সোমবার, এপ্রিল ২০, ২০২৬

ইদের জাগরণ হোক সম্প্রীতি ও সৌহার্দের

সোনার দেশ ১৮ মার্চ ২০২৬ ১১:১৪ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ১৮ মার্চ ২০২৬ ১১:১৪ অপরাহ্ন
ইদের জাগরণ হোক সম্প্রীতি ও সৌহার্দের

মুসলমানদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ইদুল ফিতর। এখন শুধু সময়ের ব্যাপার, চাঁদ দেখার অপেক্ষায় মুসলিম উম্মাহ। আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের আকাশে চাঁদ দেখা গেলে শুক্রবার খুশির ইদ। অন্যথায় শনিবার ইদ হবে।  জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৃহস্পবিার সভায় বসবেন। সেই সভা থেকেই ইদের দিন নির্দিষ্ট হবে। 


ইদ মানেই আনন্দ, ইদ মানেই উৎসব। আবার ইদের দিনেই আনন্দ- বিষয়টি তেমনও নয়- ইদের সাথে পারস্পরিক সম্পর্ক, সৌহার্দ ও ভ্রাতৃত্বের বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আনন্দ বণ্টনের উৎসব এটিÑ সৌহার্দ, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ব বণ্টনের উৎসব। ধনী-নির্ধন এই উৎসবে সামিল হওয়ার আদর্শেই উজ্জীবিত-উদ্ভাসিত হয় ইদের মাহাত্ম্য। 


দেশের মানুষ স্বস্তির সাথে উৎসবে মেতে উঠবে। ইদের ঐতিহ্য উন্মুক্ত মাঠে অর্থাৎ ইদগাহে ইদের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। খোলা আকাশের নিচেই বুকে বুক মিলিয়ে সম্প্রীতি সুরক্ষার অঙ্গীকার ঘোষিত হবে। উৎসবও থাকবে, পরস্পর সম্পর্ক, সৌহার্দ ও ভ্রাতৃত্বও থাকবে- এমনটিই হওয়ার কথা। তবে, ইদের দিন বৃষ্টি কিংবা ঝড়বৃষ্টির আভাস আছে আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে। সে ক্ষেত্রে মাঠের পরিবর্তে মজজিদে ইদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। 


এক মাস সিয়াম সাধনার পর মানুষের মধ্যেকার পাশবিক বৃত্তিগুলোকে উৎপাটন করে শরীর ও আত্মার যে শুদ্ধতার প্রত্যয় ব্যক্ত হয় তাতে ধৈর্য্য, সহনশীলতা, দরিদ্র ও প্রতিবেশিদের প্রতি কর্তব্য-কাজের দায়বোধ তৈরি হয়। অর্থাৎ মুসলমান হিসেবে নাগরিক ও সামাজিক দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে না। আমাদের চিন্তা ও বিশ্বাসের বিশুদ্ধতার মধ্যেই ইদের প্রকৃত তাৎপর্য নিহিত। সিয়াম সাধনার মধ্য দিয়ে শরীর ও আত্মার যে শুদ্ধতার প্রত্যয় ব্যক্ত হলো, তাতে ধৈর্য্য, সহনশীলতা অর্জিত হলো- তা মানুষ থেকে মানুষে সঞ্চারিত করার মধ্যে রমজানের মাহাত্য ও উদ্দেশ্য নিহিত আছে। 


ইদ সমাজ জীবনে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের জাগরণ তৈরি করুক। কেবল সেই অঙ্গীকারের মধ্যেই মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে। ইদ সবার জীবনে অনাবিল আনন্দ বয়ে আনুক। ইদ মোবারক।