বিদেশে শ্রমিক পাঠানো কমেছে ৩৯%, এখনো নির্ভরতা সৌদি আরবে
জনশক্তি রপ্তানিতে সৌদি আরবের ওপর নির্ভরতা কমাতে পারেনি বাংলাদেশ; এর মধ্যে গেল ৬ মাসে বিদেশে লোক পাঠানো কমেছে প্রায় ৩৯ শতাংশ।
আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ দিকে এসে বন্ধ হয়ে যাওয়া মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার নানা তৎপরতার পরেও এই বাজারটি এখনো বন্ধই রয়েছে। ওমানের মতো একসময়ের জনপ্রিয় শ্রমবাজার নিয়েও তেমন কোনো ‘সুখবর’ নেই।
ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতায় বসা বিএনপি সরকার ছয় মাসে পা দিয়েছে গেল সোমবার। সরকারের প্রথম ছয় মাসে বন্ধ থাকা কোনো শ্রমবাজার নতুন করে চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে ঘুরেফিরে হাতেগোনা কয়েকটি দেশেই কর্মী পাঠাচ্ছেন জনশক্তি রপ্তানিকারকরা।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, এই সরকারের ৬ মাস সময়ে বিদেশে পাড়ি দেওয়া শ্রমিকের অর্ধেকেরও বেশি, প্রায় ৫১ শতাংশই গেছেন সৌদি আরবে। অনেক বছর ধরেই পশ্চিম এশিয়ার এই দেশটি বাংলাদেশি শ্রমিকদের প্রধান গন্তব্য।
এদিকে সম্প্রতি খোলার আলোচনায় আসা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে চলতি মাসের শেষ দিকে ‘কিছু খবর’ পাওয়া যেতে পারে বলে ভাষ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার। অন্যদিকে, বন্ধ ও নতুন শ্রমবাজার খোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা বলছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
বিদেশগামীর সংখ্যা কমেছে ৩৯ শতাংশের বেশি
বিএমইটির তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ অগাস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে মোট ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৪২৭ জন কর্মী বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন।
এদের মধ্যে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৪৬ জন গিয়েছেন সৌদি আরবে। অর্থাৎ মোট জনশক্তি রপ্তানির ৫০ দশমিক ৮৭ শতাংশরই গন্তব্য সৌদি আরব।
এর পরই মোটাদাগে সবচেয়ে বেশি ৪০ হাজার ৩৯৮ জন শ্রমিক গেছেন সিঙ্গাপুরে। প্রায় অর্ধ বছরে গড়ানো ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের মাঝে পড়া পশ্চিম এশিয়ার দেশ কাতারে গেছেন ৩২ হাজার ১২৭ জন।
এর বাইরে মালদ্বীপে ১৫ হাজার ৯৬৯ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৩ হাজার ১২৯, কুয়েতে ১৩ হাজার ৭১, জর্ডানে ৮ হাজার ১৯৯, ইতালিতে ৫ হাজার ৩১৬, পর্তুগালে ৩ হাজার ৬০৮ ও ইরাকে ২ হাজার ৮৬৩ জন পাড়ি দিয়েছেন।
বিএমইটির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের একইসময়ে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন ৩ লাখ ৬১ হাজার ৩৬৬ জন, কাতারে গিয়েছিলেন ৫৩ হাজার ১৩৫ জন, সিঙ্গাপুরে ৩৬ হাজার ২৫১, কুয়েতে ২৪ হাজার ৪৪১, মালদ্বীপে ১৮ হাজার ২৩৭ জন, কিরগিজিস্তানে ৬ হাজার ৩৫৬, আরব আমিরাতে ৫ হাজার ৮৫২, জর্ডানে ৫ হাজার ৬০৮, ইতালিতে ৪ হাজার ১৪০ ও লেবাননে গেছেন ২ হাজার ৬৭৯ জন।
সে বছর ৬ মাসে বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন ৫ লাখ ৪২ হাজার ৪৩৮ জন। চলতি বছরের একই সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যাচ্ছে, বিদেশে পাড়ি দেওয়া শ্রমিকের সংখ্যা কমেছে ২ লাখ ৯ হাজার ১১ জন। শতাংশের হিসাবে যা প্রায় ৩৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ কম।
সরকারি তথ্য অনুসারে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে কর্মীরা ১৪১টি দেশে গেছেন। এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ কর্মী গেছেন মাত্র পাঁচটি দেশে। একজন করে কর্মী গেছেন ১৩টি দেশে। ৩৪টি দেশে ২ থেকে ১০ জন করে কর্মী গেছেন।
