নারীর প্রতি সহিংসতা বাড়ছে
নতুন সরকারের জন্য অন্য চ্যালেঞ্জের সাথে দেশে ক্রমবর্ধমান হারে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের প্রবণতাও মোকাবিলা করতে হবে। এটি এমন এক ইস্যু যা দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির ধারণাকে সামনে আনে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতিই মূলত এরজন্য দায়ি। নতুন সরকারের কাছে দেশের মানুষের প্রত্যাশা- সরকার সমস্যাটিকে নির্দিষ্ট করে বিবেচনা করবে এবং প্রতিশ্রুত আইনের শাসনের সূচনা করবে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের নারী ও কন্যা নির্যাতন বিষয়ক মাসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সারা দেশে অন্তত ৩২ জন নারী ও কন্যাশিশু হত্যার শিকার হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৯ জন কন্যাশিশু, যাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ১৮৩ জন নারী ও কন্যাশিশু বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৭৩ জন কন্যা এবং ১১০ জন নারী। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৩২ জন, যাদের মধ্যে চার কন্যাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) তথ্য অনুযায়ী ফেব্রুয়ারি মাসের নারী নির্যাতনের পরিস্থিতি আরো বেশি উদ্বেগজনক। সংগঠনটি তাদের প্রতিবেদন তথ্য বলছে- ফেব্রুয়ারি মাসে কমপক্ষে ২৩৬ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার অন্তত ৪৫ জন, যাদের ২৪ জনের বয়স ১৮ বছরের কম। ১০ জন নারী ও কন্যাশিশু গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন এবং ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৩ জনকে। যৌন নিপীড়ণের শিকার হয়েছেন ৯০ জন নারী ও কন্যাশিশু, যার মধ্যে ১১ জন শিশু।
নারী নির্যাতন ক্রমবর্ধমান হারে যে বৃদ্ধি পাচ্ছে তা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে অভিযোগের সংখ্যাধিক্য তারই সাক্ষ্য দেয়। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ৮ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলনে ৯৯৯-এর প্রধান ডিআইজি মহিউল ইসলাম জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে অভিযোগ করার প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। পুলিশের দেয়া তথ্যমতে, ২০২৩ সালে ৯৯৯-এর মাধ্যমে ২৬ হাজার ৭৯৮ জন নারীকে জরুরি সেবা দেয়া হয়।
২০২৪ সালে এই সংখ্যা কিছুটা কমে ২৩ হাজার ৩৩ জন হলেও ২০২৫ সালে তা এক লাফে বেড়ে দাঁড়ায় ৩২ হাজার ৩৮৬ জনে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৯ হাজারেরও বেশি নারী অতিরিক্ত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ বাড়ার অর্থই হলো- নারীদের প্রতি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পরিধি বাড়ছে।
এ বছর আন্তর্জাতিক নারী দিবসের মূল প্রতিপাদ্য- ‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার।’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে বাংলাদেশেও উদযাপিত হয়েছে দিবসটি। অর্থাৎ পদক্ষেপটা আজকে নিতে পারলেই আগামীতে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। পদক্ষেপ নেয়ার সদিচ্ছাটাই হবে নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কার্যকর উপায়।