টাকা, ছোট মুগ ডাল ১৭০ টাকা, খেসারি ডাল ১২৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে ছোট মুগ ডাল কেজিতে বেড়েছে অন্তঃত ২৫ টাকা।
অন্যান্য পণ্যের মধ্যে খোলা আটা ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, প্যাকেট আটা ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, খোলা ময়দা ৫৫ থেকে ৬৫ টাকা এবং প্যাকেট ময়দা ৭০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। খোলা চিনির মধ্যে সাদা ১০০ থেকে ১১০ টাকা ও লাল চিনি ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।
বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ এখনও স্বাভাবিক হয়নি। তবে খুচরা পর্যায়ে দামে তেমন একটা হেরফের হয়নি। বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকা ও প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১৮০ টাকা, পাম সুপার ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।
রমজানের আরেক অত্যাবশ্যকীয় পণ্য খেজুর। সাহেববাজারে খেজুর (জাহিদী) প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে। একমাস আগে এই জাতের খেজুর ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাসের ব্যবধানে কেজিতে জাহিদী খেজুরের দাম বেড়েছে ৭০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত।
ইরানি মরিয়ম খেঁজুর প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা পর্যন্ত। একমাস আগে এই জাতের খেজুর ১০০০ থেকে ১১৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাসের ব্যবধানে উন্নতমানের ইরানি মরিয়ম খেজুরের দাম ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
আর কালমি মরিয়ম খেঁজুর প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০০ টাকায়, যা একমাস আগে ৭০০ টাকায় বিক্রি হতো। আর সুক্কারি জাতের খেজুরের দামও মাসের ব্যবধানে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ৮০০ টাকা হয়েছে।
এছাড়া, আজুয়া, বরই, দাবাস, মাবরুম, মেডজুল ও আম্বারাসহ প্রায় সব ধরনের খেজুরের দাম মাসের ব্যবধানে কেজিতে ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
বর্তমানে প্রতিকেজি আজুয়া খেজুর ৮০০ থেকে ৯৫০ টাকা, বরই ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা, দাবাস ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা, মাবরুম ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, মেডজুল ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং আম্বারা ৮৫০ থেকে ৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মুন্না এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মহসিন মোল্লা বলেন, একমাস আগের তুলনায় প্রায় সব ধরনের খেজুরের দাম ১০০ টাকার ওপরে বেড়েছে। সরকার শুল্ক কমালেও সিন্ডিকেট তো ভাঙতে পারেনি। আমরা কম দাম না কিনতে পারলে কম দামে বিক্রি করবো কীভাবে?
বাজারে সাদা মুরগির ডিম প্রতিহালি বিক্রি হচ্ছে ২৮ থেকে ৩০ টাকা, লাল ডিম, ৩২ থেকে ৩৬, দেশি মুরগি ৮০ টাকা, কোয়েল পাখির ডিম ১২ টাকা হালি বিক্রি হতে দেখা গেলে। এছাড়াও বাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতিকেজি ১৮০ টাকা, সোনালী মুরগি ৩০০ টাকা, সোনালি হাইব্রিড ২৯০ টাকা, দেশি মুরগি ৫৪০ থেকে ৫৮০ টাকা, লেয়ার লাল মুরগি ৩০০ টাকা এবং সাদা লেয়ার ২৯০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। মুরগির দর গত সপ্তাহের মতোই আছে।
শবে বরাতের আগেরদিন গরুর মাংস হাড়ছাড়া প্রতিকেজি ৮০০ টাকা এবং হাড়সহ ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে খাসির মাংসের দাম প্রতিকেজিতে ১০০ টাকা বেড়ে ১২০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
এছাড়া বাজারে আকারভেদে প্রতিকেজি রুই মাছ ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, কাতলা মাছ ৩২০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাবদা ও শিং মাছ ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, বেলে ও আইড় ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
ট্যাংরা প্রতিকেজি ৬০০ টাকা, শোল মাছ ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা, চাষের কই ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২৫০ টাকা এবং গলদা চিংড়ি বিক্রি হয়েছে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে।
শীতকালীন শাকসবজির সরবরাহে ঘাটতি না থাকলেও বেশকিছু সবজির দাম বেড়েছে। বাজারে নতুন আলু মানভেদে প্রতিকেজি ২০ থেকে ২৫ টাকা, সবজির মধ্যে কাঁচামরিচ ২০০ টাকা, বেগুন, মানভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা, মূলা ৩০, বাঁধাকপি ৩০, ফুলকপি ৩০, শিম ৩০ থেকে ৮০, শসা ৮০, টমেটোর দাম ৩০ এছাড়া শসা ৩০, মিষ্টিকুমড়া ৫০, করলা ১২০, মটরশুঁটি ৮০, গাজর ৪০ টাকা, বরবটি ৬০ ও লাউ ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে দেশি পেঁয়াজ প্রতিকেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতিকেজি দেশি রসুন ২৩৫, চায়না রসুন ২০০ থেকে ২২০ টাকা, ভারতীয় আদা ১০০ থেকে ১২০ টাকা, চায়না আদা ২২৫ টাকা, দেশি আদা ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।