সোমবার, এপ্রিল ২০, ২০২৬

অপরাধ জগতে পেনগান‘ ব্যবহারে উদ্বেগ

সোনার দেশ ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ১১:১৭ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ১১:১৭ অপরাহ্ন
অপরাধ জগতে  পেনগান‘ ব্যবহারে উদ্বেগ

গোড়াতেই এই আগ্নেয়াস্ত্রেও অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে হবে

বাংলাদেশের অপরাধ জগতে নতুন আতঙ্ক পেনগান বা কলমাকৃতির আগ্নেয়াস্ত্র। এর ব্যবহার আইনশৃঙ্খলা বাহিনির মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ছোট আকৃতি ও সহজে লুকিয়ে রাখার সুবিধার কারণে এটি তল্লাশিতে ধরা পড়ে না, যা অপরাধীদের জন্য অত্যন্ত উপযোগী মনে করা হচ্ছে। ছদ্মবেশী অস্ত্রটি মূলত খুব কাছ থেকে কাউকে হত্যার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যায়।  সম্প্রতি রাজধানী  ঢাকার অপরাধ জগতে নতুন ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই পেন সদৃশ আগ্নেয়াস্ত্রটি। 


৩ এপ্রিল পুরান ঢাকায় এক যুবদল নেতাকে গুলির ঘটনার তদন্তে নেমে অত্যাধুনিক এই ক্ষুদ্রাস্ত্রের সন্ধান পায় পুলিশ। গুলির ঘটনায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের লালবাগ বিভাগের একটি দল ‘পেন গান’সহ সোহেল ওরফে কাল্লু ও সায়মন নামে দু‘জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এখন পেন গান নামের ক্ষুদ্র অস্ত্রটির উৎস খুঁজছেন গোয়েন্দারা। পুলিশ বলছে  অস্ত্রটি গতানুগতিক কোনো অস্ত্র নয়। এটি একটি বিশেষ ধরনের কলম সদৃশ বস্তু, যা ‘পেন গান’ নামে পরিচিত। এ কারণেই অস্ত্রটির প্রতি আগ্রহ বেশি ছিল। কারণ, এমন অস্ত্র অতীতে কখনো ব্যবহৃত হওয়ার রেকর্ড নেই বা এমন মামলাও ডিএমপিতে পাওয়া যায় নি। তাই অস্ত্রটি কীভাবে দেশে এলো, এরসাথে কে কে জড়িত-সবকিছু উদ্ঘাটনে গোয়েন্দাদের একাধিক টিম কাজ করছে। অস্ত্রটি আর কোথাও ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও অনুসন্ধান চলছে। 


ডিবির উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার সোহেল ওরফে কাল্লু জানায়, এই ‘পেন গান’ ৮০ হাজার টাকায় একজনের কাছ থেকে কেনা হয়। পরে রাসেলের কাছে ২০ হাজার টাকা বেশি লাভে বিক্রি করতে চেয়েছিলেন সায়মন। ঘটনার দিন সোহেল ওরফে কাল্লু, সায়মন, রিপন দাস ও রাসেল একত্রে ইয়াবা সেবন করছিলেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। তখন ‘পেন গান’ দিয়ে রাসেলকে গুলি করা হয়।


‘পেন গান’ মূলত একটি ছদ্মবেশী আগ্নেয়াস্ত্র, যা দেখতে সাধারণ কলমের মতো হলেও এর ভেতরে থাকে ছোট আকারের ফায়ারিং মেকানিজম। সাধারণত স্বল্প দূরত্বে গুলি ছোড়ার জন্য এটি ব্যবহৃত হয়। আকারে ছোট হওয়ায় এটি সহজেই পকেট বা ব্যাগে রাখা যায় এবং তল্লাশির সময় অনেক ক্ষেত্রে চোখ এড়িয়ে যেতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনির প্রাথমিক ধারণা, এ ধরনের অস্ত্র বিদেশ থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে প্রবেশ করেছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকা বা অনলাইন ব্ল্যাক মার্কেটের মাধ্যমে আসতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে যন্ত্রাংশ আলাদাভাবে এনে দেশে সংযোজন করাও হতে পারে। এ বিষয়ে পুলিশ কাজ করছে, হয়ত আরও তথ্য বেরিয়ে আসবে।


এ ধরনের অস্ত্র যে অপরাধ জগতে জনপ্রিয় হয়ে উঠবে তা বলাই বাহুল্য। আর এটি পেন সদৃশ হওয়ায় সাধারণত সন্দেহের বাইরে থাকবে। তবে. এখনও আশা দেখাচ্ছে যে, পেনগানের দেশে ব্যবহার একেবারে সূচনা পর্বে রয়েছে বলেই ধারণা। এখনই বিশেষ গোয়েন্দা ততপরতার মাধ্যমে বাংলাদেশে এই অস্ত্রের ব্যবহার ও বিস্তার প্রতিরোধ করতে হবে। এটি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়লে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতির শংকা উড়িয়ে দেয়া যায় না। তাই সময় থাকতে এর ব্যবহার এবং বাংলাদেশে এর অবৈধ প্রবেশ বন্ধ করতে হবে।