মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের কাজের মূল্যায়ন
কাজটি কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়-চাই সাফল্য
সরকার গঠনের এক মাস পূর্ণ হওয়ার পরপরই মন্ত্রিসভার সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীদের কাজের মূল্যায়ন শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জানা গেছে, দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের স্থবিরতা, গাফিলতি বা জনবিচ্ছিন্নতা বরদাস্ত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। এরই অংশ হিসেবে রোববার (২৯ মার্চ) আকস্মিকভাবে সচিবালয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী, যা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রী সরকার গঠনের পরপরই কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন- যা জনবান্ধব হিসেবেই পরিগণিত হচ্ছে। ব্যক্তিগতভাবেই তিনি যেভাবে নিজেকে সর্বত্র উপস্থাপন করছেন তাতে একটি পরিশীলিত ও জনমুখি ভাবনা ও কর্মকাণ্ডের ভাবমূর্তি ফুটে উঠেছে। অনেক কিছুই এতোদিন যা প্রথা হিসেবেই দেখা হতো, সেখানে তিনি তার ব্যত্যয় ঘটিয়ে প্রাণ-প্রকারের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করার প্রয়াস দেখাচ্ছেন। নিঃসন্দেহে দেশের মানুষ এমন আচরণ ও বৈশিষ্ট্যের প্রতি মনোবিবেশ করছেন এবং প্রধানমন্ত্রীকে প্রশংসিত করছেন।
তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজের সূচনা করেছেন। এই কাজের সাফল্য অর্জন করা কঠিন বটে কিন্তু তা অসম্ভব কিছু নয়। নিষ্ঠা, অধ্যবসায়, সিদ্ধান্ত নেয়ার সক্ষমতা দেখাতে পারলে- অবশ্যই সফল হওয়া যাবে। এটাই নেতৃত্বের গুনাবলি। দেশের মানুষের কল্যাণ করাই যদি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হয়- তা সফল হবেই। এরজন্য অবশ্যই সরকারের সামগ্রিক সক্ষমতার প্রয়োজন হবে।
এটা দেশবাসীর অজানা কিছু নয়- সরকার আসে, সরকার যায়- কিন্তু সরকারের অসফল হওয়ার পিছনে মন্ত্রী ও এমপিদের বড় ভূমিকা থাকে। তাদের অনেকেই যেটা যে সময়ে, যাদের জন্য বলা বা করার দরকার হয়- তা বলেন না, করেন না। যা দরকার হয় না, তাই বলেন, তাই করেন।
মন্ত্রী-এমপিদের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য ও সমন্বয়হীনতা দলে অস্বস্তি বাড়ায় যেমন, তেমনি জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয় ব্যাপকভাবে। বর্তমান সরকারের কতিপয় মন্ত্রী-এমপির মধ্যে এমন প্রবণতা ইতোমধ্যেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দায়িত্বশীল মানুষেরা দায়িত্ব নিয়ে কথা বলবেন সেটাই শোভনীয়। সমন্বয়হীনতা ও অতিকথনের ফলে নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক। জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ারও কারণ হয়ে ওঠে। দলীয় নেতাকর্মিদের মধ্যেও অসন্তোষ তৈরি হয়। যা দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা হিসেবেই বিবেচিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের কাজের মূল্যায়ণ করছেন। কোনো ধরনের স্থবিরতা, গাফিলতি বা জনবিচ্ছিন্নতা বরদাস্ত করা হবে না বলেও প্রধানমন্ত্রী হুশিয়ারি দিয়েছেন। দেশের মানুষের কাছে এমনই সরকার ব্যবস্থা প্রত্যাশিত- যারা নিজ নিজ কাজের জবাবদিহিতা করবেন। ব্যত্যয় ঘটলে দায়িত্ব ছেড়ে চলে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর মূল্যায়ণ সরকার গঠনের শুরুতেই শুরু করেছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি বাংলাদেশে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন, সেটাই কাম্য।