সোমবার, এপ্রিল ২০, ২০২৬
আমেরিকার নয়া যুদ্ধকৌশল

ইরানকে দমানো যাবে কি?

সোনার দেশ ১৩ মার্চ ২০২৬ ১০:৪৫ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ১৩ মার্চ ২০২৬ ১০:৪৫ অপরাহ্ন
ইরানকে দমানো যাবে কি?

প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ আগামী এক সপ্তাহে আরো জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার সকালে ফক্স নিউজের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আগামী সপ্তাহে ইরানে ‘খুবই কঠোর’ আঘাত হানার পরিকল্পনা করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ট্রাম্পের এই মন্তব্যের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।


ট্রাম্পের এই ঘোষণার আগে থেকেই সংবাদ মাধ্য চাউর হচ্ছিল যে, যুদ্ধ কৌশল এখন ‘প্ল্যান বি’-তে নিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এই পরিকল্পনায় দুটি কৌশল আছে। এর মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলটি হল- কুর্দি বা বালুচদের মতো সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে কাজ করে তাদের বিদ্রোহ চাঙ্গা করা, যাতে ইরান ভেঙে পড়তে শুরু করে। তবে এই কৌশলের সফল সম্ভাবনা উপলুব্ধ হচ্ছে না। কেননা ইরানের বিরুদ্ধে চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধ-পরিস্থিতি ইরানের জন্য ‘শাপে বর’ হয়ে দেখা দিয়েছে।


যুদ্ধের কারণে ইরানের জনগণকে অনেকটাই ঐক্যবদ্ধ করেছে। ইরানে যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্তত চার জন জ্যেষ্ঠ মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স-এর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক হামলা সত্ত্বেও ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের পতনের কোনো সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছে না ওয়াশিংটন।


ইরান যুদ্ধ এবং ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতনের সম্ভাবনা নিয়ে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন জমা পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা দপ্তরে। এক মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, হামলা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানে সরকার পতনের কোনো সম্ভাব্যতা বা সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না ; উপরন্তু সাধারণ জনগণের মধ্যে ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে, যা গত ডিসেম্বর-জানুয়ারির সরকারপতন আন্দোলনের সময়ে অনেকাংশ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।


ইরানের বিরুদ্ধ যুদ্ধ শুরু থেকেই পরিকল্পনা মাফিক এগোয়নি। পরিকল্পনা ছিল, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এবং ধর্মীয় ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) যত বেশি সম্ভব শীর্ষ নেতাকে হত্যা করা, যাতে ইরানে ক্ষমতাসীনরা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং তাদের ইসলামি শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। কিন্তু এই পরিকল্পনা শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছে, যেমনটি আগেই যুক্তরাষ্ট্রের এক গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছিল।


ইরানের শাসনব্যবস্থায় নতুন একজন নেতা আছেন। আর নতুন নেতা মুজতবা খামেনি যদি নিহতও হন, সেক্ষেত্রেও দায়িত্ব নেওয়ার জন্য এক বা একাধিক নেতাকে এরই মধ্যে বেছে রাখা হয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।


ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ নিয়ে এখন অনেকটাই বেকায়দায় পড়েছে। পরিস্থিতিকে তারা না পারছে গিলতে, না পারছে উগলে দিতে। গেয়ার্তুমি করলে বুদ্ধি যে নাশ পায় তা ডনাল্ড ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর বেসামাল তৎপরতা দেখলেই বুঝা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধ জয়ের জন্য ট্রাম্পের কাছে একটা পথই খোলা আছে আর সেটি হলো ইরানের উপর পারমাণবিক বোমার ব্যবহার। বিশ্ব বাস্তবতার নিরিখে সেটা কতটা সম্ভব তা প্রশ্ন সাপেক্ষে।


ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পরাজয় ঘটে গেছে। বরং যে কোনো ব্যতাবরণ সৃষ্টি করে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে যাওয়া সম্মানের হবে। ট্রাম্পের অহংকারের সলতে যে আলো জ¦ালানোর উপযোগী নয় তা স্বয়ং বুঝতে পেরেছেন। এখন কিছু করলে সেটা লম্ফঝম্পই হবে।  


মার্কিন প্রেসিডেন্ট কয়েকবার বলেছেন যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হবে, তবে ওয়াশিংটন এখনো সামরিক অভিযান শেষ করার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করেনি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলে তেহরান তা মেনে নেবে কি না, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়।