সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

সাপাহারে রাস্তার পাশের মরা গাছ গুলো এখন মরণফাঁদ

বাবুল আকতার, সাপাহার ১৩ মার্চ ২০২৬ ০৪:৫৫ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
বাবুল আকতার, সাপাহার ১৩ মার্চ ২০২৬ ০৪:৫৫ অপরাহ্ন
সাপাহারে রাস্তার পাশের মরা গাছ গুলো এখন মরণফাঁদ

নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলার বিভিন্ন সড়কে সারি সারি দাঁড়িয়ে থাকা মরা গাছগুলো এখন পথচারিসহ এলাকার মানুষের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থাকলেও যেন দেখার কেউ নেই রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা এসব গাছ যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে, এমন আতঙ্ক ও আশঙ্কা নিয়ে চলাচল করছে ওই এলাকার পথচারিসহ সকল ধরনের যানবাহন। 

প্রতিনিয়ত ছোটোখাটো দুর্ঘটনাও ঘটে চলেছে। দীর্ঘদিন ধরে গাছগুলো মৃত অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকলেও কোন পক্ষই গাছগুলো কর্তনের ব্যবস্থা করছে না ফলে দিনে দিনে মরা গাছগুলো এখন ভয়ংকর অবস্থায় দঁড়িয়ে রয়েছে। অল্প বাতাসেই ভেঙে পড়ছে মরা গাছ ও গাছের ডালপালা। রাস্তার পাশের জমিতে আবাদ করছে জমির মালিকরা।

সাপাহার বনবিট অফিসার জাহাঙ্গীর আলম বলছেন, রাস্তাসহ যে কোন বনবিটে টেন্ডার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সাপাহার নির্বাহী অফিসার গাছ রোপন বিভাগগুলোর কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিলেই আমরা মূল্য নির্ধারণ করে মৃত গাছগুলো কর্তনের ব্যবস্থা গ্রহণ করব। 

নিশ্চিন্তপুর গ্রামের ভ্যানচালক আব্দুস সালামসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ভ্যানচালক ও পথচারিরা জানান, প্রতিদিন তাদেরকে এই রাস্তাগুলো দিয়ে দিনে এবং রাতে অনেক বার চলাচল করতে হয় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। কয়েকদিন আগেই দিনের বেলায় এলাকার কিছু অসাধু ব্যক্তি চুরি করে রাস্তার মরা গাছ কাটতে গিয়ে নিশ্চিন্তপুর গ্রামের এক মেয়ে শিক্ষার্থী রাস্তায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে মর্মান্তিক আহত হয়। 

এছাড়া বেশ কয়েকদিন পূর্বে বাসুল ডাঙ্গা মোড়ের অদুরে সাপাহার-গোদাগাড়ী হাইওয়ে রাস্তায় রাতের বেলায় আকষ্মিক একটি গাছ ভেঙে পড়লে রাস্তায় চলাচলকারী পথচারি ও যানবাহনগুলো ডাকাত রাস্তায় গাছ ফেলেছে ভেবে থানা পুলিশে সংবাদ দেয়। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে দেখতে পায় কোন চোর বা ডাকাত নয় বাতাসে রাস্তার পাশের মরা গাছ ভেঙে রাস্তায় পড়ে রাস্তা বেরিকেড হয়ে গেছে। পুলিশ সদস্যরা রাস্তা হতে ভেঙে পড়া মরা গাছ সরিয়ে রাস্তায় জান চলাচল ক্লিয়ার করেন।

সামনে আসছে চৈত্র-বৈশাখ মাস কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে রাস্তার পাশের মরা গাছগুলো ভেঙে পড়ে অনেক প্রাণহানী ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। বাসুলডাঙ্গা গ্রামের আজমির, দেলোয়ার নামের ভ্যানচালক ও ভ্যানযাত্রীরা বলেন, একটু বাতাস হলেই এই রাস্তা দিয়ে অত্যান্ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। না জানি কখন কার মাথার উপর ভেঙে পড়ে গাছগুলো। কেন যে এসব গাছ কাটা হচ্ছে না আমরা কেউ তা জানি না।

উপজেলাবাসী তথা ওই পথগুলো দিয়ে হরহামেশা চলাচলকারী পথচারি ও যানবাহন চালকরা দ্রুত রাস্তার পার্শ্বের এই ভয়ঙ্কর অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকা মরা গাছগুলো কর্তন কর গবে। সাপাহার উপজেলা নির্বাহী অফিসের মাসিক আইশৃংখলার মিটিংএ প্রেসক্লাব সভাপতি সাংবাদিক তছলিম উদ্দীন বিষয়টি উত্থাপন করলে সকল ইউপি চেয়ারম্যান ও উপস্থিত সকলেই মরা গাছের বিষয়ে একমত পোষন করেন। শেষে  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমান রিয়াজ অচিরেই বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, এলজিইডি ও বন কর্মকর্তাদের নিয়ে মিটিং করে মরা গাছগুলি কর্তনের আশ্বাস প্রদান করেন।