সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬

থামছেই না নারী-শিশু নির্যাতন, প্রতি মাসে গড়ে ১৭৭৮ মামলা

সোনার দেশ ডেস্ক ২৪ আগস্ট ২০২৬ ১২:২১ অপরাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ২৪ আগস্ট ২০২৬ ১২:২১ অপরাহ্ন
থামছেই না নারী-শিশু নির্যাতন, প্রতি মাসে গড়ে ১৭৭৮ মামলা
নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় দেশে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে ১২ হাজার ৪৪৬ মামলা হয়েছে/ছবি: এআই নির্মিত

রাজধানীর পল্লবীতে গত ১৯ মে প্রতিবেশীর ফ্ল্যাটে ধর্ষণ ও খুনের শিকার হয় আট বছরের এক শিশু। দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করা এ নির্মমতায় ত্বরিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে নিম্ন আদালতে বিচার শেষ করে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।


তবে এমন দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপের পরও দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা যেন থামছেই না। তাদের নিরাপত্তায় সরকারের নানান উদ্যোগ, সচেতনতা কার্যক্রম ও আইনগত সহায়তা দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন আনতে পারছে না। পুলিশের তথ্য বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই- প্রতি মাসে গড়ে সারাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় মামলা হয়েছে এক হাজার ৭৭৮টি।


তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুলিশের নথিতে থাকা মামলার সংখ্যা নির্যাতনের সম্পূর্ণ চিত্র নয়। কারণ, অপরাধের শিকার হওয়ার পর একজন নারী বা শিশুর জন্য থানায় গিয়ে মামলা করা সহজ কোনো অভিজ্ঞতা নয়। সামাজিক চাপ, পারিবারিক বাধা, লোকলজ্জা কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীরা আইনের আশ্রয় নিতে দ্বিধায় থাকেন। ফলে সার্বিক চিত্র তুলে ধরার ক্ষেত্রে এমন বাস্তবতাও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।


সাত মাসে ১২ হাজার ৪৪৬ মামলা

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সারাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় মামলা হয়েছে এক হাজার ২৮১টি। এর মধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন থানায় মামলার ঘটনা ১০৮টি।


এছাড়া ফেব্রুয়ারিতে দেশজুড়ে এক হাজার ১৮১টি ও ডিএমপিতে ৯৬টি, মার্চে দেশে এক হাজার ৪৮৫টি ও ডিএমপিতে ১১১টি, এপ্রিলে দেশে দুই হাজার ১১টি ও ডিএমপিতে ১৬৮টি, মে মাসে দেশে এক হাজার ৯৫২টি ও ডিএমপিতে ১৩৪টি, জুনে দেশে দুই হাজার ২০০টি ও ডিএমপিতে ১৩৮টি এবং জুলাইয়ে দেশে দুই হাজার ৩৩৬টি ও ডিএমপিতে ১৩১টি মামলা হয়েছে।


অর্থাৎ, এই সাত মাসে সারাদেশে ১২ হাজার ৪৪৬টি এবং এর মধ্যে ডিএমপিতে ৮৮৬টি মামলা নথিভুক্ত করা হয়। ২০২৫ সালে একই সময়ে দেশব্যাপী মামলা হয় ১২ হাজার ৮৩৯টি এবং এর মধ্যে ডিএমপিতে মামলা হয়েছিল এক হাজার ৪৮টি।


ইউনিসেফের উদ্বেগ প্রকাশ

দেশে শিশু ও নারীদের ওপর নির্মম সহিংসতা, ধর্ষণ ও হত্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)। সংস্থাটি গত ২২ মে এক বিবৃতিতে জানায়, যেসব স্থানে শিশুদের সবচেয়ে নিরাপদ থাকার কথা ছিল, সেখানেই তারা চরম বর্বরতার শিকার হচ্ছে।


ইউনিসেফ বিবৃতিতে উল্লেখ করে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত নারী ও শিশুদের ওপর যৌন ও শারীরিক সহিংসতার যেসব তথ্য সামনে এসেছে, তাতে দেশব্যাপী শিশু এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।


