দেখা মিলছে আমের গুটির
মার্চের প্রথম সপ্তাহে রাজশাহী অঞ্চলের কিছু গাছে আমের গুটির দেখা মিলেছে। তবে এবার প্রায় সব গাছে আমের মুকুল আসায় এবার ভালো ফলনের আশা করছেন চাষিরা। তবে শঙ্কিত হচ্ছেন কুয়াশার কারণে। এখনও ভোরে অনেক যায়গায় দেখা মিলছে কুয়াশারা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর এ বছর রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও নাটোর এই চার জেলায় ৯২ হাজার ৫৫২ হেক্টর জমিতে আম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টন। গাছ আছে ৩ কোটি ৪৯ লাখ ৬০ হাজার ৫৫৪টি।
রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও পবা উপজেলার কয়েকটি বাগান ঘুরে দেখা যায়, আম গাছে ফল ধরতে শুরু করেছে। চাষিরা এই পর্যায়ের ফলকে ‘গুটি’ বলে থাকেন। তবে এখনও অনেক গাছে মুকুল আছে। অনেক গাছে হপার পোকার আক্রমণও দেখা গেছে। হপার পোকা দমনে কীটনাশক ব্যবহার করছেন বাগান মালিকরা।
পবা বালানগর গ্রামের আমচাষি শামীম আখতার বলেন, আমাদের সব গাছে মুকুল এসেছে। বেশকিছু গাছে এখনও মুকুল আছে। আশা করা যাচ্ছে এবার ভালো ফলন হবে। গেল বছরে আমের দাম পাওয়া যায়নি। এবার কি হবে তা বলা যাচ্ছে না।
বাঘা উপজেলার আম উৎপাদক শফিকুল ইসলাম রফতানিকারকদের জন্য আম সরবরাহ করেন। তিনি বলেন, এবার সব গাছেই মুকুল এসেছে। অনেক গাছে দেখা মিলেছে আমের গুটির। তবে ভোরের দিকে কুয়াশারা দেখা মিলছে। যা মুকুলের জন্য ক্ষতি।
সোহেল রানা জানান, এ বছর তার ২০০ বিঘা জমির বাগানে শতভাগ গাছে মুকুল দেখা গেছে। তিনিও রফতানিকারকদের আম সরবরাহ করেন। তিনি বলেন, আমি সারাবছর গাছের যত্ন নিই। এবার সক গাছে এস সঙ্গে মুকুল এসেছে। কিছু গাছে গুটিও এসেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ড. আজিজুর রহমান এই বছর আমের অন ইয়ার। সাধারণত ২০ শতাংশ গাছে এক বছর পর পর ফল আসে। তবে এ কারণে ফলনের তারতম্য কমই ঘটে থাকে। তবে এবার ব্যতিক্রম হয়েছে। প্রায় সব গাছে দেখা মিলেছে আমের মুকুলের। তবে মুকুল ঝড়ে পড়া রোধে চাষিদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে নিয়মিত।
তিনি বলেন, যেসব আম গাছে প্রচুর ফল ধরেছিল, সেসব গাছে এ বছর কম ফল ধরতে পারে। এই পরিস্থিতি আবহাওয়া, পরাগায়নের সমস্যা ও রোগবালাই ইত্যাদি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রীষ্মকালীন ফল আম উচ্চ তাপমাত্রা পছন্দ করে। তবে চাষের সময় খুব বেশি তাপমাত্রা ভালো নয়। এবার শোনা যাচ্ছে তাপমাত্রা বাড়বে। গেল বছরে কম ছিল। মুকুল ও গুটি আসার সময়ের আদর্শ তাপমাত্রা ১৫-২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু বর্তমানে দিনের তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠে যাচ্ছে এবং রাতের তাপমাত্রা ১৩ ডিগ্রির আশেপাশে নেমে যাচ্ছে।