সোমবার, এপ্রিল ২০, ২০২৬

এবারের ইদে সড়কে মৃত্যু মিছিল, প্রতিকার কীভাবে?

সোনার দেশ ২৪ মার্চ ২০২৬ ১১:২১ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ২৪ মার্চ ২০২৬ ১১:২১ অপরাহ্ন
এবারের ইদে সড়কে মৃত্যু মিছিল, প্রতিকার কীভাবে?

এবারের ইদের ভ্রমণটা বেশ বেদনাবিধুর ছিল। বিশেষ করে সড়ক দুর্ঘটনার জেরে মৃত্যুর ঘটনা দেশবাসীকে উদ্বিগ্ন করেছে।  সোনার দেশ অনলাইনে প্রচারিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় ইদের দ্বিতীয়দিনে দেশের ৯ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭ জনের মৃত্যু হয়। ইদের দিনেই এসব দুর্ঘটনা ঘটে। ইদ-ছুটির সূচনা লগ্ন থেকেই সড়কে প্রাণ ঝরেছে। 


প্রতিবেদনের তথ্যমতে, কুমিল্লায় যাত্রীবাহী বাসে ট্রেনের ধাক্কায় ১২ জন, ফেনীতে বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে তিনজন, হবিগঞ্জে বাসের সঙ্গে পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে চারজন, নাটোরে গাছের সাথে কারের ধাক্কায় একজন, সুনামগঞ্জে নতুন মোটরসাইকেলে ঘুরতে বেরিয়ে দুই বন্ধু, কুষ্টিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে বেরিয়ে এক স্কুলছাত্র, কিশোরগঞ্জে মোটরসাইকেলের দুই আরোহী, টেকনাফে এক মোটরসাইকেল আরোহী এবং নওগাঁয় ভটভটি উল্টে এক কিশোরের মুত্যু হয়।


সবচেয়ে মর্মান্তিক ে আলোচিত সড়ক দুর্ঘটনা ছিল কুামল্লায়। শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে সেখানের পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে যাত্রীবাহী বাসে মেইল ট্রেনের ধাক্কায় ১২ জন নিহত হয়। এদের মধ্যে সাতজন পুরুষ, তিনজন নারী এবং দুই শিশু রয়েছে। তবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।


কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার অজয় ভৌমিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


সড়কের ত্রাস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে মোটর সাইকেল। বিশেষ করে তরুণরা বেপরোয়া গাড়ি চালিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা শিকার হচ্ছে। এতে মৃত্যু যেমন বাড়ছে তেমনই পাল্লা দিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করছে তরুণরা। সড়কে হিরোইজম প্রদর্শন করতে গিয়ে এসব দুর্ঘটনা ঘটছে। সারা দেশেই এমন চিত্র। সংবাদ মাধ্যমের তথ্যানুযায়ী  রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (নিটোর) জরুরি বিভাগে 


ভর্তি রোগিদের বেশিরভাগই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার। ইদের ছুটির কয়েক দিনে ভর্তি হয়েছেন ১৭৭ জন রোগী। ২৩ মার্চ পর্যন্ত এই হিসেব। এসব রোগির প্রায় সকলেই রাজধানীর। সবার অবস্থা গুরুতর। অনেকের পা কেটে ফেলতে হয়েছে। এমন অনেক তরুণ আছেন, যারা পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ইদের আনন্দ করতে গিয়ে নিজের জীবন বিপন্ন করে তুলেছে তরুণরা। ফাঁকা সড়ক পেলেই গতি বাড়িয়ে মোটরসাইকেল চালায়। 


সহজেচই অনুমান করা যায় দেশের পরিস্থিতিটা কেমন! চিকিৎসকরা বলছেন, ইদ উপলক্ষে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর কারণেই দুর্ঘটনা বেড়েছে। অথচ এই দুর্ঘটনা একটু দায়িত্বশীল হলেই অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদেরও দায় আছে। তারা সন্তানদের ইচ্ছে পূরণের জন্য কোনো ধরনের দক্ষতা যাচাই না করেই মোটর সাইকেল কিনে দেন। ফলে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার সূত্রপাত হয়।


সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণের জন্য ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে পালন, অদক্ষ চালক ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন চলাচল বন্ধ, বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। সিট বেল্ট ও হেলমেট ব্যবহার, মোবাইল ফোনে কথা বলা বন্ধ করা এবং নিয়মিত রাস্তা ও যানের ফিটনেস পরীক্ষা নিশ্চিত করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। এসব কথা চর্বিত-চর্বনই হয়- কাজের কাজ কিছুই হয় না। পরিস্থিতি যেখানের সেখানেই থেকে যায়। অথচ পরিস্থিতিটা পাল্টানো দরকার, প্রতিকার দরকার-কিন্তু সদিচ্ছাটা করবে কে?