সোমবার, এপ্রিল ২০, ২০২৬

রাজশাহী অঞ্চলের হামের প্রাদুর্ভাব

সোনার দেশ ২৯ মার্চ ২০২৬ ১০:৩৪ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ২৯ মার্চ ২০২৬ ১০:৩৪ অপরাহ্ন
রাজশাহী অঞ্চলের হামের প্রাদুর্ভাব

রাজশাহী শিশু হাসপাতাল চালু করা হোক

রাজশাহী অঞ্চলে শিশুদের মাঝে সংক্রামক রোগ ‘হাম’ ছড়িয়ে পড়ছে। উদেদ্বগজনক এই সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে সোনার দেম পত্রিকায়। উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের নমুনা পরীক্ষা করে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) রাজশাহী বিভাগের সাতটি সদর হাসপাতাল এবং চারটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করছে।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় ১৮ মার্চ রাজশাহী বিভাগের ১৫৩ রোগীর নমুনা পরীক্ষা করে ৪৪ জনের হাম পজিটিভ পাওয়া গেছে। আক্রান্তের হার প্রায় ২৯ শতাংশ। তার মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও পাবনায় সংক্রমণ বেশি।


তবে, হামে আক্রান্ত শিশুদের সুপারিশ করা হচ্ছে- রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ)। তবে আইসিইউতে শিশুদের বাঁচানো সম্ভব হচ্ছে না। গেল বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) হাম আক্রান্ত চার শিশুকে নেয়া হয়েছিল আইসিইউতে। তাদের মধ্যে বেঁচে আছে শুধু এক শিশু। 


চলতি মাসে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হামের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোট ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে আইসিইউতে নেয়ার পরেও ৯ জনকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। হাম রোগীদের আলাদা আইসোলেশন ব্যবস্থায় রাখার কথা থাকলেও বাস্তবে তাদের সাধারণ রোগীদের সঙ্গেই রাখা হচ্ছে। রাজশাহীতে একটি সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো রোগীকে রামেক হাসপাতাল থেকে সেখানে স্থানান্তর করা হয়নি।


বিশেষজ্ঞদের মতে, হামকে শুধু ‘শিশুর রোগ’ ভেবে হালকা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। কারণ এটি নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, এমনকি মস্তিষ্কে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে অপুষ্ট শিশু বা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে এটি প্রাণঘাতী হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, টিকা না নেয়া শিশুদের মধ্যে হাম এখনও মৃত্যুর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। অথচ স্বাস্থ্যমন্ত্রী রোববার (২৯ মার্চ) জানিয়েছেন, ৮ বছর ধরে শিশুদের হামের টিকাদান বন্ধ রয়েছে।


এটি স্বাস্থ্য খাতের করুণ চিত্রই বলা যায়। শুধু তাই নয়, হাম আক্রান্ত শিশুদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে আইসিইউ-এর গুরুত্ব অপরিসীম হলেও এর সুবিধা পেতে মুমুর্ষ শিশুকে অপেক্ষা করতে হয়। আইসিইউ সুবিধা পাওয়ার আগেই অনেককে লাশ হয়ে যেতে হয়। বিশেষায়িত চিকিৎসা পাওয়াটা জরুরি হলে অপতুল ব্যবস্থা স্বাস্থ্য বিভাগের জীর্ণ-শীর্ণ চেহারা মনে করিয়ে দেয়। যাওবা আছে সেখানেও নৈরাজ্য- হযবরল অবস্থা।


অথচ হাম খুবই দ্রুত ছড়ায়। একজন আক্রান্ত শিশুর মাধ্যমে একটি পুরো পরিবার বা স্কুল আক্রান্ত হতে পারে। অনেক সময় দেরিতে শনাক্ত হওয়ায় সংক্রমণ আরো ছড়িয়ে পড়ে।


স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা গ্রহণের হার কমে গেলে বা অবহেলা বাড়লে এমন সংক্রমণ হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। তাই সচেতনতা বাড়ানোই এখন সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ।


রাজশাহীতে ২০০ শয্যার একটি শিশু হাসপাতাল তৈরি হয়ে পড়ে আছে পৌনে তিনবছর ধরে। অথচ হাসপাতাল চালু হয় না। সরকারি কোনো কর্তৃপক্ষ হাসপাতাল বুঝে না নেয়ায় সেবা কার্যক্রমও শুরু করা যাচ্ছে না। কী ভয়ঙ্কর উদ্ভট কাণ্ড। অথচ এই হাসপাতাল চালু থাকলে সেখানেই শিশুদের বিশেষায়িত চিকিৎসেবা এবং চিকিৎসার পরিবেশও সুরক্ষিত হতো। হাম-সংক্রমনের বিপজ্জনক এই মুহূর্তে রাজশাহী শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর বিষয়টিও সামনে এসেছে।


এ ক্ষেত্রে যে উপেক্ষা ও উদাসীনতা দেখানো হয়েছে সে ব্যাপারেও কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা থাকা বাঞ্ছনীয়। অবকাঠামো তৈরির পর তা বছরের বছর পড়ে থাকবে-এটা অন্যায়, শিশু অধিকারের পরিপন্থি। হাসপাতালটি যথাশিগগিরই চালুর উদ্যোগ নেয়া হোক।