দুর্গাপুরে সরিষা খেতে পানি যাওয়ায় উভয় পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০
রাজশাহীর দুর্গাপুরে বরেন্দ্র গভীর নলকূপ ডিপ টিউবয়েলের পানি সরিষা খেতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে ডিপ অপারেটর সহ উভয়পক্ষের ১০ জন আহত হয়েছে। আহতদের দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০ টার দিকে উপজেলা কিশমত গনকৌড় ইউনিয়ন এলাকার কিশমত বগুড়া গ্রামের কান্তার বিলে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) সেচ প্রকল্পের ড্রাইভার কাম অপারেটর রাব্বানী গভীর রাতে ধান চাষের জন্য ডিপের পানি সেচ দেওয়া শুরু করে। এসময় দুলালের সরিষা খেতে পানি চলে যায়।
যার সূত্র ধরে, অপারেটর রাব্বানীকে চড়থাপ্পড় মারেন দুলাল। অপারেটর বাড়িতে ফিরে তার আত্মীয় স্বজনকে জানালে প্রতিশোধ নিতে মাঠে গেলে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে উভয়পক্ষের মাঝে তুমুল সংঘর্ষ বাঁধে।
এতে রাব্বানীসহ তার সমর্থক, শাহজাহান, জহুরুল, সাদ্দাম, অপরদিকে দুলাল সহ তার সমর্থক, মজিবর, খালেক, নাফিজ দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন।
সরিষা চাষি দুলালের সমর্থকেরা জানান, আমাদের সরিষা খেত সবে মাত্র তোলা শুরু করেছি। দুই দিনেই সে সরিষা তোলা শেষ হয়ে যেত। ডুবে যাবে তাই সেচ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিলো ডিপ অপারেটর রাব্বানীকে। সে কোনো কথা না শুনেই সারারাত সেচ দিয়ে সরিষা খেত তলিয়ে দিয়েছে।
এ কথা বলতে গিয়ে তারা হামলা চালায়। অপারেটর রাব্বানী সমর্থকেরা জানান, কমপক্ষে ৫০ বিঘা ধান খেতে পানি সেঁচে দেওয়া হয়েছিল। সরিষার জমি নিচু থাকায় পানি ঢুকে গেছে। তারা সকালে জমিতে হাল চাষীকে মারধর করেছে। আমরা কথা বলতে গেলে আমাদের উপর অতর্কিত হামলা করে আহত করে।
এবিষয়ে দুর্গাপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, মারামারি ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।