‘বাংলাদেশ থেকে শ্রম অভিবাসনের গতি-প্রকৃতি ২০২৫: অর্জন ও চ্যালেঞ্জসমূহ’ শিরোনামে ২০২৬ সালের ৭ জানুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করেছে অভিবাসন খাতের বেসরকারি গবেষণা সংস্থা রামরু।
সংস্থাটি বলছে, দীর্ঘদিন ধরে এক দেশকেন্দ্রিক প্রবাসী শ্রমবাজার গড়ে উঠেছে; অন্তত ৮ থেকে ১০টি বাজারে নিয়মিত কর্মী পাঠানোর অবস্থা থাকা উচিত। যেসব দেশে ১০০ জনের কম অভিবাসী কর্মী যান, সেসব দেশকে অভিবাসনের দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা শোভন নয়।
এ বিষয়ে বিএমইটির মহাপরিচালক জামিল আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নতুন বা অপ্রচলিত শ্রমবাজারেও কিছু কিছু লোক যাচ্ছে। রিসেন্টলি মলদোভার শ্রমবাজার ওপেন হয়েছে। আর ৬ মাসেই তো সব হবে না।
“এটা ঠিক সৌদি আরবই আমাদের বড় শ্রমবাজার। তবে নতুন কিছু দেশেও বাংলাদেশিরা যাচ্ছে।”
এক দেশ নির্ভরতা কেন
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, “অপ্রচলিত যে বাজারগুলোর কথা বলছেন, এগুলোর পরিবর্তনটা হতে আরও কয়েকটা জায়গায় একটু কাজ করার দরকার। সেটার ব্যবস্থাটা নেই।
“এখন যদি বলেন যে সৌদি আরবের বাইরে অন্য জায়গায় যাওয়া উচিত, সেটার জন্য তো আমাদের পুরো সিস্টেমটার মধ্যে কিছু পরিবর্তন দরকার। একটা হচ্ছে বেসিক যে জায়গাটায় প্রবলেম হয়, আমাদের লোকজন যখন বিশেষ করে ওয়ার্কাররা যায়—ভাষার একটা জায়গা, আরেকটা হচ্ছে যে প্রপার ট্রেনিং নেই। এখন ট্রেনিং যে তারা নেবে, সেই ট্রেনিং ফ্যাসিলিটিও নেই।”
বাংলাদেশের অভিবাসন খাতের সংকট ও সমাধানের উপায় তুলে ধরে এ বিশ্লেষক বলেন, “আমাদের অর্থনীতির একটা চালিকাশক্তি রেমিটেন্স, তাহলে এই মাইগ্রেশন সেক্টরটাকে টপ প্রায়োরিটিতে রাখা উচিত।”
প্রবাসীদের ভাষার দুর্বলতা এবং মানসম্মত প্রশিক্ষণের অভাবই নতুন শ্রমবাজারে যাওয়ার প্রধান বাধা বলে মনে করেন আসিফ মুনীর।
তিনি বলেন, “বিএমইটির ট্রেনিং সেন্টারগুলোর (টিটিসি) শিক্ষকদের নিজেদেরই আধুনিক প্রযুক্তি ও বিদেশের বাজার সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা নেই। এমনকি সরবরাহ করা আধুনিক যন্ত্রপাতিগুলোও তারা চালাতে পারেন না।”
স্বল্প সময়ের প্রশিক্ষণ তেমন কাজে আসছে না মন্তব্য করে আসিফ মুনীর বলেন “আমাদের হোলস্টিক অ্যাপ্রোচ নিতে হবে। আপনি তিন মাসের ট্রেনিং দিয়ে বা তিন দিনের ট্রেনিং দিয়ে এদেরকে শেখানো সম্ভব না।
“তাই পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর মতো আমাদের মূল শিক্ষা ব্যবস্থাতেই ভাষা ও কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। পাশাপাশি আমলাতান্ত্রিক সফর না বাড়িয়ে বাজেট, প্রশিক্ষিত লোকবল এবং বিদেশে দূতাবাসগুলোর সক্রিয়তা বাড়ানো দরকার।”
ইউনিয়ন বা উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় সরকার বিভাগকে যুক্ত করে প্রবাসী কর্মীদের সচেতন ও তৈরি করার জন্য পুরো সিস্টেমে বড় ধরনের সংস্কারের পরামর্শ তার।
এ প্রসঙ্গে জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদের সংগঠন বায়রার সাবেক যুগ্মমহাসচিব ফখরুল ইসলাম বলেন, “বন্ধ থাকা শ্রমবাজারগুলো নিয়ে সরকার একটা কোর কমিটি করতে পারে, এই খাতের সংগঠন ও অংশীজনদের প্রতিনিধিদের নিয়ে। যেটা একটা সেল হিসেবে কাজ করবে।”
পাশপাশি শ্রমবাজারে লোক পাঠানোর প্রক্রিয়া সিন্ডিকেটমুক্ত রাখার কথাও বলেন তিনি।
এ বিষয়ে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মোখতার আহমেদ বলেন, “সৌদি আরব আমাদের বড় শ্রমবাজার; এটা ট্রু। তবে নতুন যে দেশগুলোর কথা বললেন, রোমানিয়া, সার্বিয়া, সেখানে আমাদের মার্কেট এক্সপ্লোর করা হয়নি। উই আর ট্রায়িং।
