জ্যৈষ্ঠের প্রথম দিনে আম নামানো শুরু, মৌসুমে আম বাণিজ্য হবে ৭৮০ কোটি টাকা
রাজশাহীতে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে গুটি জাতের আম নামানো। আম নামানোর পর থেকে শুরু হবে বাজারজাতকরণ। জ্যৈষ্ঠ মাসের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে বাগানগুলোতে শুরু হয়েছে আম সংগ্রহ কার্যক্রম। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আম সংগ্রহ, বাছাই এবং বাজারজাতকরণের কাজে ব্যস্ত সময় পার করবেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় বাজারগুলোতে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন জাতের কাঁচা বিক্রি হতো। এখন পাওয়া যাবে পাকা আমও। তবে এখন শুধু পাওয়া যাবে গুটি জাতের আম। কিছুদিন পর থেকে বিভিন্ন জাতের আম বাজারে আসবে।
জেলা প্রশাসন ঘোষিত ‘ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার’ অনুযায়ী শুক্রবার (১৫ মে) সকাল থেকে গুটি আম নামাতে শুরু করেছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। এর মধ্য দিয়ে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ আম উৎপাদন এলাকা রাজশাহীতে জমে উঠতে শুরু করেছে আমের মৌসুম।
শুক্রবার (১৫ মে) সকালে নগরীর পবা উপজেলার কুখন্ডী ও বুধপাড়া এলাকায় সীমিত পরিসরে আম পাড়ছেন চাষিরা। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, অধিকাংশ বাগানের গুটি আম এখনও পুরোপুরি পরিপক্ব হয়নি। আরও কয়েকদিন পর পুরোদমে আম সংগ্রহ শুরু হবে। রাজশাহীর বড় আমের বাজার বানেশ্বর হাটেও কিছু আম কেনাবেচা হয়। শুরুর দিন জাত ও আকারভেদে ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা মণ দরে আম বিক্রি হয়।
আম ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত সময় মেনেই গুটি আম সংগ্রহ করা হচ্ছে। শনিবারের বানেশ্বর হাটে বিক্রির জন্য কিছু আম নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে মৌসুমের প্রথম দিন হওয়ায় খুব বেশি আম পাড়া হচ্ছে না। আমও সেভাবে পরিপক্ক হয়নি। এই আম পাকতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে।
আমচাষি আরিফুল ইসলাম জানান, কয়েকটি গাছে আম নামানো শুরু করেছি। এগুলো নিজেই বাজারে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করি। তবে গুটি আম সুস্বাদু না। মানুষের চাহিদা বেশি গোপালভোগ ও হিমসাগরে। এই আমগুলোতে নামাতে আরও সময় লাগবে। যে আমগুলো পাড়া হচ্ছে এগুলো বাজারে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করা হবে।
রেজাউল করিম নামে আরেক চাষি জানান, এখন শুধু গুটি জাতের আম নামানো হচ্ছে। এখনো সেভাবে আম পাড়া হবে না। কয়েকদিন পরে বেশি করে আম পাড়া হবে। আজই প্রথম এই মৌসুমে আম পাড়া শুরু করা হলো। হাটে বাজারে নিয়ে যাওয়ার পরে বোঝা যাবে কত দামে কেনা-বেচা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন কর্তৃক অপরিপক্ব আম বাজারজাত বন্ধ ও আমের গুণগত মান নিশ্চিত করতে ক্যালেন্ডার ঘোষণা করেছে। ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২২ মে থেকে গোপালভোগ, ২৫ মে থেকে রানীপছন্দ ও লক্ষণভোগ এবং ৩০ মে থেকে হিমসাগর ও খিরসাপাত সংগ্রহ করা যাবে। এছাড়া ১০ জুন থেকে ল্যাংড়া ও বানানা ম্যাঙ্গো, ১৫ জুন থেকে আম্রপালি ও ফজলি বাজারজাতের অনুমতি মিলবে। পরে ৫ জুলাই থেকে বারি আম-৪, ১০ জুলাই আশ্বিনা এবং ১৫ জুলাই গৌড়মতি সংগ্রহ করা যাবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে রাজশাহী জেলায় ১৯ হাজার ৬৩ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। এ বছর প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯৩ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য ৭৮০ কোটি টাকারও বেশি।
কৃষি কর্মকর্তারা আশা করছেন, অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে এ বছর আমের উৎপাদন ও গুণগত মান দুটোই ভালো হবে। একই সঙ্গে প্রশাসনের তদারকির কারণে ভোক্তারা নিরাপদ ও পরিপক্ব আম পাবেন।