সোমবার, এপ্রিল ২০, ২০২৬

প্রশস্ত ফুটপাত দখল ক্ষুদে ব্যবসায়ীরা

সোনার দেশ ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৫৩ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৫৩ অপরাহ্ন
প্রশস্ত ফুটপাত দখল ক্ষুদে ব্যবসায়ীরা

দখলমুক্ত করতে কঠোর হতে হবে

রাজশাহী নগরীতে ফুটপাত দখল করে চলছে হরেক রকমের ব্যবসা। এর মধ্যে ফুল, ফল থেকে শুরু করে ভাতের হোটেল পর্যন্ত রয়েছে। অভিযান চালিয়ে উচ্ছেদের দু-এক দিনের মধ্যেই আবার ফুটপাতগুলো আগের অবস্থায় চলে যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন পথচারীরা। তারা রাস্তায় হাঁটার কারণে বেড়ে যায় যানজট। এনিয়ে বুধবার (৮ এপ্রিল) সোনার দেশ পত্রিকায় ‘প্রশস্ত ফুটপাত দখল ক্ষুদে ব্যবসায়ীদের’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।


ফুটপাত বা রাস্তা দখল করে রাখা মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে রাস্তা মুক্ত রাখার জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে পুলিশকে। এজন্য রাজশাহী সিটি করপোারেশন ও মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সমন্বিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে হবে। যেন নগরবাসী তার সুফল পান। এছাড়াও হকারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।


আবার কোন কোন এলাকায় উচ্ছেদের কয়েক ঘণ্টা পরেই দোকান বসানো হয়েছে প্রভাবশালীদের সহযোগিতায়। দখলমুক্ত ফুটপাত ও রাস্তা রক্ষায় কঠোর হতে হবে পুলিশ প্রশাসনকে। আন্তরিকভাবে চাইলে অবশ্যই ফুটপাত ও রাস্তা হকারমুক্ত রাখা যায়। সমস্যা হলো, ওই আন্তরিকতার দেখা মেলে না। যে পুলিশ বাহিনীর ট্রাফিক বিভাগ অবৈধ স্থাপনা ও দোকান উচ্ছেদে অভিযান চালাল, তারা কি খেয়াল করে দেখেছে, উচ্ছেদ অভিযানের কয়েক দিনের মধ্যেই উচ্ছেদ হওয়া দোকানদারেরা আবার স্বমহিমায় সেখানেই বিরাজ করছেন?


উচ্ছেদ এবং আবার জায়গা দখল করার ব্যাপারটা এতটাই পুরোনো, এতটাই ঐতিহ্যবাহী যে যেকোনো সরকারের আমলেই ফলাফল যে একই রকম হবে, সেটা আর নতুন করে বলে দিতে হয় না। এটা আসলে জনগণের সঙ্গে করা তামাশা। জনগণ বুঝতে পারে, নাটের গুরু কেউ না থাকলে এই অঘটনগুলো বারবার ঘটতে পারত না। সুশাসন এই অব্যবস্থা, এই অঘটনের ইতি ঘটাতে পারত। কিন্তু বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পরও রাজনৈতিক দলগুলো যে সেই ঐতিহ্যের কাছে হেরে যায়, তার একটা সুরাহা হওয়া দরকার। বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে?


সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে সুন্দর ফুটপাত তৈরি করা হচ্ছে। এখন এই সব ফুটপাত বেদখল হয়ে যাচ্ছে। এ জন্য পুলিশ প্রশাসন এবং বর্তমান রাজনৈতিক দলেরও ইতিবাচক ভূমিকা থাকার দরকার।