সংস্থাটি মনে করে, সহিংসতা প্রতিরোধ, ঘটনা রিপোর্টিং, প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা এবং শিশুবান্ধব পুলিশ ও বিচারব্যবস্থার ঘাটতিগুলো দ্রুত দূর করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে স্কুল, মাদরাসা, কর্মক্ষেত্র এবং পাড়া-মহল্লায় নজরদারি ও জবাবদিহি আরও শক্তিশালী করা দরকার। এছাড়া ভুক্তভোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় মানসিক ও সামাজিক সহায়তার ওপরও জোর দেয় সংস্থাটি।


সমাজ যখন চুপ থাকে, তখন সহিংসতা আরও ছড়িয়ে পড়ে- এই বার্তা দিয়ে ইউনিসেফ দেশের সর্বস্তরের মানুষকে যে কোনো নির্যাতন বা শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানায়।


মামলায় সাজার হার মাত্র ৩ শতাংশ

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পদ্ধতিগত প্রতিবন্ধকতা এবং তা নিরসনের উপায়’ শীর্ষক একটি গবেষণা চালানো হয়। গত ২ মে রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক পরামর্শ সভায় গবেষণাটির ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। এতে জানানো হয়, নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় সাজার হার মাত্র ৩ শতাংশ। বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা, দুর্বল তদন্ত ও সাক্ষী সুরক্ষার অভাবকে এ পরিস্থিতির প্রধান কারণ হিসেবে গবেষণায় চিহ্নিত করা হয়।


দেশের ৩২ জেলার ৪৬টি ট্রাইব্যুনালে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন সময়কালে নিষ্পত্তি হওয়া চার হাজার ৪০টি মামলার নথি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে গবেষণাটি করা হয়। এতে দেখা যায়, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইনে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা থাকলেও বাস্তবে বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় জর্জরিত। একটি মামলা নিষ্পত্তি হতে গড়ে সময় লাগছে প্রায় তিন বছর সাত মাস, অর্থাৎ এক হাজার ৩৭০ দিন। এসময়ের মধ্যে প্রতিটি মামলায় গড়ে ২২ বার করে তারিখ পড়ছে, যা বিচার বিলম্বের একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে।


মামলার ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এসব মামলায় সাজার হার অত্যন্ত কম, মাত্র ৩ শতাংশ। বিপরীতে প্রায় ৭০ শতাংশ মামলায় আসামিরা খালাস পাচ্ছেন। এছাড়া প্রায় ১০ শতাংশ মামলা আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হচ্ছে, যা বিচারপ্রক্রিয়ার কার্যকারিতা ও ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।


গবেষণায় বিচার বিলম্বের পেছনে কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- অভিযোগকারী ও সাক্ষীর অনুপস্থিতি, ঘন ঘন সময় প্রার্থনা, তদন্তে বিলম্ব, দুর্বল প্রমাণ ব্যবস্থা, ফরেনসিক ও ডিএনএ রিপোর্ট পেতে দেরি এবং সাক্ষী সুরক্ষার অভাব। সেই সঙ্গে তদন্তের নিম্নমান, নিষিদ্ধ পদ্ধতির ব্যবহার (যেমন টু-ফিঙ্গার টেস্ট), সামাজিক চাপের কারণে আপস বা মামলা থেকে সরে দাঁড়ানো, আইনি অধিকার সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং অভিযুক্তদের প্রভাবও বিচারপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে উল্লেখ করা হয়।


বিচার গতিশীল করতে বিল সংশোধন

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ অধিকতর সংশোধন করে আনা একটি বিল গত ১০ এপ্রিল জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন উত্থাপিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল, ২০২৬-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বিচার প্রক্রিয়া আরও গতিশীল, দ্রুত ও জবাবদিহিমূলক করা।

