রিলে পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে বাড়বে উৎপাদন
গেল দুই বছরে রাজশাহীতে সরিষার আবাদ কমেছে। এনিয়ে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সোনার দেশ পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। সেই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চাষাবাদ কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে কৃষি বিভাগ বলছে, চাষিরা আমন ধানের পর শীতকালীন সবজি চাষ করেছিলেন। কেউ বা আবার বোরোর বীজতলা আর জমি প্রস্তুত করেছিলেন।
চাষিরা জানান, সরিষা আবাদে খরচের তুলনায় তিনগুণ লাভ হয়। বিঘা প্রতি সরিষা আবাদে খরচ ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। ফলন হয়েছে ১০ থেকে ১১ মণ সরিষা। বর্তমানে কাঁচা সরিষার বাজার মূল্য প্রতি মণ ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। শুকনো সরিষা ৩হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা। এতে বিঘা প্রতি প্রায় ৩০ হাজার টাকা আয় হয়। এতে করে কৃষকরা সরিষা চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। ফলে সরিষার চাষাবাদ কমেছে। কিন্তু সরিষার আবাদ আগামীতে বাড়াতে হবে। এজন্য কৃষকরা একটি পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারেন। বিনা চাষে রিলে পদ্ধতিতে জমিতে সরিষা চাষে কৃষকদের আগ্রহ তৈরি করতে হবে। এতে করে সরিষা আবাদ করে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কারণ এ পদ্ধতিতে একটি ফসল জমিতে থাকাকালীন বিনা চাষে অন্য একটি ফসল রোপণ করা হয়। এতে অর্থ ব্যয় ও পরিশ্রম অনেক কম হয়। এ পদ্ধতিতে যে ফসল সবচেয়ে বেশি চাষ হয়, তার মধ্যে অন্যতম ধানের সঙ্গে সরিষা। সাধারণত বছরে দুই ফসলের জমি তিন ফসল চাষ করার অন্যতম উপায় এ পদ্ধতি।
কৃষি কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, রোপা আমন ধান কাটার ১০-১৫ দিন আগে সাধারণত যেসব জমিতে জো আসে না বা পানি থাকে না কিন্তু জমি কাদা কাদা ভাব থাকে। সেসব জমিতে সরিষা ছিটিয়ে রোপণ করা হয়। একেই মূলত রিলে পদ্ধতি বলে। এ পদ্ধতিতে এক বিঘা জমির জন্য এক কেজি সরিষা বীজের প্রয়োজন হয়। এভাবে সঠিক সময়ে সরিষা চাষ করলে বোরো ধানও যথাসময়ে আবাদ করা যায়। রিলে পদ্ধতিতে চাষের মাধ্যমে কৃষকেরা অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই বছরে দুটি ফসলের পরিবর্তে তিনটি ফসল পাওয়া যাবে।