সোমবার, এপ্রিল ২০, ২০২৬
বাজার মনিটরিং জোরদার করতে হবে

জ¦ালানি তেলের বাজারে বিশৃঙ্খলা

সোনার দেশ ০৭ মার্চ ২০২৬ ১১:২৫ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ০৭ মার্চ ২০২৬ ১১:২৫ অপরাহ্ন
জ¦ালানি তেলের বাজারে বিশৃঙ্খলা

যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বাড়তে পারে, এই আলোচনা শুরু হতে না হতেই ফিলিং স্টেশনে তেলের সংকট কিভাবে হয়? এমনই অনেক প্রশ্ন পেট্রোল- ডিজেল গ্রাহকদের মধ্যে। এ ধরনের প্রশ্ন খুবই স্বাভাবিক। শুধু জ¦ালানি তেলের ক্ষেত্রেই নয়- নিত্য-প্রয়োজনীয় পণ্যের সঙ্কট তৈরির ক্ষেত্রে এমনই প্রশ্নের উদ্রেক হয়- কিন্তু উত্তর পাওয়া মোটেও সম্ভব নয়। একে অপরকে দায়ি করার মধ্যেই প্রশ্ন হাবুডুবু খেতে খাকে। সাধারণ মানুষের জন্য দুর্ভোগই শুধু বহাল থাকে। 


যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের ওপর এক অন্যায্য যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে। ইতোমধ্যেই যুদ্ধ দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে। এই যুদ্ধে পৃথিবীর সবদেশেই কমবেশি প্রভাব পড়েছে। যুদ্ধের ফলেই বিশ্ববাজারে জ¦ালানি তেলের দাম পাল্লা দিয়ে বাড়তে শুরু করেছে।  মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলো আগামী কয়েক দিনের মধ্যে উৎপাদন বন্ধ করে দিতে পারে- কাতারের জ্বালানি মন্ত্রীর ঘোষণার পরই বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। কাতার এনার্জির প্রধান নির্বাহী এবং দেশটির জ্বালানি মন্ত্রী সাদ আল-কাবি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিকে ধসিয়ে দিতে পারে। শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৯ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ৯৩ ডলার ছাড়িয়েছে, যা ২০২৩ সালের শরতের পর সর্বোচ্চ।


বিশ্ব জ¦ালানি বাজারের কম্পমান পরিস্থিতি বাংলাদেশেও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। যদিও সরকার দেশের মানুষ আশ্বস্ত করছে যে, দেশে পর্যাপ্ত তেলের মজুদ আছে, উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। কিন্তু সরকারের এই ঘোষণাকে ব্যবসায়ী বা ভোক্তা কেহই আমলে নিচ্ছেন না। ফলে জ¦ালানি তেলের মনগড়া সঙ্কট তৈরি করে এক ধরনের নৈরাজ্যের সৃষ্টি করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর প্রথমদিকে প্রশ্ন উঠেছিল- তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার তো একটা নিয়ম করে দিতে পারে? সরকার সেটা করেছেও- কোন যানের জন্য কতটুকু জ¦ালানি সরবরাহ দেয়া যাবে তা বেধে দিয়েছে। এতেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে? মোটেও নয়- কিছুটা সুবিধা পাওয়া যাবে হয়তো কিন্তু দুর্বৃত্তায়নের জন্য কৌশলের ঘাটতি হয় না দেশে। ভয়ে-ভীতিতে হোক কিংবা অধিক মুনাফা লাভের আশায় হোক পরিস্থিতিকে বেসামাল করে তোলার চেষ্টা হচ্ছে।


ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ ভাগই বিদেশ থেকে আমদানি করে বাংলাদেশ। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতময় পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর থেকেই জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মজুদ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। যার প্রভাব পড়েছে দেশের জ্বালানি তেলের বাজারে। সম্প্রতি ফিলিং স্টেশন থেকে ‘সংকট তৈরি হয় কিনা’ এমন শঙ্কা থেকে গ্রাহকদের অধিক মাত্রায় তেল কেনার প্রবণতা দেখা যায়। আবার অসাধু ব্যবসায়ীরা ফায়দা লাভের চেষ্টাও করছে। সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে নৈরাজ্য ঠেকাতে মনিটরিং জোরদার করে পরিস্থিতি মোকবিলা করতে হবে। যাতে ভয়-আতঙ্ক ছড়িয়ে স্বার্থান্বেষীরা ফায়দা লুটতে না পারে।