“আমাদের যাচাই করে দেখতে হবে, সেখানে বাজার আছে কি না। কাজ আছে কি না। যারা যাবে, তারা অন্য কোথাও জাম্প করে চলে যাবে কি না, সেটা দেখতে হবে। আমরা কাজ করছি সেটা নিয়ে।”
সাত বছরে বন্ধ-সংকুচিত ছয় শ্রমবাজার
বিএমইটির তথ্য বলছে, ১৯৭৬ সাল থেকে বিদেশে কর্মী পাঠায় বাংলাদেশ। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৩ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৬টি বাজার বন্ধ হয়ে যায়।
এর মধ্যে ২০১৩ সালে প্রথম বন্ধ হয় সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রমবাজার। সে সময় প্রবাসীদের ‘অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, ভিসা জালিয়াতি ও রাজনৈতিক কার্যক্রমে জড়িত’ হওয়ার অভিযোগে দেশটি বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
বিএমইটির হিসাব বলছে, ২০১৩ সালে নিষেধাজ্ঞা জারির আগে দেশটিতে ৩৬ বছরে ১২ লাখ ৮৮ হাজার ৯৮২ জন কর্মী গিয়েছেন। এরপর ২০২১ সাল পর্যন্ত তেমন কোনো কর্মী দেশটিতে যায়নি।
দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিষেধাজ্ঞা না তুললেও ২০২২ সালের দিকে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার হার বাড়িয়ে দেয়, যা আবার কমে যায় ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর। এ সময়কালে দেশটিতে ২ লাখ ১৯৭ জন কর্মী গেছেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ওই দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিরা আন্দোলন করার পর থেকেই অনানুষ্ঠানিকভাবে ভিসা দেওয়া বন্ধ করে দেয় সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভিসা চালু করলেও তা খুবই সীমিত।
২০১৬ সালে তীব্র গৃহযুদ্ধ, চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতি তৈরি হলে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয় লিবিয়ার শ্রমবাজার।
বিএমইটির তথ্যানুযায়ী, বন্ধ হওয়ার আগে এ শ্রমবাজারে ১ লাখ ২২ হাজার ১২৫ জন কর্মী গেছেন। লিবিয়ার পর ২০১৭ সালের অগাস্ট মাসে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে যায় মিশরের শ্রমবাজার। ২০০০ সাল থেকে কর্মী যাওয়া শুরু হয়েছিল দেশটিতে। এখন পর্যন্ত ২৩ হাজার ৫ জন কর্মী ওই বাজারে গেছেন।
এরপর ২০১৮ সালে এক মসজিদের ইমাম হত্যাকাণ্ডের কারণে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বন্ধ হয় বাহরাইনের শ্রমবাজার। পশ্চিম এশিয়ার জনপ্রিয় এই শ্রমবাজারটিতেও বন্ধের আগ পর্যন্ত ৪ লাখ ৯ হাজার ৫১৬ জন কর্মী গেছেন।
বাহরাইনের বাজার বন্ধের ৫ বছর পর ২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে বন্ধ হয় মধ্যপ্রাচ্যের আরেক জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার ওমান। যেখানে বন্ধের আগ পর্যন্ত ১২ লাখ ৮৮ হাজার ৯৮২ জন কর্মী গেছেন।
ওমান বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঠিক ৭ মাস পর বাংলাদেশিদের জন্য বন্ধ হয় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়ার দরজা।
২০২৪ সালের ৩১ মে দেশটির শ্রমবাজার সবশেষ বন্ধ হয়ে যায়। এর আগ পর্যন্ত ১৪ লাখ ৫৯ হাজার কর্মী সেখানে গেছেন।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “যেহেতু দীর্ঘদিন ধরেই কিছু শ্রমবাজার বন্ধ আছে, সেটা কয়েকদিনেই তো আর খুলে ফেলা যাবে না।
“তবে নতুন এবং অপ্রচলিত শ্রমবাজারে লোক পাঠানো ও বন্ধ শ্রমবাজার খুলতে প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।”
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলছে কবে
গেল ৩০ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন চলতি অগাস্টের শেষ সপ্তাহ নাগাদ মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো শুরু হওয়ার কথা বলেছিলেন।
