পত্নীতলায় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ‘বাদাবন সংঘ’ ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটাচ্ছে
বাদাবন সংঘের উদ্যোগে এবং UNCCD G20 Global Land Initiative Restoration
Returns Grants-এর অর্থায়নে আদিবাসী নারী ক্ষমতায়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।
নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার প্রান্তিক আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে বাদাবন সংঘ। বিশেষ করে আদিবাসী ও ক্ষুদ্র নারী কৃষকদের উন্নয়ন, টেকসই কৃষি চর্চা এবং নারী ক্ষমতায়নে সংগঠনটির বহুমুখী কার্যক্রম ইতোমধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে।
জানা যায়, UNCCD G20 Global Land Initiative Restoration Returns Grants-এর অর্থায়নে উপজেলার পাটিচরা ইউনিয়নের কাশিপুর ও পত্নীতলা ইউনিয়নের শম্ভুপুর গ্রামে ৩৩ শতক করে মোট ৬৬ শতক জমি লিজ নিয়ে আদিবাসী নারী ক্ষুদ্র কৃষক দলকে চাষাবাদের আওতায় আনা হয়েছে। এই উদ্যোগ নারীদের জন্য শুধু কৃষিকাজে সম্পৃক্ততার সুযোগই তৈরি করেনি, বরং তাদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বীতার পথও সুগম করেছে।
সংগঠন সূত্রে জানা যায়, বাদাবন সংঘ Sustainable Land Management (SLM) প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষকদের পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পদ্ধতিতে চাষাবাদে উৎসাহিত করছে। জৈব সার ব্যবহার, মাটির উর্বরতা সংরক্ষণ এবং উন্নত পানি ব্যবস্থাপনার ফলে একদিকে যেমন ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে উৎপাদন খরচও কমছে।
নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে সংগঠনটির কার্যক্রম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রশিক্ষণ, মাঠপর্যায়ের সহায়তা এবং সচেতনতামূলক উদ্যোগের মাধ্যমে নারীদের কৃষি কাজে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হচ্ছে। ফলে অনেক নারী এখন আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন এবং পরিবার ও সমাজে সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
এছাড়া, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমি অধিকার ও মানবাধিকার রক্ষায়ও বাদাবন সংঘ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিভিন্ন সচেতনতা কার্যক্রম, পরামর্শ ও আইনি সহায়তার মাধ্যমে সংগঠনটি বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তি ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতেও তাদের ভূমিকা প্রশংসনীয়।
স্থানীয় সুফলভোগী নারী সোনালী কুজুর (২৭) ‘সোনার দেশ’কে জানান, “আগে আমরা প্রচলিত পদ্ধতিতে চাষ করতাম। এখন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদন বেড়েছে, খরচ কমেছে। এতে আমাদের জীবনযাত্রার মান অনেকটাই উন্নত হয়েছে।”
বাদাবন সংঘ এর পত্নীতলা উপজেলা অফিসের ফিল্ড এক্সপার্ট ইলিয়াস মূর্মূ ‘সোনার দেশ’কে বলেন, “সব মিলিয়ে, বাদাবন সংঘের এই উদ্যোগ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর টেকসই উন্নয়ন এবং নারী ক্ষমতায়নে একটি কার্যকর মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।”