মঙ্গলবার, জুন ২৩, ২০২৬

ঈশ্বরদীতে তাপপ্রবাহে ঝরে পড়ছে লিচুর গুটি, শঙ্কায় চাষিরা

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ০১:১০ অপরাহ্ন কৃষি
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ০১:১০ অপরাহ্ন
ঈশ্বরদীতে তাপপ্রবাহে ঝরে পড়ছে লিচুর গুটি, শঙ্কায় চাষিরা

ঈশ্বরদীতে গত এক সপ্তাহজুড়ে তাপদাহে গাছ থেকে ঝরে পড়ছে লিচুর গুটি। এ বছর লিচুর উৎপাদন ও ফলন ভালো হওয়ার যে আশা করা হয়েছিল তা এই খরায় ক্রমেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষি বিভাগের ভাষ্য যদি আর এক সপ্তাহ এ ভাবে টানা তাপপ্রবাহ চলমান থাকে তবে ঈশ্বরদীতে লিচুর ফলন ও উৎপাদন ৩০ ভাগ কমে যাবে। দেশি লিচু হিসেবে পরিচিত মোজাফফরী জাতের এবং বোম্বাই জাতের লিচুর গুটি গাছ থেকে ঝরে পড়ছে প্রতিদিন। 

লিচু উৎপাদনের জন্য দেশের অন্যতম এলাকা ঈশ্বরদীর গ্রামে গ্রামে এ বছর প্রতিটি গাছেই রেকর্ড পরিমাণ লিচুর মুকুল এসেছিল। মুকুল থেকে গুটিতে পরিণত হয়েছে। এখন গাছে লিচুর ছোট ছোট সবুজ গুটি বা কড়ি লিচুতে ভরপুর। প্রাথমিকভাবে এবার চাষিরা লিচুর ভালো ফলনের আশা করেছিলেন। কৃষি বিভাগও নানা তৎপরতায় লিচুর ফলন ভালো হওয়ার জন্য কৃষকদের নানা পরামর্শ দিয়ে আসছিলেন, তারাও ভালো ফলনের আশা করেছিলেন। আশায় বুক বেঁধেছিলেন কৃষকরাও। কিন্তু গত এক সপ্তাহের তাপদাহে লিচুর গুটি ইতোমধ্যে ঝরে পড়তে শুরু করায় লিচু চাষিদের স্বপ্নভঙ্গের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। 

উপজেলার মিরকামারি গ্রামের চাষী আমিরুল সরদার বলেন, এ বছর লিচুর মুকুল যেভাবে গাছ ভর্তি করে এসেছিল তাতে অনেক আশা করেছিলাম এবার ভালো আয় হবে। কিন্তু খরায় লিচুর গুটি ঝরে যাওয়া দেখে রিতিমত কান্নায় বুক ভারি হয়ে আসছে। উপজেলার অন্যতম বড় লিচু আবাদী কৃষক আব্দুল জলিল কিতাব মন্ডল ওরফে ‘লিচু কিতাব’ বলেন, আমার কয়েকটি বড় বড় লিচুর বাগানে এবার ভালো ফলনের প্রত্যাশা করছি। আবহাওয়ার কারনে ৩০ ভাগ যদি ঝরেও যায় তার পরেও আশা করছি এবার ৫০ লাখ টাকার লিচু বিক্রি করবো। উপজেলার লিচুগ্রাম হিসেবে পরিচিত মিরকামারী, মানিকনগর, বক্তারপুর, জগন্নাথপুর, বাঁশেরবাদা, জয়নগর, সাহাপুর, আওতাপাড়া, চরসাহাপুর ও বাঁশেরবাদা এলাকায় গেলে চোখে পড়ে সারি সারি লিচুর বাগান।

লিচুর পাতার মাঝে সবুজ গুটি বাতাসে দোল খাচ্ছে। পুরষ্কারপ্রাপ্ত কৃষক সিদ্দিকুর রহমান ময়েজ বলেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার গাছে লিচুর গুটি তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। প্রায় প্রতিটি গাছেই ধরেছে প্রচুর লিচু। তবে এবার লিচু গাছে রেকর্ড পরিমাণ মুকুল এলেও খরতাপে লিচুর গুটি খুব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়া পর্যবেক্ষক নাজমুল হক রঞ্জন বলেন, আবহাওয়া ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। গত ১ এপ্রিল থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত ঈশ্বরদীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫.০৮ ডিগ্রি থেকে ৩৮ দশমিক ০৫ ডিগ্রি পর্যন্ত ওঠানামা করছে। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মোমিন জানান, এ বছর ঈশ্বরদীতে ৩১০০ হেক্টরেরও বেশি জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। প্রথম দিকে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রতিটি গাছে এবার ভালো মুকুল এসেছে। এবার লিচুর ভালো ফলনের আশা করছে কৃষি বিভাগ। কিন্তু চলমান তাপ প্রবাহের এই তাপমাত্রা লিচুর গুটি সহ্য করতে পারে না, যেভাবে লিচুর গুটি ঝরে পড়ছে তাতে ভালো ফলনের আশা পুরণ না হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।