পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজ জয়
শেষ ওভার পর্যন্ত বোঝা যাচ্ছিল না ম্যাচের ফল কার পক্ষে যাবে। রিশাদ হোসেনের দুর্দান্ত ঘূর্ণি জাদু বদলে দিয়েছে গতিপথ। ১১ রানে পাকিস্তানকে হারিয়ে অসাধারণ জয় পেল বাংলাদেশ দল। ২-১ ব্যবধানে সিরিজও নিজেদের করে নিল মেহেদী হাসান মিরাজের দল। দীর্ঘদিন রাজনৈতিক কারণে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেখা না গেলেও, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ফেরাটা দারুণ রকমের হয়ে উঠেছে।
ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক সিরিজে লাল সবুজেরা প্রথমবারের মতো জয়লাভ করেছে। সিরিজের এই জয়ে বাংলাদেশের ওয়ানডে বিশ্বকাপের সরাসরি খেলার সম্ভাবনা আরও শক্তিশালী হলো। সিরিজের প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে জয় পেলেও দ্বিতীয় ম্যাচে বাজেভাবে হেরে যায় বাংলাদেশ। তবে শেষ ম্যাচে উত্তেজনা ছড়িয়ে ১১ রানের জয় পায় টাইগাররা। যা শুধু সিরিজ জয়ই নিশ্চিত করেনি, র্যাংকিংয়ে উন্নতিরও পথ প্রশস্ত করেছে।
আগামী বছরের ৩১ মার্চ, আইসিসি ওয়ানডে র্যাংকিংয়ের ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা হবে কে সরাসরি বিশ্বকাপে খেলবে। স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে ছাড়াও র্যাংকিংয়ের শীর্ষ ৮ দল সরাসরি সুযোগ পাবে। এছাড়া স্বাগতিক আরেক দল নামিবিয়া খেলবে। যদি দক্ষিণ আফ্রিকা শীর্ষ ৮-এর মধ্যে থাকে, তবে ৯ নম্বর দলকেও সরাসরি খেলার সুযোগ মিলবে। বর্তমানে বাংলাদেশ সেই অবস্থানে পৌঁছে গেছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয় করে তারা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পেছনে ফেলে ৯ নম্বরে উঠে এসেছে।
সিরিজ শুরু করার সময় বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট ছিল ৭৬। ২-১ জয় দিয়ে তাদের রেটিং বেড়ে ৭৯-এ পৌঁছেছে। অপরদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রেটিং কমে ৭৭, ফলে বাংলাদেশ তাদের পেছনে ফেলেছে। সিরিজ হারের পরও পাকিস্তান রয়ে গেছে র্যাংকিংয়ের চতুর্থ স্থানে, তবে তাদের রেটিং পয়েন্ট কমে ১০৫ থেকে ১০২-এ নেমেছে। বাংলাদেশের এই জয়ের ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছে এবং বিশ্বকাপের সরাসরি খেলায় স্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তারা আরও এগিয়ে গেছে।
দীর্ঘদিন রাজনৈতিক কারণে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেখা যায়নি বাংলাদেশ ক্রিকেটকে। এতে করে ক্রিকেটাররা আন্তর্জাতিক মঞ্চে পারফরম্যান্স প্রদর্শন করতে পারেনি। এজন্য সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল কে অনেকে দায়ী করেছেন ক্রীড়ামোদীরা। শুধু তাই নয়, তাকে মিথ্যাবাদী বলেছেন সাবেক কোচ সালাউদ্দিন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই ক্রিকেটারদের ছিল না। বিশ্বকাপ নিয়ে আসিফ নজরুলের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ার এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। এমনকি অভিভাবক হয়ে সেদিন ক্রিকেটারদের সামান্য সমবেদনাও জানায়নি বলে মন্তব্য করেছিলেন সালাউদ্দিন। অথচ একটা বিশ্বকাপ মানে একজন ক্রিকেটাররের ক্যারিয়ারের আরাধ্য স্বপ্ন।
নিজেকে প্রমাণের অনন্য মঞ্চ। কিন্তু টাইগারদের সেই বিশ্বকাপ হয়ে গেল বিতর্কের গল্প। আইসিসির দ্বিচারিতার বলি বাংলাদেশে। তবে, দায়িত্বপ্রাপ্তরা আরও বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে পারতেন কিনা সেটা নিয়ে প্রশ্ন ছিল শুরু থেকে। কিন্তু তা না করে সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সব দায় চাপালেন ক্রিকেটারদের উপর। যা খেলতে না পারার কষ্টের চেয়েও বেশি আঘাত লেগেছে টাইগারদের মনে। ক্রিকেটারদের বিশ্বকাপ ঘিরে স্বপ্ন থাকে অনেক। নতুনদের কাছে আরও বিশেষ। মেগা আসর হাতছাড়া হওয়ার পর মানসিকভাবে অনেক ভেঙে পড়েন ক্রিকেটাররা। তাদের আবারো ক্রিকেটে ফেরানোটাই বড় চ্যালেঞ্জ ছিল সালাউদ্দিনের। আগামী বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপে দ্রুতই এই কষ্ট কাটিয়ে উঠুক ক্রিকেটাররা এমন প্রত্যাশাই সালাউদ্দিনসহ ক্রীড়ামোদীদের।