এরপর প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীও শিগগিরই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার কথা বললেও এখনো পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে তেমন কোনো অগ্রগতি নেই।
বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় নতুন করে ৮টি দেশে শ্রমবাজার চালুর চিন্তা শুরু করে। এ দেশগুলো হলো থাইল্যান্ড, সার্বিয়া, গ্রিস, নর্থ মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, পর্তুগাল, ব্রাজিল ও রাশিয়া। কিন্তু এর কোনোটিই এখন পর্যন্ত কার্যকরভাবে চালু করতে পারেনি এই সরকার।
জানুয়ারিতে প্রকাশিত রামরুর ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরোনো সিন্ডিকেটের হোতাদের শাস্তির আওতায় না এনে পুনরায় তাদের মাধ্যমে বাজার খোলার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। গত বছর ওমান, বাহরাইনসহ বেশ কিছু বন্ধ বাজার উন্মুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
রামরু বলছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাজার এখনো সেভাবে খোলেনি। তবে শ্রমবাজার সম্প্রসারণে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও সৌদি আরবের সঙ্গে মোট ৭টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেখানেও আশানুরূপ লোক পাঠানো যায়নি।
পরিস্থিতি উত্তরণে লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে কমিয়ে আনা, পরিবারের সদস্যদের একের অধিক লাইসেন্স থাকলে সেগুলো বাজেয়াপ্ত করা, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় জালিয়াতির আশ্রয়গ্রহণকারীদের লাইসেন্স বাজেয়াপ্ত করা, অভিবাসন খাতে জাতীয় বাজেটের ১ শতাংশ অথবা বার্ষিক প্রবাসী আয়ের ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করার কথা বলেছে সংস্থাটি।
এ প্রসঙ্গে অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, “প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়, বিএমইটিসহ অন্যান্য সংস্থাগুলো মোটামুটি সবাই জানে যে কী করা দরকার। আমরা বলি যে হোলিস্টিক অ্যাপ্রোচ ছাড়া এটার কোনো পরিবর্তন হবে না।
“ইন্টারিম গভর্নমেন্টের সময়ও দেখলাম, এখনো দেখেছি যে মাঝে মাঝে প্রবণতা আছে যে, যে কথাগুলো অন্তত বিদেশে যারা যেতে চায়, তাদেরকে আশ্বস্ত করার মত বা তাদের মধ্যে আস্থা অর্জন করবে—সে ধরনের কিছু কথা বলা হয় প্রস্তুতি ছাড়াই। সেটাতে কিন্তু হিতে বিপরীত হয়।”
তিনি বলেন, “সে সময় আমরা কিন্তু শুনেছিলাম যে, প্রথম তিন মাসের মধ্যেই মালয়েশিয়ার বাজার ওপেন করে দেওয়ার টার্গেট নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এটা তো সহজ ব্যাপার না।
“এটা অনেক কমপ্লিকেটেড। এখানে সিন্ডিকেট আছে, আবার প্রভাবশালী ব্যক্তি, শুধু এখানে না, মালয়েশিয়াতেও আছে।”
সমস্যা উত্তরণে বেসরকারি খাতেরও এগিয়ে আসা দরকার মন্তব্য করে তিনি বলেন, “শ্রমবাজার বন্ধ দেশটি আমার লোক নেবে কি না, আমার লোক তার চাহিদা মতো তৈরি কি না, ট্রেনিং আছে কি না তার—এগুলো তো গুরুত্বপূর্ণ।
“কিন্তু আমাদের যেটা প্রবণতা থাকে যে, আমরা বলি, বলাটা সহজ যে এই তো বাজারটা খুলে যাচ্ছে বা যাবে। প্রস্তুতি ছাড়াই আমরা এটা বলি।”
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোখতার আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার এখনো উন্মুক্ত হয়নি। সেটা নিয়ে কাজও হয়েছে কিছু, তবে এখনো সেটা চূড়ান্ত কোনো পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
“ইয়েট টু বি ডিসাইডেড। এ মাসের শেষ নাগাদ হয়ত কিছু খবর পাওয়া যাবে।”
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