মঙ্গলবার, জুন ২৩, ২০২৬

রাজশাহীতে জলবায়ু সহনশীল খাদ্য ব্যবস্থা নিয়ে আঞ্চলিক সংলাপ অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক ১১ মে ২০২৬ ১১:১২ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ১১ মে ২০২৬ ১১:১২ অপরাহ্ন
রাজশাহীতে জলবায়ু সহনশীল খাদ্য ব্যবস্থা নিয়ে আঞ্চলিক সংলাপ অনুষ্ঠিত

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং টেকসই খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কৃষিপ্রতিবেশ চর্চা বৃদ্ধির পাশাপাশি জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন বক্তারা। তারা বলেছেন, আঞ্চলিক বাস্তবতা ও কৃষকের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব না দিয়ে কোনো নীতি কার্যকর হবে না।


সোমবার (১১ মে) রাজশাহীর এস.কে ফুড সেমিনার হলে “বাংলাদেশে জলবায়ু সহনশীল খাদ্য ব্যবস্থা বিষয়ক আঞ্চলিক সংলাপ: এগ্রোইকোলজি দেখাচ্ছে নতুন পথ” শীর্ষক এক আঞ্চলিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের আয়োজনে এবং রোজা লাক্সেমবার্গ স্টিফটুং সাউথ এশিয়ার সহযোগিতায় আয়োজিত এ সংলাপে কৃষক, গবেষক, উন্নয়নকর্মী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন পেশাজীবীরা অংশ নেন।


সংলাপে বরেন্দ্র অঞ্চলের পানি সংকট, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, কৃষিতে রাসায়নিক নির্ভরতা, দেশি বীজ সংরক্ষণ, নারী কৃষকের ভূমিকা এবং এগ্রোইকোলজিভিত্তিক খাদ্য ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় জ্ঞান, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, কম খরচের কৃষি এবং কৃষকের নিয়ন্ত্রণভিত্তিক খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। এগ্রোইকোলজি শুধু একটি কৃষি পদ্ধতি নয়, এটি পরিবেশগত ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার কার্যকর উপায়।


সংলাপের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বারসিকের পরিচালক সিলভানুস লামিন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শাহেদা পূর্ণ। এ সময় কৃষিপ্রতিবেশ সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা করেন বারসিকের পলিসি অ্যান্ড রিসার্চ অফিসার আম্রিণ বিনতে আজাদ।


গ্রিন কোয়ালিশনের রাজশাহী জেলার সভাপতি ও নদী পরিবেশ গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চল একটি সমৃদ্ধ অঞ্চল। এখানে পানিনির্ভর ধান চাষের পরিবর্তে রবিশস্যের চাষ বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, কৃষিপ্রতিবেশ ঠিক রাখতে হলে পরিবেশ ধ্বংস বন্ধ করতে হবে।


পবা উপজেলার কাড়িগড় পাড়ার কৃষাণী রেনুকা বেগম বলেন, কৃষিতে নারীকে নিয়ে অনেক কথা হলেও তাদের যথাযথ মূল্যায়ন ও মর্যাদা দেওয়া হয় না। তিনি কৃষি নীতিতে নারীদের জন্য আলাদা বরাদ্দ রাখার দাবি জানান।


বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি আতিকুর রহমান বলেন, কৃষিপ্রতিবেশ বিষয়ক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পাঠ্যপুস্তকে এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্য ও পরিবেশ সুরক্ষা ছাড়া কোনো জাতি এগিয়ে যেতে পারে না।


সংলাপে আরও বক্তব্য দেন গ্রিন কোয়ালিশন রাজশাহী মহানগরের আহ্বায়ক জামাল কাদেরী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক অভিজিৎ রয় এবং বরেন্দ্র কৃষক বীজ ব্যাংকের সভাপতি জায়দুর রহমানসহ অনেকে।


সমাপনী বক্তব্যে বারসিকের বরেন্দ্র অঞ্চল সমন্বয়কারী মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, উন্নয়নের নামে পরিবেশ ও প্রাণপ্রতিবেশ ধ্বংস হওয়ায় কৃষিপ্রতিবেশ চর্চা সংকটের মুখে পড়ছে। তিনি বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের পানিসংকট নিরসনে যেসব আইন করা হয়েছে, তার অনেকগুলোই কৃষকবান্ধব নয় এবং অঞ্চলের ভৌগোলিক ও ঐতিহ্যগত বাস্তবতাকে যথাযথভাবে গুরুত্ব দেয় না। আইন ও নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে কৃষকের মতামত ও আঞ্চলিক বাস্তবতাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।