দীর্ঘসূত্রতা ও বিলম্বিত বিচার প্রক্রিয়া ভুক্তভোগীদের জন্য যে মানসিক ও সামাজিক কষ্ট সৃষ্টি করে তা বিবেচনায় নিয়ে এ আইনে তদন্ত ও বিচার কার্যক্রমে সময়সীমা নির্ধারণ এবং কার্যকারিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও মর্যাদা রক্ষায় উন্নত সুরক্ষাব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে তারা বিচার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে গিয়ে পুনরায় কোনো ধরনের ভয় বা হয়রানির সম্মুখীন না হন।


আইনটি অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনার ক্ষেত্রে আরও কঠোর ও সুস্পষ্ট কাঠামো দিয়েছে। এর মাধ্যমে শক্তিশালী প্রতিরোধমূলক বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, এই সমাজে সহিংসতা ও নির্যাতনের কোনো স্থান নেই। অপরাধের জন্য শাস্তি অনিবার্য এবং রাষ্ট্র এ বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করবে না। নারী ও শিশুদের প্রতি সব প্রকার সহিংসতা ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করা হবে।


প্রতিটি ঘটনায় সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান

এ নিয়ে কথা হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক জাগো নিউজকে জানান, যখন কোনো একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে হইচই পড়ে যায়, তীব্র সমালোচনা শুরু হয়, তখনই যারা সরকারে থাকেন কিংবা রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো একটু নড়েচড়ে বসে। কিছু একটা করছে- তা দৃশ্যমান করতে চায়। এই তথাকথিতভাবে চলার কারণেই নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাগুলো বেশি ঘটছে।


তদন্ত ও বিচারে দীর্ঘসূত্রতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী হয় প্রান্তিক পর্যায়ের নারী বা শিশু। তখন রাষ্ট্র বা সরকার বলে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে, কিন্তু মূল কথা হচ্ছে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে না। এখানে সামাজিক বা শ্রেণিবৈষম্যের প্রসঙ্গ আছে। কে কোন শ্রেণির পরিচয় ধারণ করেন, সে অনুযায়ী তার সঙ্গে রাষ্ট্রের বা সরকারের সাড়াদান বা ব্যবস্থা নেওয়ার একটা বৈষম্য আমরা দেখি।’


এ দেশে নারী ও শিশুর বিকাশ, স্বাধীনভাবে চলাচল বা অধিকার ভোগ করার প্রশ্নে এখনো অধিকাংশ মানুষ অনগ্রসরমূলক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে বলেও জানান তৌহিদুল হক।


তিনি বলেন, ‘আইনের প্রয়োগ যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে খুব কার্যকরভাবে হতো, যদি শাস্তির বাস্তবায়ন বা দৃশ্যমান করা যেতো, তখন মানুষ ভয়ে হলেও নারী ও শিশু নির্যাতন থেকে বিরত থাকতো। কিন্তু আমরা তো কোনোটাই করতে পারছি না। শুধু আইন করে ফেলে রাখছি, প্রয়োগ ঘটাতে পারছি না। প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রেই সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। সেগুলো আমরা করতে পারছি না। এই সুযোগেই নারী ও শিশু নির্যাতনকারীরা এ কাজগুলো করে।’


এ সমস্যা সমাধানের কথা তুলে ধরে তৌহিদুল হক বলেন, ‘আমরা বারবার বলছি- কে নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তার সামাজিক ও শ্রেণি পরিচয় কেমন, এটা বিবেচনা না করে সব ঘটনা সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া, দ্রুত সময়ের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করা ও বিচার দৃশ্যমান করা। সেই সঙ্গে ব্যাপক পরিসরে মানুষের মধ্যে জেন্ডারগত সংবেদনশীলতার শিক্ষা পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা। বিশেষ করে ধর্মীয়, রাজনৈতিক কিংবা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই বিষয়ে আলোচনা এবং চর্চা করা।’


