সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬

ট্রাম্পের প্রস্তাবের পর পাল্টা শর্ত ইরানের

সোনার দেশ ডেস্ক ২৫ মার্চ ২০২৬ ১১:১৩ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ২৫ মার্চ ২০২৬ ১১:১৩ অপরাহ্ন
ট্রাম্পের প্রস্তাবের পর পাল্টা শর্ত ইরানের

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে নিজেদের অবস্থান কঠোরভাবে তুলে ধরেছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে তেহরান একাধিক শর্ত সামনে এনেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে ক্ষতিপূরণ, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং কৌশলগত নিয়ন্ত্রণসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করেছে। তেহরানের মতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ইরানের ওপর আর কোনো ধরনের সামরিক হামলা চালানো হবে না, এমন লিখিত প্রতিশ্রুতি চায় দেশটি।


ইরানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালীর ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে। একই সঙ্গে দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর কোনো ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা যাবে না বলেও স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছে তেহরান।


ট্রাম্পের প্রস্তাব নিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহলে আলোচনার মধ্যেই ইরানের শর্তগুলো প্রকাশ করল রয়টার্স। এই শর্তগুলোকে ইরানের পক্ষ থেকে একটি কঠোর দর কষাকষির কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কূটনৈতিক আলোচনা চলমান থাকলেও ইরান ‘বড় ধরনের ছাড়’ চাওয়ার অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের মাধ্যমে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। পাকিস্তানকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহার করে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানে ১৫ দফা সমন্বিত একটি প্রস্তাব পৌঁছে দিয়েছে, যেখানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং আঞ্চলিক নীতিতে পরিবর্তনের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।


প্রস্তাবে ইরানের প্রধান পারমাণবিক স্থাপনাগুলো (নাতাঞ্জ, ইসফাহান ও ফোরদো) স্থায়ীভাবে বন্ধ ও নিষ্ক্রিয় করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সব পারমাণবিক কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তদারকির আওতায় আনার শর্ত রাখা হয়েছে।


এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে সক্রিয় ইরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি অর্থ ও অস্ত্র সহায়তা বন্ধ করার বিষয়টিও প্রস্তাবে উল্লেখ রয়েছে। ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করে বিদ্যমান উপাদান আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে হস্তান্তর করতে বলা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে লিখিত নিশ্চয়তা দিতে বলা হয়েছে।


প্রস্তাবে কৌশলগত হরমুজ প্রণালী সব সময় উন্মুক্ত রাখার বিষয়টি যেমন গুরুত্ব পেয়েছে, তেমনি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকেও প্রতিরক্ষামূলক সীমার মধ্যে রাখার কথা বলা হয়েছে।


তবে এসব কঠোর শর্তের বিপরীতে ইরানের জন্য কিছু সম্ভাব্য সুবিধার কথাও প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, শান্তি চুক্তি হলে দেশটির ওপর আরোপিত সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার নিশ্চয়তা। পাশাপাশি বুশেহর শহরে বেসামরিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য একটি পারমাণবিক প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি সহায়তার প্রস্তাবও রয়েছে।


রয়টার্স জানিয়েছে, প্রস্তাবটি নিয়ে অন্তত এক মাসের জন্য সাময়িক যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।