সোমবার, এপ্রিল ২০, ২০২৬

সাপাহারে খাড়ি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ

সোনার দেশ ০৫ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৫২ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ০৫ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৫২ অপরাহ্ন
সাপাহারে খাড়ি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ

তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হোক

নওগাঁর সাপাহার-পত্নীতলা সীমান্তের কুচিন্দা খাড়ি দখল করে অবৈধভাবে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাপাহার-আগ্রাদ্বিগুণ সড়কের কুচিন্দা ব্রিজের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে খাড়ির জায়গা দখল করে এই নির্মাণ কাজ চলায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে বর্ষা মৌসুমে অন্তত ৭-৮টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।


এ বিষয়ে একটি সচিত্র প্রতিবেদন সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদন চিত্রে স্পষ্টতই বুঝা যাচ্ছে যে, খাড়ির একটি অংশ স্থাপনার মধ্যে রয়েছে। বরেন্দ্রের পুকুর ও খাড়িগুলো যুগ যুগ ধরেই ভূ-প্রকৃতি ও কৃষির ভারসাম্য রক্ষা করে আসছে। কিন্তু মানুষের অনিঃশেষ লোভ ও দৌর্দণ্ড প্রতাপের কারণে এসব খাড়ি ও পুকুর দখল ও ভরাট হয়ে যাচ্ছে।


এর প্রভাব পড়েছে এ অঞ্চলের কৃষি ও ভূ-বৈচিত্রের উপর। এ অঞ্চলের বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বছরে ১২/১৩ শো মিলিমিটার, যা জাতীয় গড়ের অর্ধেক। ভূ-উপরিস্থ পানির উৎসের ওপর ক্রমাগত আগ্রাসনের ফলে রাজশাহী অঞ্চলে খরা তিব্র থেকে তিব্রতর হচ্ছে। 


সম্প্রতি রাজশাহী অঞ্চলের তিন জেলার ২৫টি উপজেলার ৪৭টি ইউনিয়নকে সরকারিভাবে ‘অতি উচ্চ পানি সংকট এলাকা’ হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার (ওয়ারপো) মাঠ গবেষণা উপাত্তের ভিত্তিতে এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। জারিকৃত সরকারি নির্দেশিকায় খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলের রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলার ২৫টি উপজেলার ৪৭টি ইউনিয়নকে উপদ্রুত এলাকা চিহ্নিত করে এসব এলাকাকে দেশের অতি উচ্চ পানি সংকট এলাকা হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে।   


বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষিতে, বিশেষ করে উঁচু বরেন্দ্র এলাকায়, প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট খাড়ি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই খাড়িগুলো বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে, যা পরবর্তীকালে আমন ধান চাষ ও খরা মৌসুমে সেচের পানির উৎস হিসেবে কাজ করে। খাড়িতে জমা থাকা পানি মাটির নিচে চুইয়ে গিয়ে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পুনর্ভরণে সহায়তা করে, যা বরেন্দ্র অঞ্চলে পানির সংকট কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়াও খাড়িগুলো বরেন্দ্র এলাকার শুষ্ক প্রকৃতির মধ্যেও আর্দ্রতা ধরে রাখে, যা স্থানীয় কৃষি ইকোসিস্টেমের ভারসাম্য বজায় রাখে। 


অতি উচ্চ পানি সংকট এলাকার মধ্যে সাপাহারও রয়েছে। তেমনই একটি এলাকার খাড়ি-এলাকা দখল করে স্থাপনা তৈরি করা জীববৈচিত্র্য পরিপন্থি কাজ। বরং আমরা মনে করি, বর্তমানে এই খাড়িগুলোর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের মাধ্যমে বরেন্দ্র অঞ্চলে কৃষিনির্ভর অর্থনীতিকে আরো টেকসই করার সুযোগ রয়েছে। যে বা যারা বরেন্দ্রের খাড়ি, পৃকৃর বা অন্য কোনো জলাশয় দখল করতে চায়- তাদের অপরিহার্যভাবেই প্রতিহত করতে হবে। এ অঞ্চলের খরা পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হলে ভূ-প্রকৃতির সুরক্ষার অন্য কোনো বিকল্প নেই। সাপাহারে খাড়ি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা সময়ের দাবি।