সোমবার, এপ্রিল ২০, ২০২৬

নন্দকুজা নদী যেন আবর্জনার ভাগাড়!

সোনার দেশ ১১ এপ্রিল ২০২৬ ১১:২২ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ১১ এপ্রিল ২০২৬ ১১:২২ অপরাহ্ন
নন্দকুজা নদী যেন আবর্জনার ভাগাড়!

নদী স্বরূপে ফিরবে কবে?

নাটোরের গুরুদাসপুরে চাঁচকৈড় শহরের বুকচিরে বয়ে যাওয়া নন্দকুজা নদীকে দখল-দুষণমুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ হয়েছে। ১০ এপ্রিল পৌর সদরের চাঁচকৈড় নতুন গো-হাটা সংলগ্ন নন্দকুজা নদীতে ফেলা ময়লা আবর্জনার ওপর দাঁড়িয়ে থেকে ওই মানববন্ধন করেন পরিবেশ কর্মী ও এলাকাবাসী।


সোনার দেশ পত্রিকায় এ সংক্রান্ত একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।


পত্রিকায় প্রকাশিত ছবির দৃশ্যে যে কাউকে ভাগাড়ের কথা মনে করিয়ে দিবে। নদীতে গভীর আবর্জনার স্তুপ দেখে সহজেই অনুমেয় হয় যে, জীবন্তসত্তা নদীকে কী নির্মম-নিষ্ঠুরতায় তিলে তিলে হত্যা করা হচ্ছে! অথচ যারা এই ধরনের নির্মম কাজটি লাগাতারভাবে করে যাচ্ছে- তাদের বিরুদ্ধে কিছুই হচ্ছে না। যা মানুষের পরিবেশসম্মত উপায়ে বসবাস করার অধিকারকে ক্ষুণ্ন করে যাচ্ছে।


আইনে নদীকে নদীর মত থাকার, তার নিজের মত নির্বিঘ্নে প্রবাহমানতার অধিকারের কথাই বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে যে বা যারাই নদীর প্রবহমানতায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করুক না কেন- তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার উল্লেখ আছে। কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে নদী দূষণকারী, দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না। ফলে নদীর প্রতি, পরিবেশের প্রতি যে নিষ্ঠুরতা তা বন্ধ হয় না। 


ওই মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে অংশিজনরা বলছিলেন, এক সময়ের  স্রোতস্বীনি নন্দকুজার ঢেউ ছিল, ইলিশসহ প্রচুর মাছ ছিল, কুমির ছিল, ছিল জীববৈচিত্রে ভরপুর। এখন দখল-দূষণে সেই নদী সংকুচিত হয়েছে। পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা ফেলার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। আন্দোলনকারীরা নন্দকুজার সুস্থতা চায়, স্বাভাবিক প্রবহমানতা চায়, নদীর জীবনসত্তা ফিরে পেতে চায়। একই সাথে যারা নদীর প্রতি নিষ্ঠুরতা দেখিয়েছে তাদেরকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা চেয়েছেন। এই দাবি শুধু চাঁচকৈড় শহরের মানুষেরই নয়- সারা দেশের মানুষের একই কণ্ঠস্বর- নদীর স্বরূপ ফিরিয়ে দাও।‘


দখল, দূষণ এবং নাব্যতা সংকটে রাজশাহীরসহ উত্তরাঞ্চলের অধিকাংশ নদী মৃতপ্রায়। করতোয়া, বাঙালি ফুলজোর, মহানন্দা, বারনই, আত্রাই প্রভৃতি ঐতিহ্যবাহী নদীগুলো বর্জ্য আর অবৈধ দখলের কারণে মরা খালে পরিণত হয়েছে। এর ফলে কৃষি উৎপাদন হ্রাস, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নামা এবং মরুকরণ প্রক্রিয়াসহ ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে। 


সুখের কথা বগুড়ায় করতোয়া নদী উদ্ধারে কিছু প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। একইভাবে রাজশাহীর বারনই নদী খননে প্রকল্প কাজ শুরু হবে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন যাতে কার্যকরভাবে হয় সে ব্যাপারে সবিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। অন্যান্য নদী পুনরুদ্ধারে অগ্রাধিকার প্রত্যাশিত। নদী বাঁচলে প্রাণ-প্রকারে গতি ফিরবে, স্বস্তি ফিরবে। জীববৈচিত্র ও কৃষি সুরক্ষিত হলে মানুষের বসবাস ও খাদ্যনিরাপত্তা সুরক্ষিত হবে।