পুলিশের মামলার পরিসংখ্যান বিষয়ে তার মত, ‘এটি নির্যাতনের সম্পূর্ণ চিত্র নয়। বাস্তবে এ সংখ্যা দ্বিগুণ বলে আমরা মনে করি। বাংলাদেশে যে ভুক্তভোগী হয় তাকে কিছু অর্থ দিয়ে বা ভয়ভীতি দেখিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া থেকে বিরত রাখা হয়। পুলিশের কাছে যেতে নিষেধ করা হয়। কথা না শুনলে তার ওপর আরও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন নেমে আসে। এমন বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।’


‘জাস্টিস ডিলেইড ইজ জাস্টিস ডিনাইড’

বর্তমানে অপরাধীরা নারী ও শিশুদের শুধু নির্যাতনই করছে না, ভুক্তভোগীদের মেরে মরদেহ খণ্ডিতও করে ফেলছে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক সালমা আক্তার।


জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলাগুলোতে দু-একটা বিচার হচ্ছে, কিন্তু বেশিরভাগেই তো বিচারের কোনো খবর নাই। হ্যাঁ, গ্রেফতার হলো, তারপর অপরাধটা কী করলো সেটা কিন্তু আমাদের একটু ভালো করে দেখা উচিত। প্রথম কথা, এই অপরাধীদের শাস্তিগুলো দৃশ্যমান হতে হবে।’


‘জাস্টিস ডিলেইড ইজ জাস্টিস ডিনাইড’ অর্থাৎ বিচার বিলম্বিত হওয়া মানে ন্যায়বিচার অস্বীকার করা- উল্লেখ করে সালমা আক্তার বলেন, ‘বিচারকাজ যদি তাড়াতাড়ি না করে তাহলে কিন্তু সাক্ষী-আলামত সবই নষ্ট হয়ে যায়। সেই জায়গা থেকে এই ধরনের সংবেদনশীল মামলায় আসামি ধরা থেকে শুরু করে প্রতিটি জায়গায় যেরকম দৃশ্যমান শাস্তি হওয়ার কথা, সেটা কিন্তু দেখছি না। সরকার মনে হচ্ছে কিছুই করতে পারছে না। এজন্য আর এটা প্রতিরোধও হচ্ছে না। মানুষ আইনটা হাতে তুলে নিচ্ছে। আমরা দেখতে চাই, সরকার এই বিষয় নিয়ন্ত্রণের জন্যে কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। দরকার হলে আমরাও সাহায্য করবো। আমাদের কিন্তু একেবারে জিরো টলারেন্স একটা নীতি হলে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে।’


মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি ও পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক এবং অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. ওমর ফারুক জাগো নিউজকে বলেন, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন এই সময়ে হঠাৎ করে বেড়েছে, এটা বলবো না। সব সময়ই তা ছিল। আমাদের আইনগত ভাষায় ৮২ শতাংশ নারী ঘরে শারীরিক, মানসিক, আর্থিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। এই সময়ে যেহেতু সামাজিক অস্থিরতা, আর্থিক সংকট, পরকীয়া ও অন্য বিষয়গুলো আছে, যার ফলে নারী ও শিশু নির্যাতন বেড়েছে।’


অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তিন ধরনের ধাপ আছে জানিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা দেওয়ার কথা, কিন্তু দিতে পারে না। সে ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের আইনগুলো আরও বেশি পরিমাণে প্রয়োগ করতে হবে। নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্বের জায়গা থেকে কাজ করতে হবে। রাজনীতিমুক্ত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কাজ করতে হবে। যে কোনো অপরাধ মোকাবিলার জন্য যদি আইনের আলোকে শক্তিশালী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তাহলে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব। এছাড়া পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশে সচেতন থাকতে হবে। সামাজিক প্রতিরোধের বিষয়গুলো থাকতে হবে। অপরাধ শুধু নিয়ন্ত্রণ করলে হবে না, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। সর্বোপরি, যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকে, তাহলে সমাজকে নিরাপত্তামূলক করা সম্ভব।


তথ্যসূত্র: জাগোনিউজ