সোমবার, এপ্রিল ২০, ২০২৬

রামেক হাসপাতালে প্রায় শ কোটি টাকার ওষুধ

সোনার দেশ ০১ এপ্রিল ২০২৬ ১১:০৩ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ০১ এপ্রিল ২০২৬ ১১:০৩ অপরাহ্ন
রামেক হাসপাতালে প্রায় শ কোটি টাকার ওষুধ

উদ্যোগি মানুষটির জন্য প্রশংসা

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে এবার ৯৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকার ওষুধ এসেছে। এই ওষুধ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা সংস্থা ‘ডিরেক্ট রিলিফ’। মোট তিনটি চালানে এই ওষুধগুলো এসেছে। এছাড়াও বুধবার আরও কিছু ওষুধ আসছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। 


তথ্যমতে, ডিরেক্ট রিলিফ একটি আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা সংস্থা। তাদের প্রধান কাজ হলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দেয়া। সংস্থাটি নগদ অর্থ দেয়ার পরিবর্তে সরাসরি চিকিৎসা সহায়তা দিয়ে থাকে, যাতে অপচয় কম হয় এবং প্রকৃত রোগিরা উপকারভোগি হয়।


ভাল উদ্যোগের জন্য ভাল উদ্যোগি মানুষের প্রয়োজন হয়। তবেই সমাজ মানবিক হয়ে উঠে। আমাদের দেশে এমন উদ্যোগের বেশ আকাল আছে। মানুষ স্বার্থান্ধতায় বিভোর থাকলে উদ্যোগি মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হয়ে উঠে। অথচ একটু সমব্যাথি, অন্যের কল্যাণ চিন্তায় প্রলুব্ধ হতে পারলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। বিশেষ করে দরিদ্র মানুষ এ ধরনের উদ্যোগের সুবিধাভোগি হতে পারলে সমাজে সন্তুষ্টির মাত্রা অনেকটাই বাড়ানো যায়। সন্তুষ্টি এমন একটি প্রত্যয় যা মানুষের সুখানুভূতিকে নাড়া দেয়।  


সমাজের পরতে পরতে শোষণ-বঞ্চনারই কাহিনি লুকিয়ে থাকে। স্বার্থান্বেষীরা সর্বত্র তাদের স্বার্থ-উদ্ধারে তৎপর হয়ে থাকে। তাই বলে কি সব মানুষই তাই? মোটেও তা নয়- এমন মানুষ বেশি না হলেও আছে-অসহায় মানুষের প্রতি সহানুভূতি, সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় নিঃসঙ্কচে। তাঁর যোগাযোগ ও সম্পর্ককে কাজে লাগিয়েই মহতি উদ্যোগের সারথী হয়ে ওঠেন ওই মানুষেরা। রামেক হাসপাতালে যে ৯৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকার ওষুধ এসেছে- তা ওই উদ্যোগেরই ফল।


হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান আজিজুল হক আজাদ ডিরেক্ট রিলিফ-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে এই ওষুধগুলো দেশে নিয়ে এসেছেন। দেড় হাজার বক্স ডুপিলুম্যাব ইনজেকশন ও ১৫০ বক্স সারিলুম্যাব ইনজেকশন এসেছে, আরো আসবে। এগুলো রিফ্র্যাক্টরি অ্যাজমা, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি), রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসসহ নানা রোগে ব্যবহার করা হয়।


এটি একটি ব্যক্তি উদ্যোগ। সহায়তাও পেয়েছেন অনেকের। এসব ওষুধ রোগিদের বিনা মূল্যে সরবরাহ করা হবে। এই উদ্যোগ অত্যন্ত মানবিক, প্রশংসার দাবি রাখে। যাঁদের এ ধরনের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ আছে তারাও এমন উদ্যোগের সাথে নিজেদের সামিল করতে পারেন। একটু মানবিক হলেই এমন মহতি কাজ করা যায়। ধন্যবাদ সেই উদ্যোগি মানুষকে যিনি দরিদ্র মানুষের চিকিৎসায় নিজেকে ব্যাপৃত করেছেন।