সোমবার, এপ্রিল ২০, ২০২৬

মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যু উদ্বেগজনক

সোনার দেশ ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৫৩ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৫৩ অপরাহ্ন
মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যু উদ্বেগজনক

ট্রাফিক আইনের যথার্থ প্রয়োগ হচ্ছে না কেন?

সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতের ঘটনা বরাবরই উদ্বেগজনক। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নানা উপায় ও কৌশলের কথা শোনা যায় বটে কিন্তু বাস্তবিক এর কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিকারের দাবিতে আন্দোলনের ইতিহাসও বেশ দীর্ঘ- কিন্তু দুর্ঘটনা যেমনকার তেমনই থেকে যায়। দেশে দুর্ঘটনায় মৃত্যু যেন নিয়তিরই লেখা- যার কোনো অন্ত নেই, নিয়ন্ত্রণও নেই। 


সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা প্রতিদিনের। কোনোভাবেই এর রাশ টেনে ধরা যাচ্ছে না। বা রাশ টেনে ধরার মত কোনো সমন্বিত উদ্যোগও পরিলক্ষিত নয়। দেশে ‘সড়ক সন্ত্রাস’ এখন বেশ আলোচিত  সমালোচিত শব্দবব্ধ। সড়কের নৈরাজ্য অনেকটা নিয়মে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের মধ্যে মোটরসাইকেল আরোহীরা বেশ এগিয়ে আছে।


এ পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ হয়ে উঠছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণের তথ্য অনুযায়ী এ বছরের মার্চে দেশে ৬১৬ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬১৯ জন নিহত, ১৫৪৮ জন আহত হয়েছে। এই মাসে রেলপথে ৪৫ টি দুর্ঘটনায় ৫৪ জন নিহত, ২২৯ জন আহত হয়েছে। এই সময়ে ২২২ টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২৩৭ জন নিহত, ১৯৭ জন আহত হয়েছে। যা মোট দুর্ঘটনার ৩৬ দশমিক ০৩ শতাংশ, নিহতের ৩৮ দশমিক ৬১ শতাংশ ও আহতের ১২ দশমিক ৭২ শতাংশ।


বাংলাদেশে উদ্বেগজনক হারে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের ৪০ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় হয়েছে । 


মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলো হলো-তরুণ ও যুবকদের মধ্যে তীব্র গতিতে বাইক চালানোর প্রবণতা; হেলমেট ব্যবহার না করা, ট্রাফিক সিগন্যাল না মানা এবং উল্টো পথে গাড়ি চালানো। একইভাবে  লাইসেন্সবিহীন ও অদক্ষ চালকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। যেনতেনভাবে মোটরসাইকেল চালনা শিখেই তরুণরা সড়ক-মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এ ছাড়াও মহাসড়কে মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা লেন না থাকা এবং ওভারটেকিং ও দ্রুত লেন পরিবর্তনও দুর্ঘটনা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।


মোটর সাইকেল দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ সচেতনতা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনিরি যেমন, তেমনই অভিভাবক ও চালকদেরও।  ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং চালকদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করে এ দুর্ঘটনা কমানো যেতে পারে।