ঈশ্বরদীতে পেট্রোল পাম্পে রাতভর অপেক্ষা করেও মিলছে না জ্বালানি
পাবনার ঈশ্বরদীতে ঈদের আট দিন পরও পেট্রোল পাম্পে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন ছোট হচ্ছে না। প্রতিদিনের মতো রোববারেও বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে মোটর সাইকেল ও প্রাইভেট কারের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। সারা দিন এমনকি রাতভর পাম্পের সামনে অপেক্ষা করেও কাক্ষিত জ্বালানি না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা। গত ৩ দিন তেল সরবরাহ বন্ধ থাকার পর রোববার সবগুলো পাম্পে ৩ থেকে সাড়ে চার হাজার লিটার করে জ্বালানি সরবরাহ করা হলেও চাহিদা অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না কোন পাম্পেই। ফলে প্রতিদিন প্রতিটি পাম্পের সামনে মোটর সাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের লাইন বাড়ছে। সারা দিন এমনকি রাতভর অপেক্ষা করছেন চালকরা। কোন কোন পাম্পে তেলের অপেক্ষায় সারারাত নির্ঘুম কাটাতে দেখা গেছে চালকদের। তবে এ বিষয়ে পাম্প মালিকদের ভাষ্য জ্বালানি সংকটের কারনে অনেক চালকরা পাম্প থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করে তাদের বাড়িতে বাড়িতে মজুদ করে ফের তেল নিতে পাম্পের সামনে ভিড় করছেন। একাধিক পেট্রোল পাম্প মালিকরা গোপনে লোক লাগিয়ে এ ঘটনা পরখ করে দেখেছেন বলে দাবি করেছেন। তাদের দাবি এক পাম্প থেকে তেল নিয়ে বাড়িতে মজুদ করে অন্য পাম্প থেকে ফের তেল সংগ্রহ করছেন অনেকে। এ কারনে সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।
তামান্না ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা জামরুল ইসলাম নামের এক মোটর সাইকেল চালক এ তথ্যের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ পর্যন্ত তিনি বাড়িতে ৩৫ লিটার অকটেন জমা করেছেন। অনেকে নাম প্রকাশ না করলেও বলেন, ‘পরে যদি আর তেল না পাই’ সে আতঙ্কে যে কোন ভাবে তেল সংগ্রহ করে বাড়িতে প্লাস্টিকের জারে মজুদ করে রাখছি। স্বপ্নদ্বীপ রিসোর্ট ও খায়রুল গ্রুপ এর স্বত্বাধিকারী আলহাজ্ব খায়রুল ইসলাম বলেন, অসাধূ মজুদদারদের কারণে আমরা প্রতিষ্ঠানের গাড়ি সচল রাখার জন্যও পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছি না। স্কুল শিক্ষক তানহা ইসলাম শিমুল, আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত দূর্জয় ইসলাম লিমন, লাইফ কেয়ার চিকিৎসা কেন্দ্রের পরিচালক আহমেদ বাবু, গণমাধ্যমকর্মী মাসুদুল ইসলাম মাসুদসহ বেশ কয়েকজন বলেন, ৪ থেকে ৫ দিন অপেক্ষার পর আজ ৪০০ টাকার তেল পেয়েছি।
ঈশ্বরদীর খায়রুল ফিলিং স্টেশন, তামান্না ফিলিং স্টেশন, দেওয়ান ফিলিং স্টেশন, ফেইথ ফিলিং স্টেশন, নাইম ফিলিং স্টেশন, দেওয়ান ফিলিং স্টেশন, এনি ফিলিং স্টেশন, মুন পেট্রোলিয়াম এজেন্সি ও কোবাদ ফিলিং স্টেশনসহ ৯টি পেট্রোল পাম্পে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি করা হয়। এসব পাম্পে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিটি পাম্পেই চাহিদা অনুযায়ী জ্বালাননি সরবরাহ করা হচ্ছে না। খায়রুল ফিলিং স্টেশনের প্রধান নির্বাহী মুনেম তাজওয়ার অহিন বলেন, ইতোপূর্বে প্রতিটি পাম্পের চাহিদা অনুযায়ী কোন পাম্পে প্রতিদিন, আবার কোন পাম্পে একদিন পরপর জ্বালানি সরবরাহ করা হতো। কিন্তু জ্বালানি নিয়ে উদ্ভুত পরিস্থিতির পর থেকে এসব পাম্পে ২ থেকে ৪-৫ দিন পর পর রেশনিং করে প্রকার ভেদে ৩ হাজার লিটার থেকে সাড়ে চার হাজার লিটার পর্যন্ত জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে প্রতিটি পাম্প কর্তৃপক্ষকে পাম্প বন্ধ রেখে ৩ থেকে ৫ দিন পর পর জ্বালানি তেল বিক্রি করতে হচ্ছে।