সোমবার, এপ্রিল ২০, ২০২৬
গণতন্ত্রের পথচলা সফল হোক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ

সোনার দেশ ১১ মার্চ ২০২৬ ১১:০২ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ১১ মার্চ ২০২৬ ১১:০২ অপরাহ্ন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) থেকে শুরু হচ্ছে। ১৯ বছর পর বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে সরকার গঠন করেছে।  ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এটিই হবে প্রথম অধিবেশন।


রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সকাল ১১টায় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। রাষ্ট্রপতির এই ভাষণ মন্ত্রিসভা অনুমোদন করবে এবং পরে সংসদ সদস্যরা তা নিয়ে আলোচনা করবেন। সংসদীয় রীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে রাষ্ট্রপতি প্রতি বছর সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেন। 


এরআগে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৭২(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেন।


জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে ঘিরে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান। এর আগে একই দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।


প্রথম অধিবেশনে বিধি অনুযায়ী সভাপতি নির্বাচন, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। সংসদ নেতা তারেক রহমান এই প্রক্রিয়া আহ্বান করবেন। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে বিধি মোতাবেক শপথগ্রহণ করাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর পুনরায় সংসদের অধিবেশন বসবে। ওই অধিবেশনে বিভিন্ন প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে এবং সেগুলোর ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। পরে আইনমন্ত্রী জাতীয় সংসদে মোট ১৩৩টি অর্ডিন্যান্স উত্থাপন করবেন। 


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশন ঘিরে সংসদ ভবন এলাকাসহ আশপাশ এলাকায় যে কোনো প্রকার অস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য, ক্ষতিকারক ও দূষণীয় দ্রব্য বহনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছ ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। একই সঙ্গে এসব এলাকায় কোনো প্রকার সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা, বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।


এরমধ্যে বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনে জারি করা স্পর্শকাতর বেশ কিছু অধ্যাদেশ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বিএনপি সরকারের। তবে নবনির্বাচিত এই সরকার দায়মুক্তি অধ্যাদেশ বহাল রেখে এর আইনি ভিত্তি দিতে পারে বলে সংবাদ মাধ্যমের খবর। তাদের আপত্তি আছে আলোচিত সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের আদেশসহ বেশ কিছু অধ্যাদেশ নিয়ে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশগুলোর আইনি ভিত্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে। এগুলোর ভাগ্যে কী রয়েছে-চলছে এমন আলোচনা।


আইন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। এসব অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপনের প্রক্রিয়া ও বিধান নিয়ে কথা বলেন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ১৩৩টি অধ্যাদেশ প্রণয়ন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে আমরা এসব উপস্থাপন করতে বাধ্য। কিন্তু সেই ১৩৩টি অধ্যাদেশের কোনটা কীভাবে গৃহীত হবে, তা সংসদের এখতিয়ার।


জুলাই অভ্যুত্থান এবং পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার পর্যন্ত সময়ে অনেক চড়াই-উৎরাই অতিক্রম করে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে আছে অনেক প্রতিশ্রুতি। দেশের ভোটাররা সে সব প্রতিশ্রুতির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেই বিএনপিকে বিপুল ভোটে জয়ী করেছে। বিএনপি সরকারের সামনে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ- এর মধ্যে দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটানো। আজ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারার সূচনা হলো। গণতন্ত্র অনুশীলনের কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে সংসদীয় ধারাকে এগিয়ে নিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গণতান্ত্রিক ধারা যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয় তার জন্য সরকার ও বিরোধী দলীয় রাজনীতির সমান দায়িত্ব রয়েছে। এটিই জনগণের ইচ্ছে ও আকাক্সক্ষা। সেই আকাক্সক্ষার পথ ধরেই বিএনপি সরকার ও বিরোধীদল দেশের সার্বিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে এটাই প্রত্যাশা।