মঙ্গলবার, জুন ২৩, ২০২৬

বদলগাছী ছোট যমুনা নদীতে অবৈধভাবে মাটি বালু কাটায় থানায় মামলা, একজন গ্রেপ্তার

বদলগাছী প্রতিনিধি ০৪ মে ২০২৬ ১১:০৭ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
বদলগাছী প্রতিনিধি ০৪ মে ২০২৬ ১১:০৭ অপরাহ্ন
বদলগাছী ছোট যমুনা নদীতে অবৈধভাবে মাটি বালু কাটায় থানায় মামলা, একজন গ্রেপ্তার

নওগাঁর বদলগাছী ছোট যমুনা নদী অবৈধভাবে বেপরোয়া মাটি ও বালু কর্তন করে রাস্তাঘাট, ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়ায় মাটি ও বালু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছে মিঠাপুর , মথুরাপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো, রাসেল হোসেন। নদীর বুকে বালু নেই। ছোট যমুনা নদীতে আর বালু আসে না। তবুও অবৈধভাবে মাটি বালু কাটা বন্ধ থাকে না। 


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নদীতে বালু না থাকায় ২০২২ সালে নওগাঁ জেলা মাটি ও বালু মহাল লীজ প্রদান কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ছোট যমুনা নদীর লীজ স্থগিত করা হয়। তার পর থেকে ছোট যমুনা নদী লীজ বন্ধ আছে। তবু নদীর বালু শূন্য বুক যেন বালুখেকোদের করাল গ্রাসে। বদলগাছীর নালুকাবাড়ী ও মানপুর আশ্রয়ণ প্রকল্প সংলগ্ন নদীর বুক চিরে দিনের আলোয়, আবার রাতের অন্ধকারে নির্বিঘ্নে চলছে অবৈধ বালু লুট। বর্ষা মৌসুমে যেকোনো মুহূর্তে নদীগর্ভে তলিয়ে যেতে পারে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি এবং শতাধিক পরিবারের স্বপ্ন।


তথ্য সংগ্রহকালে দেখা যায়, ছোট যমুনা নদীর নালুকাবাড়ী ও মানপুর আশ্রয়ন প্রকল্পের দুই পয়েন্টে যেন বসেছে বালুর কালোবাজার। ট্রাক্টরের অবিরাম যাতায়াত আর নদীর পাড়জুড়ে বালুর বিশাল স্তুপ,সব মিলিয়ে পুরো এলাকা পরিণত হয়েছে অবৈধ বাণিজ্যের অভয়ারণ্যে। ইজারা নেই, অনুমতি নেই, তবুও প্রকাশ্যে চলছে বালু বিক্রি। স্থানীয়দের ভাষ্য, এর নেপথ্যে রয়েছে প্রভাবশালী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর ছত্রচ্ছায়া।


দীর্ঘ দেড় বছর ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় এই লুটপাট চললেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। ফলে আগামী বর্ষা মৌসুমে নদীর তীর ভেঙে ক্রমেই এগিয়ে আসছে বিপদ। ইতোমধ্যে নালুকাবাড়ী ও মানপুর আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছেন বাসিন্দারা।


স্থানীয় মুকুল নামে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,"আমরা গরিব মানুষ। সরকার মাথা গোঁজার ঠাঁই দিয়েছে। এখন বালুখেকোদের কারণে সেই ঘরটুকুও হারানোর ভয় করছে।"


শুধু আশ্রয়ণ প্রকল্পই নয়, হুমকির মুখে পড়েছে নদীর তিরবর্তী বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। প্রতিদিন বিলীন হচ্ছে ফসলি জমির অংশ। কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও গভীর হচ্ছে।


স্থানীয় একজন কৃষক হানিফ বলেন,“মিজান, দেলোয়ার,সুমন, হিরো নামে কয়েকজন ইসবপুর ওয়াড ও ইউনিয়ন বিএনপি নেতারা গত দেড় বছর থেকে অবৈধভাবে বালু তুলে বিক্রি করছে। আমি বাঁধা দিয়েছিলাম,আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে। পরে আমি সহ কয়েকজন ফসল রক্ষার জন্য কিছু জায়গা বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে দিয়েছি। সরকার ইজারা দেয়নি। তারা ক্ষমতার জোড়ে এসব করছে। বিষয়টি বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে প্রশাসনের টনক নড়ে।


অবশেষে অবৈধ মাটি বালু কাটা বন্ধে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এর ১৫(১) ধারা অনুযায়ী গত ২৯ এপ্রিল ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা রাসেল হোসেন বাদী হয়ে ৫ জনকে আসামী করে বদলগাছী থানায় মামলা দায়ের করলে থানা নাহিদ নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরণ করে। জানতে চাইলে থানা অফিসার ইনচার্জ মো, রুহুল আমিন বলেন একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অন্যদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে।