সোমবার, এপ্রিল ২০, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র এখন ভিয়েতনামের ছায়া দেখছে!

ইরানের বিরুদ্ধে চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধ

সোনার দেশ ০৯ মার্চ ২০২৬ ১২:০৮ পূর্বাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ০৯ মার্চ ২০২৬ ১২:০৮ পূর্বাহ্ন
ইরানের বিরুদ্ধে চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড হয়তো ধরেই নিয়েছিলেন ইরানের ওপর যুদ্ধাভিযান এ বছরের জানুয়ারিতে ভেনিজুয়েলা অভিযানের মতোই সহজ হবে। ভেনিজুয়েলায় বিশেষ বাহিনী প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে বন্দি করার পর দ্রুত দেশটির তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু গোয়ার্তুমি যে সব জায়গায় একই রকম হয় না- তা হয়তো হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন ট্রাম্প। ইরান অনেক বেশি সুসজ্জিত এবং শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে ইতোমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে। খামেনিকে হত্যার পরও ইরান সামরিকভাবে পাল্টা জবাব দেয়া বন্ধ করেনি।


ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধের এক সপ্তাহ পার হয়েছে, আর এরমধ্যে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অশান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সামরিক সাফল্যকে পরিষ্কার ভূ-রাজনৈতিক জয়ে রূপান্তর করতে পারবেন কিনা তা নিয়ে বাড়তে থাকা ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন।


সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়া এবং স্থল, জল ও আকাশপথে ইরানি বাহিনির ওপর বিধ্বংসী আঘাত সত্ত্বেও এই সংকট দ্রুত একটি আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। এটি ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে আরো দীর্ঘায়িত এক সামরিক সংঘাতে লিপ্ত থাকার হুমকির মুখে ফেলেছে শুধু তাই নয়-যুদ্ধের পরিণতি কী হয় তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ভাবাচ্ছে।


যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর এক অত্যন্ত গোপনীয় প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য- যা ট্রাম্পের যুদ্ধ যুদ্ধ খেলার উন্মাদনাকে হাস্যকর করে তুলতে পারে। ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালালেও তা সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই সামান্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। ৭ মার্চ দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে এই কথা জানানো হয়। মার্কিন ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিলের (এনআইসি) তৈরি করা এই শ্রেণিবদ্ধ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘এমনকি যদি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকেও হত্যা করা হয়, তবু দেশটির সামরিক ও ধর্মীয় নেতৃত্ব বিদ্যমান উত্তরাধিকার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রাখতে সক্ষম হতে পারে।’ এবং সেটি হয়েছেও।


তবুও ট্রাম্পের আস্ফালনের শেষ নেই। তিনি যে বিশ্বের একচ্ছত্র নেতা- সেটাই বিশ্বের অন্য দেশ ও জাতিসমূহকে জানান দিচ্ছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তিনি ‘বিশ্বের প্রতি অনুগ্রহ করেছে।’ বলে দাবি করেঝেন। শনিবার ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের কাছে তিনি এমনই মন্তব্য করেছেন। কতটা অসুস্থ- উন্মাদ হলে এমন ঔদ্ধত্য দেখাতে পারেন? ইরানি কর্তৃপক্ষের মতে, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩৩০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের ওপর অন্যায় যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে ‘যুদ্ধাপরাধ’ করে চলেছেন, বিশ্ব নেতৃত্ব তা নিরবে প্রত্যক্ষ করছেন। যার সমাধান রাজনৈতিকভাবেই সঙ্গত হতো- কিন্তু সেটাকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এ দায় বিশ্ব নেতৃত্ব এড়াতে পারেন না।


আমেরিকা যদি যুদ্ধে ইরানকে পরাজিতও করে, তারপরও নৈতিক জয় ইরানেরই হবে। ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধের মধ্যে ভিযেতনামের ছায়া দেখতে পাচ্ছে। সেটা যদি হয় আমেরিকার কর্তৃত্ববাদিতার অনেকটাই খর্ব হবে তা বলাই যায়।