মঙ্গলবার, জুন ২৩, ২০২৬

কুষ্টিয়ার মাজারে পীর হত্যা: মামলা করবে না পরিবার

সোনার দেশ ডেস্ক ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৪৫ অপরাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৪৫ অপরাহ্ন
কুষ্টিয়ার মাজারে পীর হত্যা: মামলা করবে না পরিবার

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে নিজের আস্তানায় পীর শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীরকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় পরিবার মামলা করবে না বলে জানিয়েছে।


ঘটনার দুদিন পর সোমবার নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান বলেন, “দেখুন বিদ্যমান বাস্তবতায় আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে সবাই বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, শামীম হত্যার ঘটনায় কোনো মামলা করব না। থানা থেকে পুলিশ এসে আমাদেরকে মামলা দিতে বলেছে, কিন্তু আমরা ঘটনার দৃশ্যপটে যা দেখেছি সেই কথাগুলিই পুলিশকে জানিয়েছি।


“আমার বয়স হয়েছে, এই মামলার পিছনে দৌড়ঝাপ করার শারীরিক শক্তি আমার নেই। তাছাড়া যে কয়দিন বেঁচে থাকি আমি আমার পরিবার-পরিজন নিয়ে শান্তিতে থাকতে চাই। মামলা করে এলাকার মানুষের সঙ্গে অশান্তি সৃষ্টি করতে চাই না।”


ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে শনিবার দুপুরে ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগরে ‘শামীম বাবার দরবার শরিফ’ নামে পরিচিত আস্তানায় শত শত লোক হামলা ও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় পিটিয়ে ও কুপিয়ে শামীম রেজাকে হত্যা করা হয়। হামলায় আরও তিন ভক্ত মহন আলী, জামিরুন ও জুবায়ের গুরুতর আহত হন। তারা চিকিৎসাধীন।


ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। রোববার দুপুরে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাদ আছর তাকে কবরস্থানে দাফন করা হয়।


সোমবারও সেখানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।


মামলার ব্যাপারে জানতে চাইলে মাজারের একজন ভক্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কার মামলা কে করবে? পুলিশ নিজেই যেখানে নিরাপদ নয়, মামলা দিব কার কাছে? বিচার দিয়েছি মহাবিচারকের দরবারে।”


তিনি বলেন, “ভক্তদের দাবি ছিল, বাবার (শামীম রেজা) অছিহত মতে, তার ওফাত হওয়ার পর দরবারের মধ্যেই সমাধি করার স্থান নির্ধারিত ছিল। সেটা বার বার আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি। কিন্তু প্রশাসন স্থানীয় হামলাকারীদের চাপে বাবার কবর দিল গোরস্থানে। কই পুলিশ পেরেছে ঠেকাতে? বরং পুলিশই পাহাড়া দিয়ে বাবার লাশ গোরস্থানে কবরস্থ করতে সাহায্য করেছে।”


তিনি বলেন, “আপনারা দেখেছেন, এখন গুরুজি শফি মণ্ডলের বাড়িতে কড়া পুলিশ পাহাড়া বসিয়েছে। কী লাভ হবে তাতে? পুলিশ যেভাবে বাবা শামীম রেজা জাহাঙ্গীরকে রক্ষা করতে পারেনি, একইভাবে এই উগ্র ধর্মান্ধ সন্ত্রাসীরা যদি ওখানেও হামলা করে, তাকেও রক্ষা করতে পারবে না। শুধু চেয়ে চেয়ে দেখে যাওয়া ছাড়া কিছুই করার নেই।”


মামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে দৌলতপুর থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, “পীর শামীম জাহাঙ্গীর হত্যার ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও মামলা হয়নি। আমরা অপেক্ষা করছি। মামলা না হওয়ায় ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারেও কোনো অভিযান চালায়নি পুলিশ। শেষ পর্যন্ত পরিবারে পক্ষ থেকে কেউ মামলা না করলে রাষ্ট্রীয় বিধিমতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে পুলিশ।”


তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