বগুড়ায় গো-খাদ্যের পছন্দের তালিকায় কচুরিপানা!
আমন মৌসুমে ধান কাটা-মাড়াই শেষ, মাঠে ধানের কাঁচা গাছ না থাকায় বিভিন্ন প্রজাতির লাগানো ঘাসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি দেশের বাজারে খড়, ভূষি ও খৈলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বগুড়ার সোনাতলার কৃষকরা বিকল্প গো-খাদ্য হিসেবে গরুকে কচুরিপানা খাওয়াচ্ছেন। এতে করে ওই উপজেলার কৃষকেরা আর্থিকভাবে সাশ্রয় পাচ্ছেন।
উপজেলার বিভিন্ন বাজারের তথ্য সংগ্রহে জানা যায়, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের বাজারে নিত্যপণ্যের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে গো-খাদ্যের দাম। অনেকে বাধ্য হয়েই সাধ্য মতো খড়ের আটি কিনছেন। ১০০ খড়ের আটি সাড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিভিন্ন ধরনের ফিড- প্রকার ভেদে সাড়ে ৭০০ থেকে ১ হাজার ৩৫০ টাকা এবং গমের ভুষি প্রকার ভেদে প্রতি বস্তা ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে করে সাধারণ খামারি ও কৃষকেরা গবাদিপশু পালনে হিসশিম খাচ্ছেন। উপায়ন্তর না দেখে কৃষকরা খাল-বিল, পুকুর-জলাশয় থেকে কচুরিপানা সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছে।
মাঘ-ফাল্গুন মাসে এদেশের কৃষকরা যখন বোরো ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন, ঠিক সেই মুহূর্তে বগুড়ার সোনাতলায় গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। গরুর বিকল্প খাবার হিসেবে সংশ্লিষ্ট উপজেলার কৃষকরা নদী-নালা, খাল-বিলে গরুর খাবারের জন্য কচুরিপানা সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। গো-খাদ্য হিসেবে কচুরিপানা প্রোটিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ সস্তা ও কার্যকর বিকল্প খাবার।
কচুরিপানা গরুর অন্য খাবারের সাথে খাওয়ালে বদ হজম ও কৃমির সমস্যা এড়ানো যায় এবং গরুর পুষ্টি চাহিদা পূরণ হয় বলে কৃষক খুব সহজেই হাতের নাগালে পেয়ে তাদের গৃহপালিত গবাদি পশুকে বিকল্প খাবার হিসেবে কচুরিপানা খাওয়াচ্ছেন।
এ বিষয়ে সোনাতলা সদর ইউনিয়নের সুজাইতপুর গ্রামের বাসিন্দা ছাইফুল ইসলাম বলেন, তার ৪টি গবাদি পশু রয়েছে। বর্তমানে গো-খাদ্যের সংকটের কারণে খড়, ভূষি, ঘাস দাম অনেক বেশি। তাই বাধ্য হয়ে গরুকে কচুরিপানা খাওয়াতে হচ্ছে। একই গ্রামের মানিক মিয়া বলেন, তার গৃহপালিত ৭টি গরু রয়েছে। প্রতিদিন গরুর খাবারের জন্য ৩শো থেকে ৫শো টাকা লাগে।
এই দ্রব্যমূল্যের বাজারে স্ত্রী-সন্তানদের মুখে অন্ন জোগাতে হিমশিম খাচ্ছি। তাই গবাদিপশুকে কচুরিপানা খাওয়াতে হচ্ছে। একই গ্রামের আব্দুল মোত্তালেব বলেন, প্রতিদিন ভ্যান গাড়ি নিয়ে পার্শ্ববর্তী খালে গিয়ে কচুরিপানা সংগ্রহ করে বাড়িতে এনে ৪টি গরুকে বিকল্প খাবার হিসেবে কচুরিপানা দিচ্ছি। এছাড়াও তারা আরও বলেন, যেভাবে গো-খাদ্যের দাম বাড়ছে, তাতে করে কৃষক গরু পালনের আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, পরিষ্কার পানির কচুরিপানা খাওয়াতে হবে। এটি অন্য শুকনো খড় বা দানাদার খাদ্যের সাথে মিশিয়ে পরিমাণ মত খাওয়ালে গবাদি পশুর কোন ক্ষতি হয় না।
তবে এই এলাকার কৃষকরা গো-খাদ্যের সংকটের কারণে তাদের গৃহপালিত গবাদি পশুকে অবাধে কচুরিপানা খাওয়াচ্ছে। অতিরিক্ত খাওয়ালে গরুর মুখ চুলকানো এবং হজমের সমস্যা হতে পারে।