সোমবার, এপ্রিল ২০, ২০২৬

সংসদে ঋণ খেলাপিদের তথ্য

সোনার দেশ ০৭ এপ্রিল ২০২৬ ১১:১৪ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ০৭ এপ্রিল ২০২৬ ১১:১৪ অপরাহ্ন
সংসদে ঋণ খেলাপিদের তথ্য

ঋণখেলাপি সংস্কৃতির অবসান হবে কি?

ঋণ খেলাপি এবং টাকা বিদেশে পাচারের বিষয়টি বাংলাদেশে বহুল আলোচিত ও সমালোচিত একটি বিষয়। রাজনীতিক, অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও সচেতন মানুষের মধ্যে সরকার আসে, সরকার যায়- কিন্তু এই আলোচনার কখনো শেষ হয় না। এই আলোচনা ও সমালোচনার বড় সুবিধাভোগি হলেন দেশের রাজনীতিবিদরা। তারা বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেন কিন্তু ঋণ খেলাপের প্রবণতা কমেনি এবং একইভাবে বিদেশে টাকা পাচারের ঘটনাও থেমে নেই।   


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের নবম দিনে ঋণ খেলাপির তথ্য আবারো নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এদিন সংসদকে জানান, দেশের ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর স্থিতি ভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী এই তথ্য পাওয়া গেছে। অর্থমন্ত্রীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। অবশ্য এটা নতুন কোনো ঘটনা নয়- বারবার ঋণখেলাপিদের তালিকা প্রকাশ হয় কিন্তু খেলাপি ঋণ আদায়ে সাফল্য খুব কমই। 


সংসদে অর্থমন্ত্রী জানান, খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।


বিএনপি সরকার দেশের অর্থনীতির আকার আট বছরের মধ্যে ট্রিলিয়ন (এক লাখ কোটি) ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে। ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে নিয়ে যেতে চায় সরকার। এ লক্ষ্য সামনে রেখে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক গণতন্ত্রীকরণ, ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি ও স্পোর্টস অর্থনীতিসহ বিভিন্ন খাত বিবেচনায় নিয়ে কর্মপরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। জনগণের মাথাপিছু আয় বাড়াতে কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, উৎপাদন, রপ্তানি, প্রবাস আয়, দক্ষতা উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা-সবগুলো দিকেই একসঙ্গে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে সরকার।


সরকারের ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা অবশ্যই আশাব্যঞ্জক। দেশের মাসুষ এমনটিই চায়। মানুষ এও চায় যে, সরকারের পরিকল্পনা ও কার্যকৌশল শুধ্ইু কাগুজে ব্যাপার হবে না। তারা এর বাস্তবায়ন চায়। দেশের মানুষের কাছে এটা তখনই স্পষ্ট হয়ে উঠবে- যখন দেশে আর ঋণখেলাপি তৈরি হচ্ছে না, ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে এবং বিদেশে টাকা পাচার বন্ধ হবে। এমনই একটা বন্দোবস্ত সবারই প্রত্যাশিত।